শুক্রবার  ২৭শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং  |   শুক্রবার  ১৪ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

এইমাএ পাওয়া

দেশের সকল সনাতন ধর্মাবলীদের জাতীয় তীর্থভূমিতে গঙ্গাস্নান

জুন ১৫, ২০১৬

গঙ্গাস্নান

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট গুজরঘাটে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মিলন মেলা তথা গঙ্গাস্নান দশহারা মেলা বুধবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। দশহারা মেলা তথা গঙ্গাস্নান উপলক্ষ্যে ধর্মপ্রাণ সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ধর্মবিশ্বাসী তাদের তীথি অস্থি-বিষর্জন দিতে এবং গঙ্গাদেবী কে পাওয়ায় আসায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ছুঁটে আসে কানসাটের এই পাগলা নদীর ঘাটে। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা সনাতন ধর্মাবলম্বীরা জানান, কানসাটে গঙ্গা আশ্রম এবং শ্মশান গঙ্গাঘাটটি কানসাট বাজারে দক্ষিণ পার্শ্বে অবস্থিত। এ গঙ্গাঘাটটি দেশের সকল সনাতন ধর্মাবলীদের একটি জাতীয় তীর্থভূমি। এই তীর্থ ভূমিকে জানা-বোঝা এবং এর অতীত ইতিহাস, অন্বেষণ করা আমাদের অধিকতর কর্তব্য। সকল ধর্মপ্রাণ হিন্দু সম্প্রাদায়ী নেতাদের অবশ্যই উচিৎ হবে এই তীর্থটিকে গড়িয়ে তোলা। এখানে প্রতি বছর গঙ্গা দশহরা তিথী অনুযায়ী জ্যৈষ্ঠ বা আষাঢ় মাসে সর্ববৃহত্ত গঙ্গাস্নান অনুষ্ঠিত হয়। এরই ধারাবাহিতকায় বুধবার কানসাট পাগলা নদীর তীরে আমরা বিভিন্ন জেলা থেকে এসে একত্রিত হয়েছি এবং গঙ্গাদেবীর কাছে প্রার্থনা করছি। এছাড়া নিজেদের স্বাদ্ধের মধ্যে তারা এখানে এসে আমরা অস্থি-বিষর্জন দিচ্ছি।

ধর্মপ্রাণ সনাতন ধর্মাবলম্বীরা আরো জানান, শুধু গঙ্গাদেবী প্রার্থণার্থে নয়, পাশাপাশি আমরা একের অপরে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক কে আরো স্পন্ধন করাও এটি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা অনেক দিন আমাদের আত্মীয়-স্বজনদের সাথে যোগাযোগ করতে পারিনি। একটি বছর পর আমরা সকল একত্রিত হতে পারায় নিজেদের কে অনেক আনন্দময় লাগছে।

এব্যাপারে কমিটির সভাপতি শ্রী সুবোধ দত্ত জানান, আমরা কানসাট এই পাগলা নদীর তীরে ও এ নদীতে স্নান করে নিজের জীবনে জমে থাকা পাপকে বিষর্জন করি। এছাড়া আমাদের পূর্ব পুরুষের আমল হতে এখানে এ স্নান মেলা হয়ে আসছে। তা আমরা তাদের স্মৃতি এই ধরে রাখতে চাই এবং ধর্মপ্রান হিন্দুরা ভোক্তি সহকারে পালন করে থাকি। তিনি আরও বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বুধবার এ গঙ্গাস্নান অনুষ্ঠিত হয়। তবে আমের চলতি মৌসুমে বিশ্বের সর্ব বৃহত্তম আম বাজার কানসাটে এই উৎসবকে ঘিরে ব্যাপক যানযোট সৃষ্টি হয়।

রিপন আলি রকি,চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি-১৫/০৬/২০১৬ইং