মঙ্গলবার  ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং  |   মঙ্গলবার  ১১ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

এইমাএ পাওয়া

ভাঙ্গায় ভূয়া শিক্ষক নিয়োগে কোটি টাকার বাণিজ্য: মেধাবীরা বঞ্চিত

সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৬

ভূয়া শিক্ষক নিয়োগ

।। বিপ্লব কুমার দাস (শাওন)/ফরিদপুর প্রতিনিধি ।।

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে দূর্ণীতিবাজ কর্মকর্তাদের একটি চক্রের সহায়তায় (সদ্য জাতীয়করণকৃত) ভূয়া শিক্ষক নিয়োগ করে কোটি টাকার বাণিজ্য হয়। নিয়োগ পরীক্ষায় প্রকৃত মেধাবীদের বাদ দিয়ে কতিপয় শিক্ষকদের ভূয়া নিয়োগ দেখিয়ে চক্রটি হাতিয়ে নেয় লক্ষ লক্ষ টাকা। নিয়োগ বঞ্চিত হয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রকৃত মেধাবীরা নিয়োগ পাওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। দূর্ণীতিতে জড়িত রাখব বোয়াল এবং জড়িত কর্মকর্তাদের শাস্তি না হওয়ায় ভূক্তভোগী ও সচেতন ব্যক্তিরা হতাশ।

জানা গেছে, ২০১৩ সালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে (সদ্য জাতীয়করণকৃত) নিয়োগ পরীক্ষার মেধা তালিকা প্রকাশ করে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উপজেলা ভিত্তিক নিয়োগের কথা থাকলেও ইউনিয়ন ভিত্তিক নিয়োগ দান করে ২৮জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে প্যানেলভূক্ত শিক্ষকদের হাইকোর্টের রিট পিটিশন দায়েরের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালে রায় অনুকূলে যাওয়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু হয়।

কিন্তু স্থানীয় জনৈক এক দূর্ণীতিবাজ ব্যক্তি, কতিপয় ভূয়া শিক্ষক, কর্মকর্তাদের সহায়তায় বেসরকারী রেজিষ্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০০৯ সালে ২৪টি বিদ্যালয়ে ২৪জন শিক্ষক নিয়োগ আছে জানিয়ে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেন।

ফলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের আইন কোষ শাখা হতে প্রকৃত মেধা তালিকার শিক্ষকদের নিয়োগ বন্ধ করে দেয়।

কিন্তু প্রকৃত পক্ষে ২৪জন শিক্ষককে কোন বিদ্যালয়ে নিয়োগ দেওয়াই হয়নি এমনকি নিয়োগকৃতরা হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর, রেজুলেশন এমনকি সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়েও কর্মরত নাই। চক্রটি ভূয়া ও জালিয়াতির মাধ্যমে মেধা তালিকায় নাম নেই এমন ২৪জন শিক্ষকের মধ্যে ১৩জনের নামের ২৬লক্ষ টাকার ২টি জালিয়াতি বিল তৈরি করে যা সোনালী ব্যাংক ভাঙ্গা শাখায় প্রেরণ করা হয়। প্রাপ্ত বিল নম্বর-১৯, তারিখ ২০/০৭/২০১৫ইং। ৬জনের এলএসসি নম্বর ২১০ অনুকূলে ১১লক্ষ ৯১হাজার ৯শত ১০টাকা এবং বিল নং ১৮ এলএসসি নং ২১১ অনুকূলে ১৪লক্ষ ৭৪হাজার ৪শত ৭০টাকা প্রাপ্ত বিল দেখানো হয়। প্রকৃতপক্ষে সৃষ্ট ৫ম পদ দেখিয়ে ২৪জন শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টিই ভূয়া। চক্রটি ভূয়া নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের নিকট থেকে ৫/৬লক্ষ টাকা নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরের জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করে বিদ্যালয়গুলিতে নিয়োগের জন্য পাঠায়। এতে কোটি টাকার বাণিজ্য করে চক্রটি রয়েছে ধরাছোয়ার বাইরে।

অপরদিকে প্রকৃত মেধা তালিকা থেকে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকরা মানবন্ধন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেও কোন সুরাহা না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন এবং নিয়োগের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: রফিকুল ইসলাম বলেন, নিয়োগের বিষয়টি সম্পূর্ণ ভূয়া ও বানোয়াট। জাল স্বাক্ষর দিয়ে ২৪জন শিক্ষকের নাম অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অচিরেই এর সুরাহা হবে।
শনিবার ৩রা সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ইং