বৃহস্পতিবার  ২৬শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং  |   বৃহস্পতিবার  ১৩ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

এইমাএ পাওয়া

সাখাওয়াতের ফাঁসির রায়ে যশোরবাসীর সন্তোষ

আগস্ট ১১, ২০১৬

যশোর

এ এম রাকিব/
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মাওলানা সাখাওয়াতের মৃত্যুদণ্ডাদেশ হওয়ায় যশোরের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন তারা। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ যশোর জেলা কমান্ডের কমান্ডার রাজেক আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে রাজাকার, যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিচার দাবি ছিল আমাদের অন্যতম চাওয়া। সাখাওয়াতের মৃত্যুদণ্ডাদেশে মুক্তিযোদ্ধারা যারপরনাই আনন্দিত।

ডেপুটি কমান্ডার ও ইনিস্টিউশন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারস্ অব বাংলাদেশের (আইডিইবি) যশোর জেলা শাখার সভাপতি আবুল হোসেন জানান, যশোর অঞ্চলের কুখ্যাত রাজাকার সাখাওয়াতের ফাঁসি হওয়ায় অনেকদিন পরে হলেও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মা শান্তিতে ঘুমাবে। নির্যাতিতরা খুশি হয়েছে। এখন ফাঁসির রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছি।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার ওয়াদা ছিলো- জনগণ আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় পাঠালে তিনি রাজাকার, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আওতায় আনবেন। তারই ধারাবাহিকতায় কুখ্যাত রাজাকার সাখাওয়াতের সাজা হলো। এতে আমরা খুশি।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সভাপতি ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, এ রায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়ারই অংশ, ওয়ার্কার্স পার্টিসহ বাম ও গণতান্ত্রিক দল এবং সাধারণ মানুষের আন্দোলনের ফসল। এ রায়ে জনগণের আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটেছে।

গণজাগরণ মঞ্চ যশোরের আহ্বায়ক ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নেতা অ্যাডভোকেট কাজী আব্দুস শহীদ লাল বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে যশোরবাসী কলঙ্কমুক্ত হয়েছে।

জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শরিফুল ইসলাম সরু চৌধুরী বলেন, মাওলানা সাখাওয়াত একসময় জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন। পরে তাকে দল থেকে বের করে দেয়া হয়। তিনি আমাদের কেউ নন। আদালতের দেয়া
রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।

জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার আলম খান দুলু বলেন, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, গণজাগরণ মঞ্চসহ সংস্কৃতিমনা সকলের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের সফলতা এ রায়। আদালত সাখাওয়াতের অপরাধের উপযুক্ত শাস্তি দিয়েছেন বলে আমি মনে করি।

রায়ে সন্তাষ প্রকাশ করেছেন কেশবপুরের বাসিন্দা ও যশোরের পাবলিকপ্রসিকিউটর রফিকুল ইসলাম পিটু। তিনি বলেন, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল সাখাওয়াতের বিচার। ওই এলাকার মানুষ হিসেবে এ রায়ে আমি অত্যন্ত খুশি। আমি মনে করি, এলাকার সাধারণ মানুষ সঠিক বিচার পেয়েছে।

তবে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু সন্তোষ বা অসন্তোষ কোনোটাই প্রকাশ করেননি। বরং তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যাশা ছিল বিচার প্রক্রিয়াটি আন্তর্জাতিক মানের ও নিরপেক্ষ হবে। কিন্তু সে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। ফলে এ রায়ের ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না।
যশোর প্রতিনিধি/ ১১ই আগস্ট, ২০১৬ ইং