মঙ্গলবার  ২৪শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং  |   মঙ্গলবার  ১১ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

এইমাএ পাওয়া

তিস্তার পানি ফের বিপদসীমার ওপরে, পানিবন্দি ১০ হাজার পরিবার

জুলাই ১৮, ২০১৬

তিস্তার পানি ফের বিপদসীমার ওপরে

শরিফুল ইসলামঃ কয়েক দিনের ভারি বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি তৃতীয় দফায় বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রবিবার (১৭ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমার (৫২ দশমিক ৪০ মিটার) ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও সকাল ৯টায় তা ৭ সেন্টিমিটার কমে এখন বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে, তিস্তার পানিতে নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলা ও লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা ও কালিগঞ্জ উপজেলার প্রায় ২০টি গ্রাম তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় ১০ হাজার পরিবার বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সর্তকীকরণ কেন্দ্র সূত্র জানায়, তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারাজের সবকটি (৪৪টি) স্লুইস গেইট খুলে রাখা হয়েছে।

সূত্র মতে, বর্ষা মৌসুমে তিস্তার পানি এবার তৃতীয় দফায় বিপদসীমা অতিক্রম করলো। এর আগে ২৩ জুন বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ও ২৫ জুন বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল।

এদিকে, তিস্তার বন্যায় ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি, জলঢাকা উপজেলার, গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী ও কৈমারী,লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা,কালিগঞ্জ উপজেলার তিস্তা নদী বেস্টিত চর ও চর গ্রাম এলাকার ২৫টি চর ও গ্রামের ১০ হাজার পরিবার বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে বলে জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।

ঝুনাগাছ চাঁপানী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, ছাতুনামা ও ফরেস্টের চরের ৭শ পরিবারের বসতভিটায় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এসব পরিবারের অধিকাংশ বাড়ি হাটু পানিতে তলিয়ে রয়েছে।

উজানের ঢলে ফুঁসে ওঠা তিস্তা নদীর গতিপথ পরিবর্তনে উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ও লালমনিরহাট জেলার সানিয়াজান এলাকার ২০ হাজার মানুষ চরম বিপাকে পড়েছে। ওইসব গ্রামের ওপর দিয়ে এখন তিস্তা নদী প্রবাহিত হচ্ছে।

নীলফামারীর জেলা প্রশাসক জাকির হোসেন জানান, ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চরখাড়িবাড়িসহ ১০টি গ্রামের অবস্থা ভাল না। এসব এলাকার ঘরবাড়ি, স্কুল, আবাদী জমি, হাটবাজার সব কিছু তিস্তা গ্রাস করে চলেছে। তিনি ওইসব এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণের পাশাপাশি সরকারি সব সেবা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করেন। এছাড়া ওই এলাকায় দ্রুত একটি বাঁধ নির্মাণের জন্য পাউবোর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন।

এলাকার একতার বাজারটি তিস্তা নদীর ভাঙনের কবলে পড়ায় হাটের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো সরিয়ে নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ী আব্দুল হাই (৬৫) জানান, তিস্তার এমন রাক্ষুসী রূপ তিনি আর দেখেননি।

টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন জানান, তিস্তা নদীর গতিপথ পাল্টে যাওয়ায় টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের ১০টি গ্রাম এখন তিস্তা নদীতে পরিণত হয়েছে। সেই সঙ্গে নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাচ্ছে চরখড়িবাড়ি মধ্য চরখড়িবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টাপুর চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টেপাখড়িবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় ও ওই গ্রামের ৩৯ ফিট একটি ব্রিজ।

এছাড়া বিএডিসির চরখড়িবাড়ি এলাকায় গত ২ বছর আগে নির্মিত ১৭ ফিট ব্রিজ, ঝিঞ্জির পাড়ায় এলজিইডির নির্মিত ৭০ ফিট ব্রিজ ও পূর্বখড়িবাড়ি এলাকায় এডিপির ১০ ফিট ব্রিজ বিলিন হয়েছে। এছাড়া ১০ গ্রামের সহস্রাধীক পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে।

বন্যায় চুলা ও টিউবওয়েল ডুবে যাওয়ায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাব দেখা দিয়েছে। পানিবন্দি মানুষজন তাদের ঘর-বাড়ি ভেঙে গবাদী পশু নিয়ে উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে। অনেকে বাধ্য হয়ে বাঁধের উপর ঘর নির্মাণ করেছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, উজানের ঢলে ও ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তার পানি সকাল ৬টা থেকে বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও সকাল ৯টায় ৭ সেন্টিমিটার পানি কমে এখন বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
নীলফামারী প্রতিনিধি/ ১৮ই জুলাই, ২০১৬ ইং