বুধবার  ২৫শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং  |   বুধবার  ১২ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

এইমাএ পাওয়া

সুন্দরবন ধ্বংসের মূল কারনঃমন্তব্য প্রতিবেদন

জুন ২২, ২০১৬

সুন্দরবন

বিশ্বের সর্বাধিক একক লবনাক্ত জলাভূমি , আমাদের দেশেরও একক বনভূমি হিসেবে প্রথম; জাতীয় বন সুন্দরবন। এ বনকে ইউনেস্কো ১৯৯৭ সালে বিশ্ব ঐতিহ্য ঘোষণা করেন। সুন্দরবনের সৌন্দয্য, আকৃতি -প্রকৃতি অবস্থান, জীব-বৈচিত্র্য কম-বেশি সবাই জানি। তাই সেদিকে না গিয়ে সুন্দরবন ধ্বংসের মূল কারণ তুলে ধরছি; যা সুন্দরবনের প্রকৃতিতে বেড়ে ওঠার সুবাদে ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি। প্রথমত সমস্যা হল দ্রুতগামী জলযান নেই ফরেষ্ট অফিসে, ভাঙাচুরা যা আছে তা দেখলে মনে হয় ব্রিটিশ অথবা পাকিস্তানি আমলের! এই দিয়ে কি জলদস্যু -বনদস্যু, গাছ চোর, মাছ চোরসহ ভারতীয় বিমান মার্কা জলযান ধরা কি সম্ভব ? ফরেষ্ট অফিস থেকে পর্যাপ্ত পরিমানের তেল সরবরাহ করা হয় না। ফলে কিছু দূর গেলে জলযানের আয়ু প্রাকৃতিকভাবেই কমে যায় ! তখন কি নদীর নোনাজল ব্যবহার করে কূলে ফিরবে ? তারপর যদিওবা অপরাধী ধরা পড়ে অপরাধীকে চালান কালে এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্যদান কালে যাতায়াতসহ অফিস থেকে কোনো খরচ বহণ করা হয় না। তাহলে কে আসামী ধরবে ? আর কে সাক্ষী দিতে যাবে নিজ খরচে ? তার চেয়ে ২/৪ শত টাকার বিনিময়ে আসামী ছেড়ে দেওয়াই ভালো! নিজের পকেটের টাকা থেকে খরচ করা ও ঝামেলা থেকে বাঁচা গেল ! যদি অপরাধীর কোনো টাকা-পয়সা না দেওয়ার ক্ষমতা থাকে তবে উল্টো আসামীকে আপ্যায়ন করে বাড়ি পাঠানো তাতেও লস নেই! আর এ কারনেই বন মামলা কমে যাচ্ছে দিন-দিন। ২০১১ সালে বাংলাদেশের সংবিধানে ১৮(ক) অনুচ্ছেদ সংযোজিত হয়। তাতে বলা হয়- রাষ্ট্র বর্তমান ও ভবিষ্যত নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করিবেন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ, জীব-বৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন ও বন্যপ্রাণির সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান করিবেন। ধারাটি বাংলাদেশের সংবিধান ও সরকারি খাতা-কাগজের মধ্যেই কি শুধু সীমাবদ্ধ? ২১মার্চ এলে আন্তর্জাতিক বন দিবস, ২৯ জুলাই বিশ্ব বাঘ দিবস, ৪ই ডিসেম্বর বন্যপ্রাণি সংরক্ষন, ইত্যাদি দিবস ঘরোয়াভাবে উদ্যাপন করা হয়! সেদিন গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে শোনা যায় বনসংক্রান্ত সকল সমস্যা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে বলেই কি দায়-দায়িত্ব শেষ ? আসলেই কতটুকু খতিয়ে দেখা হয় ? রাষ্ট্রীয় লোক হয়ে রাষ্ট্রের ১২টা বাজানো ছাড়া আর কি ? স্থানীয় জনগণ এফ. জি. (ফরেষ্ট গার্ড)সহ গোপন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এ.সি.এফ. (সরকারি বন সংরক্ষক) ও ডি.এফ.ও (বিভাগীয় বন কর্মকর্তা) দেরই মূলত দায়ী করেন। পরিশেষে বিশ্ব ঐতিহ্য, আমাদের গর্ব সুন্দরবনকে যথাযথভাবে সংরক্ষণের জন্য মাননীয় পরিবেশ ও বনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করছি।

ফকির আব্দুল্লাহ আল ইসলাম,বাগেরহাট- ২২শে জুন, ২০১৬ ইং