বৃহস্পতিবার  ২৬শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং  |   বৃহস্পতিবার  ১৩ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

এইমাএ পাওয়া

ফুলবাড়ীতে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা

জুলাই ২, ২০১৬

ঈদের কেনাকাটা

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর দোকানগুলো সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে, ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে কেনাকাটাও পুরোপুরি জমে উঠেছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে ঈদের কেনাকাটা।

এবার ফুলবাড়ী বাজারে শাড়ী, থ্রি-পিস, সালোয়ার, কামিজ, জিন্স প্যান্ট, টি-শার্ট প্রভৃতি কাপড়ের আইটেমসহ রয়েছে রকমারি জুতা স্যান্ডেলের সমাহার। বাচ্চাদের কাপড়ের মধ্যে গত বছরের আকর্ষণীয় ডিজাইন ও বাহারী কাপড়ের সমাহারতো আছেই আবার নিত্য নতুন নামের চমক রয়েছে অনেক আইটেমের কাপড়ে। এবার বাজারে এসেছে গাউনের জামা, ফ্লোর টার্চ, তানশী থ্রিপিস, পাজোসহ বাহারী ডিজাইনের পোশাক।
তবে তরুন-তরুনীরা এবার গাউনের জামার প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়ে পড়েছে। তবে দাম বেশি হওয়ায় এই সব পোশাক সব ধরণের ক্রেতা কিনতে পারছেন না বলে আফসোস করে ফিরে যাচ্ছেন । ১ বছরের শিশু থেকে ১২/১৪ বয়রের বাচ্চাদের ১ সেট পোষাক বিক্রি হচ্ছে ৮’শ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। পাঞ্জাবীর দোকানগুলোতে পাঞ্জাবীর পাশাপাশি ট্রাউজারর ও চুড়িদার পায়জামা বিক্রি হচ্ছে বেশি। এবার পাঞ্জাবীর বাজারে সুতি পাঞ্জাবীর চাহিদা বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পাঞ্জাবীর মধ্যে পুষ্পকলি, জিপসী, অক্টপাস, মাসাককালী প্রভৃতির চাহিদা রয়েছে।

ফুলবাড়ী থানা ব্যবসায়ী সমিতির প্রচার সম্পাদক ও নেকসাস ফ্যাশন এর স্বত্ত্বাধিকারী এ.এস.এম. শিবলী সাদিক জানান, পুরোদমে বেচাকেনা শুরু হয়ে গিয়েছে। তাদের দোকানের ঈদ উপলক্ষে অধিকাংশ জিনিসই বিক্রি হয়ে গিয়েছে। তারা আবার নতুন করে ঢাকা থেকে মালামাল আনছে। ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসছে ক্রমান্বয়ে বাজারে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। ক্রেতারা মার্কেটে এসে বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক এবং মূল্য দেখে তাদের বাজেটের সাথে মিলিয়ে নিচ্ছেন। আবার কোন কোন ক্রেতা বাজেটের তোয়াক্কা না করে পছন্দ হলেই কিনছেন তার পছন্দের পোশাক।

কেয়া ফ্যাশন এর স্বত্ত্বাধিকারী মাহবুব জানান, ফুলবাড়ীর মানুষ ঈদ-উল-ফিতরে কাপড়-চোপড় বেশী কেনাকাটা করে। রমজানের মাঝামাঝি সময়ে এত ভীর না থাকলেও রমজানের শেষের দিকে হঠাৎ করে লোক সমাগম একটু বেশী হওয়ায় চাপ সামাল দিতে তাদের বেগ পেতে হচ্ছে।

এবার ফুলবাড়ী বাজারে কাপড়-চোপড়ের পর সবচেয়ে বেশী বিক্রি হচ্ছে সু-স্যান্ডেল। ৫০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত স্যান্ডেলের দাম। তবে ক্রেতারা জানান, দাম বেশি হওয়ায় পছন্দ হওয়া সত্ত্বেও মনের মত স্যান্ডেল কেনা সম্ভব হচ্ছে না। সাধ্যের মধ্যে একটু কম দামে স্যান্ডেল কিনেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। পৌর বাজারের আধুনিক মানের সু-স্যান্ডেলের দোকানগুলোর মধ্যে রয়েছে সৌখিন সু-হাউজ, পাদুকা বিপুনী বিতান, পায়ে পায়ে সু-হাউজ,ফাহমিদ সু-গ্যালারী, বাটা সু-গ্যালারী, জাহাঙ্গীর সু হাউস।

পৌর বাজারের জুতার দোকান সৌখিন সু-হাউজের মালিক, ফুলবাড়ী থানা ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মোঃ মানিক সরকার বলেন, দেরিতে হলের ফুলবাড়ীতে ঈদের বাজারে ক্রমেই জমে উঠছে। ক্রেতারা ঘুরে ঘুরে দেখছেন এবং তুলনা মূলক কম দামের স্যান্ডেল স্ ুবেশী কিনছেন ।

ঈদের আর বাকী ৪দিন, তাই কসমেটিক্স এর দোকানে মহিলা ও তরুনীদের ভীর লক্ষ করা গেছে। চুড়ি, লিপস্টিক, দুল, আংটি, পারফিউম, মেহেদী কিনতে দেখা গেছে ক্রেতাদের।

ফুলবাড়ীর ২টি অভিজাত টেইলার্স ভিআইপি ও বেনিসন তাদের অর্ডার বন্ধ রেখেছে। শাড়ী কাপড়ের দোকানের মধ্যে রমনী শাড়ী ঘর, মনেরেখ শাড়ী ঘর, বধু সাজ এই ৩টি দোকানে বেশি ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ক্রেতাদেরকে এই সব দোকানেও আক্ষেপ করে বলতে শোনা গেছে সব কাপড়ের দাম বেশি, সাধ আছে সাধ্য নাই।

বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারী মার্কেটে দাম বেশি হওয়ায় সবখানেই এর প্রভাব পড়েছে । নূন্যতম লাভেই আমরা বেচা-বিক্রি করার চেষ্টা করছি। এবার ফুলবাড়ী বাজারে ক্রেতাদের মধ্যে তরুন-তরুনীদের ভিড়ই বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে । বিশেষ করে স্কুল কলেজ বন্ধ থাকায় তরুন-তরুনীরা সন্ধ্যার পর দল বেধে দোকানগুলোতে কেনাকাটা করতে আসছে ।

মোস্তাফিজুর রহমান সুমন/২রা জুলাই, ২০১৬ ইং