মঙ্গলবার  ২৪শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং  |   মঙ্গলবার  ১১ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

এইমাএ পাওয়া

প্রাচীন মিশরের মমী রক্ষায় ভারতীয় প্রযুক্তির ব্যবহার!

জুলাই ৪, ২০১৬

mummy-in-casket

প্রাচীন মিসরের ষষ্ঠ ফারাওর মেয়ে রাজকুমারী নাইশুর মমিটি প্রায় সাড়ে চার হাজার বছরের পুরোনো। দক্ষিণ ভারতের শহর হায়দরাবাদের জাদুঘরে রাখা অমূল্য এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নষ্ট হতে চলেছিল। কিন্তু কোনো রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার না করে দেশীয় প্রযুক্তি প্রয়োগ করেই মমিটি সংরক্ষণ করলেন মুম্বাইয়ের প্রিন্স অব ওয়েলস জাদুঘরের প্রধান কিউরেটর অনুপম শাহ।

মিসরের মমি কেমন করে ভারতে এল? তারও আছে এক ইতিহাস। হায়দরাবাদ জাদুঘরে এ মমি স্থান পায় ১৯২০ সালে। হায়দরাবাদের নিজাম মীর মাহবুব আলী খানের জামাতা নাজির নওয়াজ জং এটি মিসর থেকে কিনে আনেন। নওয়াজ জং কার কাছ থেকে এটি কিনেছিলেন, তা স্পষ্ট নয়।

তবে মনে করা হয়, মমিটি কিনতে তাঁকে ব্যয় করতে হয়েছিল তখনকার এক হাজার মিসরি পাউন্ডের বেশি। নওয়াজ জং এই মমিটি পরবর্তী নিজাম ওসমান আলী খানের হাতে তুলে দেন। তিনিই এটি হায়দরাবাদ জাদুঘরকে দেন।

জাদুঘরে মমিটি সেই থেকে একটি বায়ুশূন্য কাচের বাক্সে রাখা ছিল। বছর খানেক আগে কিউরেটর দেখেন, এটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মূলত রক্ষণাবেক্ষণের জ্ঞানের অভাবই এর জন্য দায়ী ছিল। হায়দরাবাদ জাদুঘর কর্তৃপক্ষ লন্ডনের বিখ্যাত ব্রিটিশ মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষের কাছে এটি সংরক্ষণের কৌশল সম্পর্কে জানতে চায়।

কিন্তু এতে কোনো লাভ হয়নি। এর মধ্যে আবার মমির বাক্সটিও ভেঙে পড়তে থাকে। মমির বিভিন্ন অংশও নষ্ট হয়ে যেতে থাকে। আবরণের ভেতর থেকে প্রাচীন ওই সংরক্ষিত শবদেহের অংশগুলো বেরিয়ে পড়তে শুরু করে। এ সময়ই এর রক্ষায় এগিয়ে আসেন মুম্বাইয়ের কিউরেটর অনুপম শাহ।

গত মার্চে ছয়জন বিশেষজ্ঞকে নিয়ে কাজে নেমে পড়েন তিনি। মমির আবরণ থেকে বের হয়ে আসা অংশগুলো ঠিক করে ফেলেন। এ জন্য তিনি কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করেননি। অনুপম শাহ বলেন, ‘মমিটি এতই ভঙ্গুর হয়ে পড়েছিল যে একে কোথাও নিয়ে যাওয়াও যাচ্ছিল না।

অনুপম শাহ এবং তাঁর বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরা প্রথমে মমিটির এক্স-রে করেন। তারপর একে নতুন তুলোর কয়েকটি স্তরে আবৃত করে ফেলেন। এক্স-রে পরীক্ষায় মমিটি ঠিক আছে বলেই দেখা গেছে। এখন এটি যেন আর ক্ষতিগ্রস্ত না হতে পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সূত্র- বিবিসি।

ই বাংলা পত্রিকা/ আন্তর্জাতিক ডেস্ক- ৭/৪/২০১৬