শুক্রবার  ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং  |   শুক্রবার  ৭ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

এইমাএ পাওয়া

ভাঙ্গায় মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

আগস্ট ১৯, ২০১৬

মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা

বিপ্লব কুমার দাস (শাওন)/ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি/

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আব্দুর রহিম ভাঙ্গায় যোগদানের পর ঠিকমত অফিস না করা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ বানিজ্য, ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা প্রদান, শিক্ষকদের অনলাইনে বেতন-ভাতা ও দাপ্তরিক কাজে ঘুষ বানিজ্য করে শিক্ষদের কাছ থেকে। তাকে শিক্ষকগন মৌখিকভাবে সংশোধন হতে বললেও তিনি তা উপেক্ষা করে ঘুষ বানিজ্য সহ নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন।

তার বিরুদ্ধে উপজেলার প্রায় অর্ধশতাধীক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকগন জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দেন।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পরিমল চন্দ্র মন্ডল জানায়, ভাঙ্গা উপজেলার অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগন তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। বিষয়টি আমরা আমলে নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগকারীর মধ্যে ভাঙ্গা মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির ফরিদপুর জেলা সভাপতি মোঃ হায়দার হোসেন বলেন, মাধ্যমিক কর্মকর্তা যোগদানের পর হতেই ঘুষ বানিজ্য সহ তার খেয়াল খুশিমত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সম্পর্কে বাজে মন্তব্য করেন। শিক্ষক জাতির মেরুদন্ড হওয়া সত্বেও তিনি টাকার লোভে শিক্ষকদের অনৈতিক পথে হাটতে বাধ্য করেন।

অপর অভিযোগকারী মালিগ্রাম বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সুপার সুলতানা পারভীন বলেন, তিনি মাদ্রাসায় প্রবেশ করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সামনেই ধুমপান সহ অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ করেন। একজন শিক্ষা অফিসার যদি অনৈতিক ভাবে চলাফেরা করে এতে করে মাদ্রাসার ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হয়।

পল্লীবেড়া ইকামাতেদ্বীন মডেল কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবু ইউসুফ মৃধা বলেন, মাধ্যমিক কর্মকর্তা যোগদানের পর হতেই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে তার অনৈতিক কার্য্যকলাপের কারনে দুরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার দিক থেকে ভাঙ্গা উপজেলা দেশের মধ্যে একটি উজ্বল দৃষ্টান্ত ফলাফল ইতিপুর্বে দেখিয়েছে। তার অসামাজিক আচরনে সমগ্র উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া বিঘ ঘটছে। আমরা আশা করি উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনবেন।

তুজারপর এস এ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাচ্চু মাতুব্বর জানায়, দাপ্তরিক কাজে আমরা মাধ্যমিকের কার্য্যালয়ে আসলে তাকে কখনওই ঠিকমত অফিসে পাই না। এব্যাপারে অভিযুক্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আব্দুর রহিমের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার দপ্তরে একাধীকবার যেয়ে ও ফোনে চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার ১৯শে আগস্ট, ২০১৬ ইং