বৃহস্পতিবার  ২৬শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং  |   বৃহস্পতিবার  ১৩ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

এইমাএ পাওয়া

মাতা-পিতার ভরণ-পোষণ,সামাজিক-সচেতনতা এবং প্রাসঙ্গিক আইন

জুলাই ১৩, ২০১৬

মোঃ আবু বকর সিদ্দীক

মোঃ আবু বকর সিদ্দীক /

প্রকৃতির চিরন্তন বিধান অনুযায়ী মায়ের গর্ভে থাকাকালীন শিশুর সাথে মাতা,পরবর্তীতে পিতা মাতা উভয়ের সাথে শিশুর নিবিঢ় সম্পর্ক স্থাপিত হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী একজন শিশু মাতৃ গর্ভে ৩৩ সপ্তাহ থাকার পর পরই মায়ের অনুভূতি টের পায়। আস্তে আস্তে এসম্পর্ক প্রগাঢ় হতে থাকে। মাতা পিতার শব্দ তাকে প্রভাবিত করে। এক্ষেত্রে সন্তানও পিতামাতার সম্পর্ক সৃষ্টিতে ধণী-গরীব, বর্ণ, অঞ্চল কোন প্রভাব ফেলে না।

তবে পিতামাতার সাথে সন্তানের সম্পর্ক এবং দায়িত্ব ও কর্তব্য এর মধ্যে অনেক পালাবদল হয়ে যায়। আমাদের দেশে একজন শিশু সাবালক না হওয়া পর্যন্ত সাধারণতঃ পিতামাতা তার ভরণ -পোষণ করে থাকেন। এ দায়িত্ব সাধারণতঃ দুই ভাগে ভাগ করা যায়, যথা-১ . মৌলিক চাহিদা পূরণ ২.নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক শিক্ষা সংক্রান্ত। এ কাজ গুলো প্রতিপালন অনেকটা আপেক্ষিক। সকলের নিকট থেকে সমভাবে পাওয়া যায়না। এজন্য দারিদ্র বা অর্থনৈতিক অবস্থা, সন্তানের প্রতিদায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ,পরিবেশ, কর্মস্থলের অবস্থান, সংসারের পরিবেশ, চরিত্র , স্বভাব, শিক্ষা,মেধা ও মনন ইত্যাদি বিষয় কাজ করে। অন্য পক্ষে সন্তানের বয়স বাড়ার সাথে সাথে মাতা -পিতা প্রবীণত্বের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। একই সাথে মতা পিতার প্রতি সন্তানদের দায়িত্ব বৃদ্ধি পেতে থাকে।

জানা মতে বিশ্বের প্রায় সকল ধর্মে পিতা মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। পবিত্র কোরআন শরীফের অনেক জায়গায় মাতা পিতার প্রতি ন্তানের আচার ব্যবহার এর কথা বলা হয়েছে। সুরা লোকমানের ১৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে,”আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করার জোর নির্দেশ দিয়েছি ,কেননা তার মাতা তাকে কষ্টের পর কষ্ট করে গর্ভে ধারণ করেছে। আমি আরো নির্দেশ দিয়েছি আমার প্রতি ও তোমার পিতা মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। অবশেষে আমারই কাছে ফিরে আসতে হবে। “অন্যদিকে সূরা বনি ইসরাইলের ২৩ ও২৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে,”তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকেছাড়া অন্য কারো ইবাদত করোনা এবং পিতা মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়; তবে তাদেরকে ‘উহ’ শব্দটি ও বলোনা এবং তাদেরকে ধমক দিওনা। তাদের সাথে শিষ্টাচার পূর্ণ ভাবে কথা বলো। “পবিত্র হাদিস এর বিভিন্ন জায়গায় মাতা-পিতার প্রতি অসীম সম্মান ও মর্যাদা দেখানোর কথা বলা হয়েছে ।মায়ের পদতলে জান্নাত এর কথাও বলা হয়েছে।

শৈশবে মাতৃহারা নবীজী তার দুধ মাতা হালিমার প্রতি যে সম্মান দেখিয়েছেন তা অনুকরণীয়। আমরা ইসলামের সাধক হযরত বায়েজিদ বোস্তামির মাতৃ ভক্তির কথা শিশু বয়সে অনেক বার পড়েছি।

তোওরাত গ্রন্থে ও পিতামাতা কে সন্মান করা এবং কোন অজুহাতে পিতামাতা কে হত্যা করা যাবে না মর্মে উল্লেখ আছে। খৃষ্ট ধর্মে ‘প্রভুর নির্দেশে পিতামাতার আনুগত্য ও সম্মান করার কথা উল্লেখ রয়েছে। হিন্দু ধর্মে পিতামাতার প্রতি সম্মান করার কথা বহু জায়গায় উল্লেখ রয়েছে। স্বামী বিবেকানন্দ উল্লেখ করেছেন, “পিতামাতা ঈশ্বরের প্রত্যক্ষ প্রতিনিধি, তারা খুশি হলে ঈশ্বর খুশি হন, সেই সত্যিকার সন্তান যে পিতামাতার সামনে উগ্র কথা বলে না” ।হিন্দু ধর্মে আর ও বলা হয়েছে মা হচ্ছেন ধরণী তুল্য অন্য পক্ষে পিতা হচ্ছে স্বর্গ তুল্য। পিতামাতা খুশি থাকলে দেবতা গণ খুশি থাকেন।বৌদ্ধ ধর্মের শিক্ষা হচ্ছে, যে পিতামাতাকে স্মরণ করে সে যেন ঈশ্বর কে সন্মান করে।’

সামাজিক দিক দিয়ে ও পিতামাতার প্রতিদায়িত্ব পালনের বিষয়টি বিশেষ ভাবে গুরুত্ব পূর্ণ। যারা পিতা মাতার প্রতি দায়িত্ব পালন করে না, সামাজিক ভাবে তাদের কে নিন্দার চোখে দেখা হয়। পূর্বে এই বিষয়টি আরও প্রখর ছিল। গ্রামে গঞ্জে মাঝ বয়সী ব্যক্তিদের অতি সকালে ঘুম ঊঠতে দেখা যেত । তারা সকালেই গরু বাছুর গোয়াল থেকে বের করে চাড়িতে ( মাটি বা ধনী ব্যক্তিদের বাডিতে সিমেন্ট দিয়ে তৈরী এক বা অনেক গরু থাকলে একাধিক বড় পাত্র এক সারিতে রাখা ) খড় কুটা খেতে দিয়েই গ্রামের কাচা রাস্তাবের হতেন । খড়ম/পয়টা(কাঠের উপর বেল্ট লাগানো) পায়ে দিয়ে আত্মীয় স্বজন এবং প্রতিবেশী মুরুব্বীদের খোঁজ নিতে বের হতেন। ষাটের দশকেও (১৯৬০) এ দৃশ্য গ্রামের চির চেনা চিত্র ছিল।

তারা যে সমস্ত বাড়িতে মুরুব্বী ব্যক্তি আছেন তাদের চাচা চাচী বা দাদা দাদী বা অন্য কোন সম্বোধন করে খোঁজ খবর নিতেন। ছেলে মেয়েরা তাদের যত্ন করে কিনা তাও জিজ্ঞাসা করতেন। অনেক সময় বৃদ্ধ পিতামাতার সন্তানদের তাদের পিতামাতার প্রতি দায়িত্ব পালনের উপদেশ দিতেন । গ্রামের মেয়েরা বাপের বাড়ি নাইওর আসলে গ্রামে রমুরুব্বীদের খোঁজ খবর নিতেন। কারও বাড়িতে ভাল রান্না হলে যে বাড়িতে মুরুব্বী রয়েছেন তাদের নিকট খাবার পাঠান একটি রেওয়াজ হিসেবে দেখা যেত।।

পূর্বে মাতা পিতাকে সম্মান করা একটি পারিবারিক ঐতিহ্য হিসেবে গণ্য করা হত। পরিবারের প্রধান প্রধান সিদ্ধান্তগুলো পিতামাতার সাথে আলোচনা করে করা হত। কোন ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত ছেলে মেয়ে গ্রহণ করলেও তা ঘোষণা করা হত পিতার মাধ্যমে , যেমন- বিবাহ-শাদী, জমি জমা ক্রয়-বিক্রয়,বড় ধরণের টাকা পয়সা লেন-দেন, কিংবা সামাজিক চুক্তি বা কথা দেয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে। বাড়ীতে সন্তানদের বন্ধু-বান্ধব এলে বিদায় গ্রহণকালে অবশ্যই পিতামাতার সাথে পরিচয় করে দেয়া হত। কোন সামাজিক অনুষ্ঠানে পিতাকে নিমন্ত্রণ করলে গোটা পরিবার সম্মানিত বোধ করত এবং বাড়ির সকলকে দাওয়াত দেয়া হয়েছে বলে গণ্য করা হত। কিন্তু বাংলাদেশে বিগত পাঁচ দশকে এ দৃশ্য পটের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। এর জন্য কোন একক কারণকে দায়ী করা যায় না। তবে যে সকল কারণকে উল্লেখযোগ্য বলে মনে করা হয় তা হচ্ছে- ক. যৌথ পরিবারের পরিবর্তে অণু পরিবারের প্রতি আকর্ষণ বৃদ্ধি,খ. দারিদ্র, গ. পেশা পরিবর্তন ও পেশাগত কারণে দূরবর্তী কর্মস্থলে সন্তানদের অবস্থান, ঘ. পারিবারিক কোন্দল,ঙ. লোক সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে মূল বাড়ী হতে পৃথক পৃথক বাড়ি বানানো, চ. শিথিল সামাজিক তদারকি,ছ. লোক নিন্দা কে উপেক্ষা করার প্রবণতা,জ. আত্ম-কেন্দ্রিকতা বৃদ্ধি, ঝ. পুত্র বঁধুর সাথে তাল মিলিয়ে চলতে না পারা, ঞ. সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন কে মেনে না নিতে পারা, ট. মান –অভিমান তথা মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা,ঠ. প্রজন্মগত চিন্তা চেতনার ব্যবধান ( জেনারেশন গ্যাপ), ড.অসহিষ্ণুমনোভাব, ঢ. বিদেশী সংস্কৃতির কু প্রভাব ইত্যাদি।
এ সমস্ত কারণে মাতা-পিতার সাথে সন্তানদের সম্পর্ক দিন দিন শিথিল হচ্ছে। অনেক পরিবার এর সন্তানরা তাদের মাতা পিতার ভরণ পোষণ থেকে নিজেদেরকে দূরে রাখছে। এমনকি পৃথকভাবে বা পৃথক বাড়িতে বসবাস করছে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সবচেয়ে বেশী বৃদ্ধ মাতা –পিতা এবং পরিবারের শিশু। শিশুরা তার পিতা-মাতা এবং দাদা-দাদীর শিথিল সম্পর্ক দেখে পারিবারিক ও সামাজিক দায় দায়িত্ব পালনের শিক্ষা হতে বঞ্চিত হচ্ছে। পরিণামে শিশুর পিতা যিনি প্রবীণ হতে চলছেন তিনি নিজেই নিজের জন্য ভবিষ্যতের বিষ বৃক্ষ রোপন করছেন।

এ বিষয় গুলো শুধু বাংলাদেশ নয় গোটা বিশ্বকে ভাবিয়ে তুলছে। এ জন্য বিভিন্ন দেশে সমাজ চিন্তাবিদগণ চিন্তিত হয়ে উঠছেন। দেশ দেশে প্রণীত হচ্ছে পিতামাতার জন্য লালন পালন বা রক্ষণাবেক্ষণ ও কল্যাণ আইন।

আমদের কাছের দেশ সিঙ্গাপুরে ১৯৯৫ সালে ‘মেইনটেইন্যান্স অব প্যারেন্ট এ্যাক্ট’ প্রণীত হয় এবং ১ জুন ১৯৯৬ সালে এ আইন কার্যকর হয়। এ আইনে অসমর্থ পিতামাতার সুরক্ষা ও ভরণ-পোষণ এর জন্য সন্তানদের প্রতি নির্দেশনা র‍য়েছে। আইন অমান্যকারীকে আদালতের মাধ্যমে ৫০০০ সিঙ্গাপুরী ডলার জরিমানা ও কারাদন্ডের বিধান রয়েছে। পাশের দেশ ভারতে মেইনটেইন্যান্স এন্ড ওয়েলফেয়ার অব প্যারেন্ট এন্ড সিনিয়র সিটিজেনস এ্যাক্ট ২০০৭ সালে প্রণীত হয় এবং জম্মু ও কাশ্মীর ব্যাতিত সকল রাজ্যে এ আইন বলবৎ হয়। এ আইনেও পিতামাতার ভরণ পোষণ ও সুরক্ষা নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে । এ আইনেও আইন অমান্যকারীর বিরুদ্ধে জরিমানা ও শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশে ৬০ উর্দ্ধ ব্যাক্তিকে প্রবীণ নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হয়। পিতা-মাতাগণ এ বয়সের পর হতে সাধারণতঃ অসমর্থ হতে শুরু করে । বাংলাদেশ প্রবীণ পিতামাতা তথা প্রবীণ ব্যক্তিদের জন্য দু-ধরণের সুযোগ রয়েছে যথা ১. সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচী ২. পিতা-মাতাকে প্রতিপালনে আইনগতভাব সন্তানদের উপর বাধ্যবাধকতা ।
গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান এর ১৫(ঘ) অনুচ্ছেদ অনুয়ায়ী সরকার প্রণীত ১৯৯৭-৯৮ সালের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর আওতায় পরিচালিত হয় বয়স্ক ভাতা কার্যক্রম। সরকার ১৯৯৩ জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা প্রণয়ন করে দেশের প্রবীণ নাগরিকদের আশার আলো দেখিয়েছে। প্রবীণ ব্যক্তিগণএ নীতিমালা অনুযায়ী স্বাস্থ্য,আবাসন, যানবাহন ইতাদি সুযোগ সুবিধা প্রাপ্তির প্রতিশ্রুতি লাভ করেছেন।

অন্য পক্ষে পিতা-মাতার ভরণ পোষণ আইন ২০১৩ প্রণয়ন করে পিতামাতা তথা পিতামাতার অবর্তমানে দাদা-দাদী ও নানা নানীর ভরণ পোষণ করতে সন্তানদের বাধ্যবাধকতার আওতায় আনা হয়েছে। এখানে ভরণ-পোষণ অর্থ ক. খাওয়া-দাওয়া খ. বস্ত্র,গ. চিকিৎসাঘ . বসবাসের সুযোগ সুবিধা এবং সঙ্গ প্রদান কে বুঝানো হয়েছে।

এ আইনের ৩ ধারা মতে প্রত্যেক সন্তান কে পিতা-মাতার ভরণ-পোষণকে নিশ্চিত করতে হবে। একাধিক সন্তান থাকলে নিজেরা আলোচনা করে পিতামাতার ভরণ -পোষণ নিশ্চিত করবে।এ ধারায় আরো উল্লেখ আছে যে, সন্তানকে পিতামাতার একই সঙ্গে এবং একই স্থানে বসবাস করতে হবে। পিতা-মাতার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাদেরকে কোন বৃদ্ধ নিবাস বা অন্য কোন স্থানে একত্রে বা আলাদা করে বসবাস করতে বাধ্য করা যাবে না ।প্রত্যেক সন্তানকে পিতা-মাতার স্বাস্থ্য বিষয়ে খোঁজ খবর এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা ও পরিচর্যা করতে হবে। পিতা বা মাতা কিংবা উভয় সন্তান হতে পৃথক বসবাস করলে সন্তানকে তাদের সাথে সাক্ষাৎ করতে হবে। পিতা-মাতা সন্তানদের হতে পৃথক বসবাস করলে সন্তানকে মাসিক বা বার্ষিক আয় হতে যুক্তি সঙ্গত পরিমাণ অর্থ পিতা বা মাতা ক্ষেত্র মত উভয় কে প্রদান করতে হবে।

এ আইন এর ৪ ধারারবিধান অনুযায়ী সন্তান পিতার অবর্তমানে দাদা-দাদীকে এবং মাতার অবর্তমানে নানা-নানীকে ভরণ পোষন করবে।এ আইনের ৫ ধারা মোতবেক পিতামতার ভরণ-পোষণ না করলে অনুর্দ্ধ১ (এক)লক্ষ টাকার জরিমানা এবং অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদন্ডের বিধান রয়েছে। একই সাথে ৫(২) ধারা মোতাবেক কোন সন্তানের স্ত্রী বা ক্ষেত্র মতে স্বামী, পুত্র কন্যা অন্য কোন নিকট আত্মীয় ব্যক্তি পিতা মাতা বা দাদা-দাদী বা নানা-নানীর ভরণ-পোষণ করতে বাধা প্রদান করলে বা অসযোগিতা করলে তিনি অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতা করেছেন বলে গণ্য হবেন এবং উক্ত দন্ডে দন্ডিত হবেন মর্মে উল্লেখ রয়েছে। আইনের ৭ ধারা মোতাবেক পিতামাতার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ১ম শ্রেণীর জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট এর আদালতে এ অপরাধের জন্য মামলা দায়ের করা যাবে।

আইনে আপোষ মিমাংসার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটিকর্পোরেশন এর চেয়ারম্যান, মেয়র, কমিশনারদের আপোষ করে দেয়ার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।এ আপোষ মিমাংসা আদালত কর্তৃক স্বীকৃতি দেয়ার বিধান আইনে রাখা হয়েছে।

প্রায় দেশেই প্রতিষ্ঠিত বিধান এই যে, আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা বা না জানার কারনে কেউ আইনের দায় এড়াতে পারেন না। ধরে নেয়া হয়, দেশের নাগরিক সেই দেশের সকল আইন জানেন এবং কেউ বিদেশে গেলে ঐ দেশের আইন জেনেই সে দেশে প্রবেশ করেন । তথাপি জন কল্যাণ মূলক আইনের ব্যাপক প্রচার প্রয়োজন। বাংলাদেশ এর প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আরো বেশী দরকার। তবে এ আইন ২০১৩ সালে প্রণীত হলে ও জানামতে এখন রুলস প্রণীত হয়নি।

বাংলাদেশে জনকল্যাণ মূলক আইন এর উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন ও সুফল পাওয়ার জন্য প্রয়োজন জনসচেতনতা ও পারিবারিক ও সামাজিক দায়িত্ব বোধ। পিতামাতার ভরণ-পোষণ এবং তাদের প্রতি সন্তানের দায়িত্ব জাগ্রত করার জন্য নিম্নবর্ণিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজনঃ

• পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব বোধ সংক্রান্ত ধর্মীয় ও নৈতিক অনুশাসন ও বিধি বিধান ব্যাপক ভাবে প্রচার করা
• পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন ২০১৩ , জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা ২০১৩ সহ অন্যান্য জনহিতকর আইন, নীতিমালা ব্যাপক প্রচারের জন্য প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াকে ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করা
• সমাজ সেবা অধিদফতর, মহিলা বিষয়ক অধিদফতর, এনজিও বিষয় কব্যুরো, রেজিষ্টার, জয়েন্টস্টক কোপম্পানির সাথে নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান সমূহের মধ্যে সম্বন্বয় সাধন এবং প্রচার ও জনসচেতনামূলক কর্মসূচী গ্রহণ করা
• পিতা-মাতা ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার জন্য ফ্যামিলি কাউন্সেলিং এর ব্যবস্থা করা
• সময় ও যুগের দাবীর সাথে তাল মিলিয়ে সন্তান ও মাতা পিতার এক সাথে চলারমন মানসিকতাসৃষ্টিকরা এবং ছোটখাট বিষয়কে ছাড় দেয়া
• পরিবারকে আদর্শিক ভাব ধারায় গড়ে তোলা এবং নৈতিক বিষয় গুলো চর্চা করা
• পাঠ্যপুস্তকে অধিকহারে প্রবীণ ও পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কিত বিষয় অন্তর্ভূক্ত করা
• যে কোন জনকল্যাণ মূলকআইন প্রণীত হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে আইনের রুলস প্রণয়ন আবশ্যিক করা।
ধারণা করা হয়,আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ এর প্রবীণ নাগরিক এর সংখ্যা দাঁড়াবে ৪ কোটি ৮০ লক্ষ জন।আজ কে যারা তরুণ ২০৫০ সালে তারাই হবেন সন্তানের বৃদ্ধ পিতা-মাতা ও প্রবীণ নাগরিক। আজকের যুবককে, পৌড় ব্যক্তিকে নিজেদের কথা চিন্তা করেই তার পিতা-মাতাকে ভরণ-পোষণ করতে হবে এবং নিজের সন্তানদের মুরব্বীদের শ্রদ্ধা করতে এবং তাদের প্রতিদায়িত্ব পালনের শিক্ষা দিতে হবে। তবেই বাংলাদেশ পৃথিবীর বুকে আদর্শ দেশ হিসেবে পরিচিত হবে, আর আজকের তরুণ সমাজই হবে তার গর্বিত অংশীদার।

লেখক 
নির্বাহী পরিচালক, গ্রীণ গোল্ড সোসাইটি ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তা
ইমেইলঃ siddiquedss@gmail.com