শুক্রবার  ২৭শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং  |   শুক্রবার  ১৪ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

এইমাএ পাওয়া

টুঙ্গিপাড়া পৌরসভায় কোটি টাকার কাজে টেন্ডারবাজির অভিযোগ

জুন ২৫, ২০১৬

টুঙ্গিপাড়া পৌরসভা

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া পৌরসভায় টেন্ডারবাজি করে প্রায় কোটি টাকার কাজ ভাগাভাগি করে নেয়ার অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে পৌর মেয়র ও কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে। একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সিডিউল নিয়ন্ত্রণ ও ঠিকাদারদের বাধা দিয়ে এসব করা হচ্ছে বলে অভিযোগে জানা যায়। টুঙ্গিপাড়া পৌরসভার ২০১৫-১৬ অর্থ-বছরের অধীন উন্নয়ন তহবিল ও বিশেষ বরাদ্দের অর্থে ৬৩টি প্যাকেজের আওতায় সীমিত দরপত্র আহ্বান করা হয়।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, টুঙ্গিপাড়া, উপজেলা প্রকৌশলীর দফতর ও টুঙ্গিপাড়া পৌরসভা থেকে দরপত্রের সিডিউল বিক্রয় করার স্থান ঠিক করা হয়। সিডিউল বিক্রির শেষ তারিখ ছিল ২০ জুন।

আগ্রহী ঠিকাদারদের মধ্যে অনেকে বিভিন্ন প্যাকেজের সিডিউল ক্রয় করেন। কিন্তু ৪১ নং প্যাকেজের ক্ষেত্রে কেবল মাত্র জেলা প্রশাসকের স্থানীয় সরকার শাখায় ৩ সেট ও টুঙ্গিপাড়া পৌরসভায় ৩ সেট ও ইউএনও অফিসে আরও ৩ সেট সিডিউল মোট ৯টি বিক্রি করা হয়। সিন্ডিকেটটি পরিকল্পনা মাফিক আগে ভাগেই ওই প্যাকেজের সিডিউল ক্রয় করে নেন। ফলে অপর আগ্রহী ঠিকাদাররা কোনো স্থান থেকে তা ক্রয় করতে পারেননি।

অভিযোগে বঞ্চিত ঠিকাদাররা জানান, পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডে উপজেলা পরিষদের ভিতরে টয়লেট নির্মাণের জন্য ৯৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকার কাজের ৪১নং প্যাকেজের সিডিউলটি তাদের কাউকেই ক্রয় করতে দেয়া হয়নি। যারা সিডিউলটি কিনতে গেছেন তাদের বাধা দেয়া হয়েছে।

স্থানীয় ঠিকাদার বিএম তৌফিকুল ইসলাম জানান, তিনি গত ২০ স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, গোপালগঞ্জ শাখা থেকে তিনটি পে-অর্ডার নিয়ে ২০ জুন ৪১নং প্যাকেজের কাজের সিডিউলসহ মোট ৩টি প্যাকেজের সিডিউল কিনতে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখায় যান। তার কাছে অপর দুইটি প্যাকেজের সিডিউল বিক্রি করলেও ৪১নং সিডিউলটি না থাকায়-তারা তাকে তা দিতে পারেননি।

টুঙ্গিপাড়া পৌরসভার একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ওই প্যাকেজে মোট ৬টি সিডিউল দরপত্র হিসেবে দাখিল করা হয়। এর মধ্যে তিনটি সিডিউল শতকরা ৫ ভাগ উচ্চ দর ও বাকি তিনটি সিডিউল ৫ নিম্ন দরে দরপত্র হিসেবে জমা দেয়া হলেও বিষয়টি জানাজানি হওয়ার কারণে পরিস্থিতি খারাপ দিকে মোড় নেয়ায় আগেই তা পরিবর্তন করা হয়। পরে সবগুলো সিডিউলই শতকরা ৫ ভাগ কম দরে দাখিল করা হয়েছে। যাতে ভবিষ্যতে লটারির মাধ্যমে কাজটির ভাগ্য নির্ধারিত হলেও তাদের সে উদ্দেশ্য সফল হয়।

জেলা প্রশাসকের স্থানীয় শাখা সূত্রে জানা গেছে, ৪১নং প্যাকেজে মাত্র ৩ সেট সিডিউল তাদের দেয়া হয় যা সকালের দিকে বিক্রি হয়ে যায়। পরে পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কাছে ওই সিডিউল চাওয়া হলে সিডিউল দিতে অক্ষমতা প্রকাশ করেন টুঙ্গিপাড়া পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে স্থানীয় আরেক ঠিকাদার অভিযোগ করে বলেন, কাজের অন্য সব প্যাকেজের প্রতিটিতে ৯০-১০০ সিডিউল বিক্রি করা হলেও মেয়র ও কাউন্সিলর সমর্থিত সিন্ডিকেটের দাপটের কারণে ৪১নং প্যাকেজের কাজের সিডিউল আমরা কিনতে পারিনি। সিন্ডিকেটের মেয়র ও কাউন্সিলররা কাজটি বাগিয়ে নিতে সিডিউলটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন বলে আমরা পরে জানতে পারি। টুঙ্গিপাড়ায় এ ধরনের টেন্ডারবাজি আমাদের কাম্য নয়। আমরা এর প্রতিকার চাই।

এ ব্যাপারে টুঙ্গিপাড়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সামশুল আলম জানান, দরপত্রের ৪১নং প্যাকেজে মোট ৬টি দরপত্র জমা পড়েছে। প্যাকেজের প্রতিটি কাজই শতকরা ৫ ভাগ নিম্ন দরে দরপত্র জমা হয়েছে। তবে এ প্যাকেজে কয়টি দরপত্র বিক্রি হয়েছে তা তিনি জানাতে পারেননি। কোনো সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে এসব হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জানা মতে এসব কিছু হয়নি। এ ব্যাপারে কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ আমি পাইনি।

এদিকে, সিন্ডিকেট কাজটি পেতে নানান প্রক্রিয়া ও কৌশল এবং প্রভাব খাটিয়ে যাচ্ছেন। এতে ঠিকাদার মধ্যে দারুণ ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

টুঙ্গিপাড়া পৌরসভার মেয়র শেখ আহম্মদ হোসেন মীর্জা বলেন, আমরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং টুঙ্গিপাড়া ইউএনও অফিসে সিডিউল দিয়েছি। কেউ যদি না ক্রয় তাহলে আমরা কি করব? একটি স্বার্থন্বেষী মহল এসব উল্টোপাল্টা বলে বেড়াচ্ছেন। কোনো ভাবেই টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করা হইনি। আপনারা এসে ভালো করে বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবেন।

এম শিমুল খান, সাংবাদিক, গোপালগঞ্জ /২৫.০৬.২০১৬ইং