বুধবার  ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং  |   বুধবার  ৫ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

এইমাএ পাওয়া

শাহানাজ সুলতানার উপন্যাস-সবুজ বাংলা চাই (পর্ব-১৩)

আগস্ট ২০, ২০১৬

সবুজ বাংলা চাই

জামাল মির্জা- হ্যাঁ।

-মিথ্যা মিথ্যা মিথ্যা জামাল মির্জা তুমি মিথ্যা বলছো।

চেয়ারটা দুলতে থাকে, জানালার পর্দা উড়ছে ভয়ে জামাল মির্জার আত্মা শুখিয়ে আসছে যেন। বিড়বিড় করে বলে ওঠে চেয়ারটা অমন দুলছে কেন? জানালার পর্দাও উড়ছে এসব হচ্ছেটা কি।অনেক কশষ্টে বুকে সাহস সঞ্চয় করে বলে কে , কে ওখানে? কে তুমি? সামনে এসো, কথা বলছ অথচ সামনে আসছ না। মিছে আমার কেন ভয় দাও আমায়?

হা হা হা জামাল মির্জা কি ব্যাপার তুমি ও ভয় পাও? তোমার বড় মেয়ে বীণা কোথায় মির্জা? তুমি তো আজই বিদেশ থেকে এলে। তোমার মেয়ের সাথে কি তোমার দেখা হয়েছে মির্জা?

-না হয়নি।

তুমি তো ওর বাবা তাই না? মেয়ে কে এসে বাসায় পাওনি কোথায় আছে মেয়ে একটি বারের জন্য কি খোঁজ নিয়েছ? কোনো বিপদ হলো কি না। কি হবে তোমার এই পতি-পত্তি মির্জা। যদি তোমার মেয়েরাই না থাকে? তোমার বিন্তী কোথায় মির্জা? বেশ তো আছ তোমার বট গাছ কাটা নিয়ে ওই মাঠটা দখল করে সেখানে বিশাল ইন্ডাস্ট্রি বানানোর পতিকল্পনা নিয়ে রাতের ঘুম হারাম করছ। তোমার দিন শেষ হয়ে এসেছে মির্জা।

আরে কে তুমি সামনে কেন আসছ না। কেন লুকোচুরি খেলছ?

রমজানে রাস্তা দিয়ে হাঁটে থাকে আর ভাবতে থাকে কি হয়ছে বড়ি। মায়ের কণ্ঠ অমন উত্তেজিত মনে হলো কেন। তবে কি ওই মেয়েটা যা বলল… মেয়েটাকি কি নোকো দৈব বাণী বলতে পারে! বহু বছর পর মরিয়মের কোন জুড়ে আইতাছে আমার সন্তান। না কিছুক তো ভাববার পাতাছি না। ওদিকে কালু ভাবতে ভাবতে থাকে বীণা কোথায় গেলো মেয়েটিকে নিয়ে। জামাল মির্জার এই বাগান বাড়িতে যেমন ঢোকা কঠিন বের হওয়া তো তার চেয়ে বেশি কঠিন। এই হায়নাদের সাথে লড়তে আসার সাহস দেখিয়েছে মেয়েটা কত বড় দুঃসাহস বাবরে বাব। আমার যা হয় হোক জামাল মির্জা কে ধরার জন্য এতোটা দিন ছদ্দবেশ ধারণ করেছি এখন সময় হাতের মুঠোয় এসে কি আমার ফোসকে যায় বুঝতে পারছি না।রমজান কি নিরাপদে যেতে পারল? জানিনা ওর বউয়ের এখন কি অবস্থা। বেচারা কোনো কথা কানেই উঠায় না। শালা এটুকু বোঝে না যে এই সব জামাল মির্জাদের হাতের পুতুল ওরা। নিজের সার্থে অনেক প্রলভন দেখিয়ে হাতে রাখে ।একটু এদিক ওদিক হলেই পাখির মত গুলি করে মারে। যাই হোক এখান থেকে বেরিয়ে যখন গেছে তখন হয় তো আর কোনো বিপদ হবে না। আর আমাকে যখন জামাল মির্জা তার বাহিনী দিকে কুক্ত করেছে তখন একবার চাঞ্চ নিব জামাল মির্জার ওই তুলতুলে ফুটফুটে গোলাপ ফুলটি দিয়ে পুরোন করবো আমার মনের জ্বালা। এবার দেখবে জামাল কি বিভৎস এই দৃশ্য। মেয়ের চেহারা দেখে আৎকে উঠবে গুমরে গুমরে কাঁদবে শালা।