বুধবার  ২৫শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং  |   বুধবার  ১২ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

এইমাএ পাওয়া

মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী সাখাওয়াতের রাজনৈতিক উত্থান যেভাবে

আগস্ট ১১, ২০১৬

মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী সাখাওয়াতে

এ এম রাকিব/ 

মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী মাওলানা সাখাওয়াত জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে প্রথম সংসদ সদস্য হলেও দলটির নেতৃস্থানীয় কোনো পদে কখনও ছিলেন না। তিনি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও পরে জাতীয় পার্টির উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য। তবে কুখ্যাত গোলাম আযমের সার্বক্ষণিক সফরসঙ্গী ছিলেন তিনি বিএনপিতে যোগ দেয়ার আগ পর্যন্ত। তবে জামায়াত ত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে স্ত্রী ও সন্তানদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন ক্ষমতা প্রিয় বলে এলাকায় পরিচিত এই ব্যক্তি।

তার দুই ছেলে ইতোমধ্যে জামায়াতের অর্থযোগানদাতা হিসেবে গ্রেফতার হয়েছেন।মহান স্বাধীনতা সংগ্রামকালে মাদ্রাসারছাত্র থাকার সময় তিনি ছিলেন ইসলামি ছাত্র সংঘের কর্মী এবং সেখান থেকে যোগ দেন রাজাকার বাহিনীতে। রাজনীতিতে আসার আগে সাখাওয়াত রাজধানী ঢাকায় অবস্থান করতেন। ঢাকার আলিয়া মাদ্রাসা থেকে কামিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলাম শিক্ষায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। এরপর ১৯৮০ সালের দিকে মতিঝিলের আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে যোগ দেন। ১৯৮৪ সালে তিনি ঢাকা এজি অফিসে যোগ দেন। একই সাথে ঠিকাদারি ব্যবসা করে অগাধ টাকার মালিক হন। এমনটা জানিয়েছেন সাখাওয়াতের পরিবারের সাথে ঘনিষ্ট যশোরের কেশবপুর উপজেলার ব্যাসডাঙ্গা গ্রামের সিরাজুল ইসলাম।

শিক্ষাকাল থেকেই জামায়াতের রাজনীতির সাথেই ছিলেন এই যুদ্ধাপরাধী। ১৯৯০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে যশোর-৬(কেশবপুর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত হন। এর আগে চাকরিতে ইস্তফা দিয়েছিলেন রাজনীতি করার জন্য।

১৯৯৫ সালে সংসদ সদস্য থাকা অবস্থায় তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে তিনি সংসদ সদস্য হন। তবে ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জামায়াতের সাথে জোট বেঁধে নির্বাচনে আসলে মাও.সাখাওয়াত মনোনয়ন বঞ্চিত হন জামায়াতের বিরোধিতায়। তখন তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এএসএইচকে সাদেকের কাছে ১৬৪ ভোটে পরাজিত হন। এসময় তিনি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক। ২০০৭ সালে সাখাওয়াত জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। দলটি তাকে তাদের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দলে স্থান দেয়। তবে ২০০৯ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি।কেশবপুর থেকে আওয়ামী লীগনেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী হন দলটির নেতা সাবেক হুইপ আব্দুল ওহাব। জোটভুক্ত দল হিসেবে জাতীয় পার্টির নেতা সাখাওয়াৎ ওহাবের পক্ষে কাজ করেন। তবে তিনি মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ ওঠায় বঞ্চিত হন তিনি।

কেশবপুর উপজেলার বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়নের হিজলডাঙ্গা গ্রামের মৃত আমিরআলীর একমাত্র সন্তান সাখাওয়াত হোসেন। দরিদ্র পিতার এ সন্তান পড়ালেখা করতেন মামা বাড়ি একই উপজেলার ব্যাসডাঙ্গা গ্রামে। বর্তমান পরিবারিক অবস্থা ১৯৯৫ সালে জামায়াত থেকে বিএনপিতে যোগ দিলে স্ত্রী ও সন্তানদের সাথে সম্পর্কের অবনতি হয় মাওলানা সাখাওয়াতের।

পারিবারিক ঘনিষ্টজন সত্তরোর্ধ্ব করিমোনন্নেসা জানান, তার স্ত্রী জাহানারা খাতুন তাকে চাপাচাপি করে ব্যর্থ হয়ে পরে এড়িয়ে চলতেন তিন ছেলে ও এক মেয়েসহ। সাখাওয়াতের চার ছেলে ও এক মেয়ে। এরমধ্যে ১৯৯৫ সালে বিমান প্রশিক্ষণকালে দুর্ঘটনায় তার বড় ছেলে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মাসুদ নিহত হন। তার স্মরণে গ্রামের বাড়ি হিজলডাঙ্গায় ১৯৯৮ সালে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন সাখাওয়াত। কলেজটি উদ্বোধন করেন বেগম খালেদা জিয়া। হিজলডাঙ্গায় এখন এ পরিবারটির কেউ থাকেন না। নেই তাদের কোনো ঘর-বাড়ি। স্ত্রী সন্তানরা যে যার মতো ঢাকায় থাকায়। তিনিসেখানকার ৬৫ বিঘা জমি ছেলের নামে করা কলেজে লিখে দিয়েছেন। বাকি তিন ছেলের মধ্যে সৈয়দ শহিদুল ইসলাম ও জাহিদুল ইসলাম জামায়াতের অর্থ দাতার অভিযোগে গ্রেফতার হন। শহিদুল ইসলাম গতমাসে সাতক্ষীরা জেলার তালা থেকে গ্রেফতার হন। সেখানে তিনি! একটি মাছের ঘের করতে গিয়েছিলেন। তিনি ঢাকায় গার্মেস্টস ব্যবসায়ের সাথে জড়িত। অপর ছেলে জাহিদুল ইসলাম ঢাকায় গাজী নেটওয়ার্কের কমিউনিকেশন বিভাগে চাকরি করতেন। বছর দুয়েক আগে তিনি ঢাকা থেকে গ্রেফতার হন। বর্তমানে তার অবস্থা জানেন না পরিচিত জনেরা। তার যে মোবাইল ফোনটি ছিল তা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে বলে জানান তাদের পরিবারের অত্যন্ত পরিচিত সিরাজুল ইসলাম।সবচেয়ে ছোট ছেলে নাহিদুল ইসলামকম্পিউটার ডিজাইনার। তার অফিস ঢাকার পুরানা পল্টনে। মা জাহানার খাতুন তার সাথে থাকেন। একমাত্র মেয়ে তামান্না জনতা ব্যাংকে চাকরি করেন। তিনি স্বামী সন্তান নিয়ে তার মতো থাকেন।
যশোর প্রতিনিধি/ ১১ই আগস্ট, ২০১৬ ইং