বৃহস্পতিবার  ২৮শে জুন, ২০১৭ ইং  |   বৃহস্পতিবার  ১৫ই আষাঢ়, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

এইমাএ পাওয়া

ফরিদগঞ্জে চেয়ারম্যান ও মেম্বারের বিরুদ্ধে হতদরিদ্র নারীর গরু নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ

আগস্ট ১৮, ২০১৬

ফরিদগঞ্জ

মাজহারুল ইসলাম অনিক/চাঁদপুর প্রতিনিধি/ 

সালিশের ধার্য্যকৃত টাকা দিতে না পারায় ফরিদগঞ্জে এক হতদরিদ্র নারীর তিনটি গরু নিয়ে গেছে সালিশদার, ইউপি সদস্যসহ লোকজন। উপজেলার ১২নং চরদুঃখিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের নির্দেশে এই ঘটনা হয়েছে বলে জানিয়েছে ওই হতদরিদ্র মহিলা। কোন উপায়ন্তর না দেখে অবশেষে সুফিয়া বেগম নামের হতদরিদ্র নারী চাঁদপুর পুলিশ সুপারের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগের অনুলিপি তিনি ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট জমা দিয়েছেন। এদিকে তিনটি গরু নিয়ে যাওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন ওই ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য।

অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, গত ৩ আগষ্ট রাত সাড়ে ১১টার সময় ওই ইউনিয়নের চরচন্না গ্রামের মিজি বাড়ির সুফিয়া বেগমের গোয়াল ঘরে থাকা একটি ষাঁড়, একটি গর্ভবতী গাভী ও একটি বাছুর জোর পূর্বক নিয়ে যায় ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মিজানুর রহমান (৫০), মো. আবু তাহের মিজি(৪০), মো. শামীম হোসেন, মিজানুর রহমান(৪৫), মো. রতন বেপারী(৩০), মো. আল-আমিন(২২)সহ অজ্ঞাতনামা আরো ৩/৪ জন। গরু নেওয়ার সময় সুফিয়া বেগম বাধা প্রদান করলে উল্লেখিত ব্যক্তিরা তাকে মারধর করে এবং স্থানীয় চেয়ারম্যান হাসান আব্দুল হাইয়ের নির্দেশে গরুগুলো নিয়ে যাচ্ছে বলে তারা জানায়। পরের দিন সকালে সুফিয়া বেগম চেয়ারম্যানের বাড়িতে গরু ফিরত চাইতে গেলে তার ওই ৩টি গরু চেয়ারম্যানের ঘরের পাশে বাঁধা রয়েছে দেখতে পায়। এসময় সুফিয়া বেগম চেয়ারম্যানের কাছে গরু ফেরত চাইলে, জোরপূর্বক তার কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে দেয় এবং বিবাদীদের টাকা দিয়ে তারপর গরু নিয়ে যেতে বলে। আর টাকা না দিলে গরুগুলো ফিরত দিবে না।

সরেজমিনে চরচন্না গ্রামের মিজি বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, অভিযোগকারী সুফিয়া বেগমের বসবাসের জন্য ছোট্ট একটি দোচালা ঘর রয়েছে। ঘরের সামনে একটি ভাঙ্গা গোয়াল ঘর। যেই ঘরের মধ্যেই রাখা হত ওই গরু তিনটি। সুফিয়া বেগম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি যে স্থানে থাকি এটি আমার স্বামীর আরেক স্ত্রীর (মৃত) সতিনের জায়গা। আমি দুই বারে ব্র্যাক সমিতি থেকে টাকা সুদে নিয়ে গরু কিনেছি। প্রতি মাসে ব্র্যাক সমিতিতে আমি ৩ হাজার টাকা করে কিস্তি দেই। আমি খেয়ে না খেয়ে অনেক কষ্ট করে গরু তিনটি বড় করছিলাম। কিন্তু আমার একমাত্র সম্বল গরুগুলো নিয়ে গেছে চেয়ারম্যান ও মেম্বারের লোকেরা। শুনেছি তারা নাকি ষাঁড় গরুটিকে একটি বিশেষ দিনে জবাই করে দিয়েছে। অন্য দু’টি গরু চেয়ারম্যানের বাড়িতে আছে’।

সুফিয়া বেগম জানায়, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাশ^বর্তী ব্যক্তিদের সাথে ঝগড়া হয়। ওই ঘটনায় সালিসে বসা নিয়ে চেয়ারম্যান আমাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ১ লক্ষ টাকা জমা দিতে বলে। টাকা না দেওয়াতে তারা আমার গরুগুলো নিয়ে যায়।

এ নিয়ে জানতে ইউনিয়ন পরিষদের নিকটস্থ চৌমুহনী বাজারে গেলে কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, ৪/৫ দিন গরু ৩টি এই ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন মাঠে বাঁধা ছিলো। এখন গরুগুলো আর নেই। শুনেছি গরুগুলো চেয়ারম্যানে বাড়িতে আছে।

ইউপি মেম্বার মো. মিজানুর রহমানের কাছে মোবাইল ফোনে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, গরু নেওয়ার মত কোন ঘটনাই ঘটে নি। প্রয়োজনে আপনারা সরেজমিন তদন্ত করে যান।

ইউপি চেয়ারম্যান হাসান আব্দুল হাই সাংবাদিকদের বলেন, এ ধরনের কোন ঘটনাই ঘটেনি। তিনি গরু নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নাল আবদিন জানান, যেহেতু পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ দেয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এসর্ম্পকে চাঁদপুর জেলা পুলিস সুপারের কার্যালয়ের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বৃহস্পতিবার ১৮ই আগস্ট, ২০১৬ ইং