শুক্রবার  ২৭শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং  |   শুক্রবার  ১৪ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

এইমাএ পাওয়া

রাস্তা নিয়ে দ্বন্দের জেরঃগোপালগঞ্জে এক মামলাবাজ পরিবারের দাপটে নাজেহাল গ্রামবাসী

জুন ২৯, ২০১৬

রাস্তা নিয়ে দ্বন্দের জের

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জে যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে দ্বন্দে এক প্রভাবশালী একের পর এক মামলা দিয়ে গ্রামবাসীকে হয়রানী করার অভিযোগ উঠেছে। গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় ইউনিয়নের দক্ষিণ জলিরপাড় (তালুক) গ্রামের অধিবাসীরা পিএলআরে থাকা কোটালীপাড়া উপজেলা কৃষি অফিসের সহকারী কৃষি অফিসার অজিত মন্ডলের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন। অজিত মন্ডল ওই গ্রামের দ্বরিক মন্ডলের ছেলে।
অবসরপ্রাপ্ত ওই কর্মকর্তার স্ত্রী করুনাময়ী মন্ডল দক্ষিণ জলিরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। তিনিও গ্রামের মানুষকে হয়রানী করে চলেছে বলে তারা অভিযোগ করেন। জলিরপাড়-ফুলকুমারী সড়ক থেকে দক্ষিণ জলিরপাড় তালুক সার্বজনীন কালিবাড়ি মন্দির হয়ে গোলদার বাড়ি পর্যন্ত ৮ শ’ ফুট রাস্তা নির্মাণের বিরোধকে কেন্দ্র করে অজিত ওই গ্রামের মানুষের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা দায়ের করেছেন।

ওই গ্রামের পরান দত্ত, পরিতোষ দত্ত, ধন্য মন্ডল সোনালী মন্ডল, নিলু মন্ডল বলেন, জলিরপাড়-ফুলকুমারী সড়ক থেকে দক্ষিণ জলিরপাড় তালুক সার্বজনীন কালিবাড়ি, সরকার বাড়ি, মন্ডল বাড়ি, দত্ত বাড়ি ও গোলদার বাড়ি যাতায়াতের জন্য একটি পায়ে হাটা রাস্তা রয়েছে। ওই রাস্তার জায়গার মালিক অজিত মন্ডল ও বিপুল মন্ডল। এ রাস্তা দিয়ে ওই গ্রামের শতাধিক পরিবারের সদস্যরা যাতায়াত, কৃষি পণ্য পরিবহন করেন। মন্দিরের ধর্মীয় অনুষ্ঠান যোগ দিতে হাজার হাজার মানুষ এ রাস্তাটি ব্যবহার করেন। গুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তাটি ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচীর আওতায় প্রশস্ত করন ও মাটি ফেলার উদ্যোগ গ্রহন করে জলিরপাড় ইউনিয়ন পরিষদ। রাস্তার কাজ করতে গেলেই বাধা দেন অজিত মন্ডল ও তার স্ত্রী করুনাময়ী মন্ডল। তিনি তার জায়গার গাছের মাথা ভেঙ্গে গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

নিজের জায়গায় তারকাটা দিয়ে ঘিরে মানুষের চলাচলের পথ সংকুচিত করেছে। এতে বাধা দিলে সে ফের মামলা দায়ের করে। ওই পথে চলতে গিয়ে অনেকেই রাতের অন্ধকারে কাটা তারের খোচায় ক্ষত বিক্ষত হচ্ছে। রাস্তায় কাটা তারের বেড়া রাখতে আদালতে নিষেধাজ্ঞা মামলা করে। আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করে। সম্প্রতি সে আদালতে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার জন্য অবেদন করেছে। গত ১৮ জুন এ নিয়ে গ্রামবাসী ও অজিতের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অজিত ও তার স্ত্রী মাথা কেটে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়। তারা এ ঘটনাও গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। এছাড়া নিজের ঘরের সিধ কেটে চুরি ও ডাকাতির নাটক সাজিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করে।

ক্ষিতিশ মন্ডল অভিযোগ করে বলেন, অজিতের গাছের আম চুরির ঘটনায় ২০০৫ সালে সম্পদ বৈদ্যকে গাছের সাথে বেধে নির্যাতন করা হয়। পরে অজিতের স্ত্রী করুনাময়ী সম্পদ বৈদ্যসহ ৮/১০ জনের বিরুদ্ধে উল্টো চুরির মামলা দায়ের করেন। এছাড়া করুনাময়ী তার স্কুলের দুই শিক্ষক বীণাপাণী বাকচী ও শোভারানী বৈারগীর বিরুদ্ধে প্রাথামক শিক্ষা অফিসে অভিযোগ দিয়ে অযথা হয়রাানী করেন। করুনাময়ী সব সময় দাপট দেখিয়ে মামলার ভয় দিয়ে গ্রামের মানুষকে দাবিয়ে রাখেন।

দক্ষিণ জলিরপাড় (তালুক) গ্রামের সভাপতি ও মন্দির কমিটির সভাপতি জগদীশ মন্ডল বলেন, অজিত ও তার পরিবারের অন্তত ৪ জন সরকরি চাকরি করেন। তাদের হাতে প্রচুর টাকা আছে। পক্ষান্তরে গ্রামের মানুষ গরীব ও অসহায় প্রকৃতির। অজিত বা তার স্ত্রীর কোন কাজে বাধা দিলেই গ্রামবাসীকে মামলা দিয়ে হয়রানী করে। গ্রামবাসী টাকার অভাবে মামলা লড়তে পরে না। ফলে অজিত মামলার রায়ে একতরফা ফায়দা লোটে। মামলার ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায় না। অজিত জমিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রাস্তার কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। অজিত মন্দিরের জায়গা পর্যন্ত দখলে নিয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

জলিরপাড় ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড মেম্বর নারায়ন গোলদার বলেন, কর্মসৃজন কর্মসূচীর আওতায় ওই রাস্তার কাজ করার উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু বাধার কারনেণ কাজ করা সম্ভব হয়নি।

জলিরপাড় ইউপি চেয়ারম্যান অখিল বৈরাগী বলেন, বিপুলের জায়গা দিয়েই গ্রামের লোকজন যাতায়াত করছে। অজিত রাস্তার জন্য জায়গা দিতে চান না। রাস্তা নিয়ে তিনি ওই গ্রামের মানুষের নামে মামলা দিয়ে হয়রানী করছেন বলেও গ্রামের লোকজন জানিয়েছেন। আমরা বিষয়টি মীমাংশা করার চেষ্টা করছি।

অভিযুক্ত অজিত মন্ডল মামলা দায়েরের কথা স্বীকার করে বলেন, আমি জনগণের রাস্তা বন্ধ করিনি। আমি রাস্তার জায়গা ছেড়ে দিয়েই তারাকাটার বেড়া দিয়েছি। ওই জমির ফসল আমি ঘরে আনতে পারিনা। তাই গাছ লাগিয়ে তার কাটার বেড়া দিয়েছি। গ্রামের লোকজন আমার গাছ ভেঙ্গেছে। আমাকে ও আমার স্ত্রীকে মারপিট করেছে। জীবনের নিরাপত্তার জন্য মামলা করেছি। আমি ও আমার স্ত্রী কাউকে হয়রানী করছিন না। আমি মন্দিরে জায়গা দখল করিনি। বরং মন্দিরে ২ হাত জায়গা ছেড়ে দিয়েছি। ঘরে সিধ কেটে চুরি ও ডাকাতির মামলা দায়ের করার বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যান অজিত মন্ডল।

এম শিমুল খান,গোপালগঞ্জ/২৯শে জুন, ২০১৬ ইং