মঙ্গলবার  ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং  |   মঙ্গলবার  ১১ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

এইমাএ পাওয়া

৩৫তম বিসিএস (পররাস্ট্র) এ প্রথম স্থান অধিকারী ফরিদপুরের গর্ভ ওয়ারিসুল ইসলামের সাক্ষাৎকার

আগস্ট ৩০, ২০১৬

ওয়ারিসুল ইসলাম

।।বিপ্লব কুমার দাস (শাওন) / ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি ।।

বিসিএস প্রিপারেশন এর প্রেক্ষাপট নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন ৩৫তম বিসিএস(পররাস্ট্র) এ প্রথম স্থান অধিকারী ওয়ারিসুল ইসলাম। এনজয়, হ্যাভ ফান জীবনদর্শনে বিশ্বাসী ওয়ারিসুল ইসলাম তার অসামান্য দক্ষতার পরিচয় দিয়ে বর্তমানে আলোচনার তুঙ্গে। ওয়ারিসুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন থেকে বিবিএ করে নেসলে, এর মত প্রথম সারির কর্পোরেট এবং ডেভলপমেন্ট সেক্টর এ নিজের কর্মদক্ষতা দেখিয়েছেন। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন থেকে মাস্টার্স অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অধ্যয়ন করছেন।অসামান্য মেধার অধিকারী, ওয়ারিসুল ইসলাম মুখোমুখি হয়েছেন আমাদের প্রতিবেদকের সাথে । কথা বলেছেন ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, বিসিএস এবং সমসাময়িক বিষয়গুলো নিয়ে।

প্রতিবেদকঃ প্রথমেই জানতে চাচ্ছি আপনি কেমন আছেন?

ওয়ারিসুলইসলামঃ জ্বি, ভালো আছি।আলহামদুলিল্লাহ।

প্রতিবেদকঃ রেজাল্ট পাওয়ার পর আপনার অনুভূতি সম্পর্কে কিছু বলেন।

ওয়ারিসুলইসলামঃ রেজাল্ট পাওয়ার পর অনেক এক্সইটেড ছিলাম। অনুভূতি আলহামদুলিল্লাহ্ অনেক ভালো।

প্রতিবেদকঃ আপনার ছোটবেলা কোথায়, কেমন কেটেছে এ সম্পর্কে কিছু বলেন।

ওয়ারিসুলইসলামঃ মূলত আমার ছোটবেলা কেটেছে ফরিদপুর শহরে। আমার স্কুল ফরিদপুর জিলা স্কুল। এর আগে ব্যাপ্টিস্ট চার্চ স্কুলে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার শুরু, যেটা নিঃসন্দেহে ফরিদপুরের বেস্ট স্কুল ছিল। আর স্বপ্নের শুরুটাও ছিল ওখান থেকেই, শিক্ষকদের অনুপ্রেরণায় অন্যরকম স্বপ্ন দেখা, ডিবেট, রচনা প্রতিযোগিতা, মোটের উপর নিজেকে আবিষ্কার করার যে প্রয়াস, সবকিছুর শুরু অখান থেকেই।

প্রতিবেদকঃ সাধারনত দেখা যায় আইবিএ থেকে পড়ার পর মানুষ কর্পোরেট সেক্টরে যায়, আপনি বিসিএস এ কেন?

ওয়ারিসুলইসলামঃ আসলে এই ট্রেন্ডটা এখন চেঞ্জ হচ্ছে। গভর্নমেন্ট জবে আইবিএর স্টুডেন্টরা যে নেই তা কিন্তু না। বিগত ৫/৭ বছরে এই ধারাটা আরও বদলেছে।বিসিএস নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের সবচেয়ে গ্ল্যামারাস জব; আর সবচেয়ে বড় কথা হল বিসিএস সেক্টর থেকে দেশের জন্য যেভাবে কাজ করা যাবে আর অন্য কথাও অতটা পাওয়া যাবে না।

প্রতিবেদকঃ বিসিএস এর জন্য কিভাবে প্রিপারেশন নিয়েছেন?

ওয়ারিসুলইসলামঃ প্রথমত বিবিএ শেষ করে ফুল টাইম চাকরি করতাম, এমবিএর ও ক্লাস থাকত সপ্তাহে চার দিন, এভাবে অফিস করে, ক্লাস করে সত্যি কথা বলতে ওরকমভাবে প্রিপারেশন নেয়ার টাইম পাইনি। অফিস, ক্লাস এর ফাঁকে নেট এ পরতাম, আসলে পুরো ব্যপারটা ছিল একটা শর্টকাট কিন্তু গঠনমূলক পদ্ধতিতে।

প্রতিবেদকঃ ভাইভা এবং রিটেন নিয়ে যদি কিছু বলতেন।

ওয়ারিসুলইসলামঃ পড়াশুনা করতে হবে। এর চেয়ে ভাল কিছু আসলে নেই। কিন্তু তার মানে এই না যে মুখস্থ করতে হবে। রিটেন অথবা ভাইভার জন্য পৃথিবী সম্পর্কে, বাংলাদেশ সম্পরকে, চারিদিকে কি হচ্ছে সে সম্পরকে ভাল আইডিআ থাকতে হবে। একটু চোখ কান খোলা রাখা, সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলা এইতো।আর ভাইভার জন্য বেসিক ভাল থাকতে হবে। বিভিন্ন ক্লাব, ডিবেটিং, কমিউনিকেশন স্কিল এগুলো ভাইভার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া প্রতিদিন অন্তত একটা নিউজ দেখার অভ্যাস থাকলে ভাল হয়।

প্রতিবেদকঃ পড়াশুনার পাশাপাশি নন-ফিকশন কিংবা বাইরের বই পড়ার ক্ষেত্রে আপনার মতামত কি?

ওয়ারিসুলইসলামঃ বাইরের বই আমি খুব কমই পড়েছি। পড়াশুনার ব্যাপারে আমি একটু ফাঁকিবাজ। জীবনে মোটামুটি দুইটা বই পরছি “হাজার বছর ধরে” আর “পদ্মা নদীর মাঝি”। সেটা ও একাডেমিক সিলেবাস এর খাতিরে।আর মুভির ক্ষেত্রে আমার সাধারনত কমেডি মুভি পছন্দ।

প্রতিবেদকঃ আপনার আইডল কে? ওয়ারিসুলইসলামঃ আমার আইডল হচ্ছেন আমার কাজিন নাফিস ভাই। উনিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর আইবিএ থেকে পড়েছেন। বর্তমানে একটি মালটিন্যাশনাল কোম্পানিতে জব করেন।

প্রতিবেদকঃ আপনার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের কিছু মজার স্মৃতি আমাদের সাথে যদি শেয়ার করতেন।

ওয়ারিসুলইসলামঃ আসলে ওইভাবে চিন্তা করলে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে মজার স্মৃতি অনেক। তার মধ্যে ক্যান্টিনে বসে কার্ড খেলা, পরীক্ষা খারাপ হলে পুরান ঢাকায় সেলিব্রেট করতে যাওয়া, আর এছাড়া হোস্টেল লাইফে অনেক মজা করছি।
প্রতিবেদকঃ আপনার কাছে সাফল্যের সংজ্ঞা কি? ওয়ারিসুলইসলামঃ নিশ্চিন্ত ঘুম। আমার কাছে সাফল্যের সংজ্ঞা নিশ্চিন্ত ঘুম।

প্রতিবেদকঃ আপানার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?ওয়ারিসুলইসলামঃ আপাতত জয়েন করব ইনশাআল্লাহ্। এরপর ইচ্ছা আছে বাংলাদেশের বাইরে যারা কাজ করছেন তাদের জন্য কিছু করা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তুলে ধরা; সর্বোপরি বাইরের বিশ্বে বাংলাদেশকে তুলে ধরা। আমরা বাংলাদেশ কখনো মাথা নত করি না, এই মরমে কাজ করা।

প্রতিবেদকঃ সাধারনত দেখা যায় ক্যাডার হওয়ার পর দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যাবহারের একটা প্রবনতা সৃষ্টি হয়, এক্ষেত্রে আপনার বক্তব্য কি?

ওয়ারিসুলইসলামঃ ভাল খারাপ সব জায়গায় ই আছে। আমার পরিচিত এমন অনেকজন আছেন যারা কর্মজীবন অনেক সৎ। আসলে যেকোন কিছুর ক্ষেত্রে ভাল দিকটাতে ফোকাস করতে হবে। আমাদের মধ্যা পজিটিভিটি আনতে হবে। গতানুগতিক চিন্তায়, কাজে পরিবর্তন আনতে হবে। আমরাই আনবো।

প্রতিবেদকঃ যারা বিসিএস দিতে চান বা বিসিএস এ ভাল কিছু করতে চান তাদের জন্য কিছু বলেন।

ওয়ারিসুলইসলামঃ ব্যাক্তিবিশেষে নিজেদেরকে পারটিকুলারলি এনালাইজ করতে হবে। উইকনেস, স্ট্রেংথ এর যায়গাগুলো খুঁজে বেড় করে একটা গেম প্ল্যান করে ওই অনুযায়ী একটু একটু করে আগাতে হবে।অনেক সময় নেটওয়ার্কিং, কমইউনিকেশন স্কিল অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সর্বোপরি একটি দেশ পরিচালনা করার মত যোগ্যতা নিজের মধ্যে থাকতে হবে।
মঙ্গলবার/৩০শে আগস্ট-২০১৬ ইং/১৫ই ভাদ্র-১৪২৩ বঙ্গাব্দ