বৃহস্পতিবার  ২৬শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং  |   বৃহস্পতিবার  ১৩ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

এইমাএ পাওয়া

“শিশু নাতি দুইডারে দুই হাত দিয়া উচা কইরা রাইখা রাত কাটাইছি,কেও আমাগো ডাক শুনে নাই।“

আগস্ট ৫, ২০১৬

বেড়িবাঁধের ভিতর এলাকার ৬ গ্রামে পানিবন্দি

বিপ্লব কুমার দাস (শাওন)/ 

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়নের মধুফকিরের ড্ঙ্গাী বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধের ভিতর এলাকার ৬ গ্রামে পানিবন্দি পরিবাররের সংখ্যা বাড়ছে। যদিও পদ্মা নদীর পানি কমতে শুরু করলেও বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ এলাকায় বন্যার পানিতে ডুবে যাচ্ছে একের পর এক পরিবার। তারা গরু ছাগল পরিবার পরিজন নিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে বেড়িবাঁধে। বন্যা কবলিত দুস্থ পরিবারের পাশাপাশি এলাকার অনেক স্বচ্ছল পরিবার বেড়িবাঁধ বিধ্বস্ত অতিরিক্ত পানিতে বাড়ীঘর ডুবে যাওয়ায় তারাও একই স্থানে আশ্রয় নিয়ে চলেছেন। বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধের পানির চাপে বাড়ীঘর ছেড়েই চলেছেন এলাকাবাসী।

বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধের আশপাশের জয়দেব সরকারের ডাঙ্গী গ্রাম, চরহোসেনপুর, চরঅমরাপুর, বেপারী ডাঙ্গী ও খালাসী ডাঙ্গী ও ঢালার পাড় নামক গ্রামগুলোতে বসতবাড়ী ছাড়ছে শত শত পরিবার।

মঙ্গলবার দুপুর ১ টায় কিছু পরিবার পরিজন নিয়ে বেড়িবাঁধে উঠে আসা ছবেদ মৃধার স্ত্রী সোনাই বিবি (৬০) অঝোরে কাঁদতে কাঁদগতে বলে ওঠে, “ সোমবার দিনগত রাইত ৩ টার দিকে ঘুম ভাঙ্গলে দেহি ঘরের মধ্যে হাটু পানি, উঠান দিয়া স্রোত যাইতাছে, বাড়ীর সব মালামাল স্রোত ভাইস্যা যাচ্ছে, ডাক চিৎকার দিতে দিতে বাড়ীতে পানি খালি বাড়াতেই থকলো, কেও আমাগো ডাক শুনে নাই। কোনো দিশা না পাইয়া খাবলাম মাল যায় যাক, শিশু নাতি দুইডারে দুই হাত দিয়া উচা কইরা রাইখা রাত কাটাইছি। দুপুর পর্যন্ত না খাইয়া আছিলাম। কোনো চেয়ারম্যান মেম্বার কেউ আমাগো খবর নেয় নাই। পরে চরভদ্রাসন উপজেলা সদরের বালিয়া ডাঙ্গী গ্রামে বাপের বাড়ীতে ফোন করছি, সেখান থেকে ভাই মওলা মুন্সি আর ভাবী জমিলা আইসা আমাগো বেড়িবাঁধে উদ্ধার করছে, তারা ভাত লইয়্যা আইছে, তাই খাইছি”।

বেড়িবাঁধে আরেক আশ্রীত ভ্যান চালক মিন্টু মিয়া (৪০) জানায়, সোমবার রাইত ৮টার দিকে বাড়ীর ভিটের প্রায় এক ফিট ডনচে পানি ছিল, রাইত আড়াটায় উঠে দেখি, ঘরের মধ্যে দিয়ে কাটাল যাচ্ছে। ফলে ওই রাতেই পুলাডা লইয়া বেড়িবাঁধে আইস্যা কোনো মতে রাইকত কাটাইছি।

দিনে বাড়ীর একচালা খুইল্যা আইন্যা বেড়িবাঁধে চাল দিছি আর পলেথিন দিয়া ঘিরে বৌ পুলাপান লইয়া দিন কাটাইতাছি”। সে আরও জানায়, বেড়িবাঁধে ওঠার পর কোনো চেয়ারম্যান মেম্বাররা আমাগো খবর লয় নাই, তবে শুধু অফিসের এক লোক আইস্যা আমার নাম ঠিকানা নিছে, কাল পর্যন্ত রিলিপ পাইতে পারি”।
ফরিদপুর প্রতিনিধি/৫ই আগস্ট, ২০১৬ ইং