বুধবার  ২৫শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং  |   বুধবার  ১২ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

এইমাএ পাওয়া

জমে উঠেছে গোপালগঞ্জের ঈদ বাজার

জুন ২৮, ২০১৬

গোপালগঞ্জের ঈদ বাজার

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গোপালগঞ্জে ঈদের বাজার জমে উঠেছে। ঈদের বাকি আর মাত্র অল্প কয়েক দিন। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে মার্কেট গুলোতে ক্রেতাদের ভিড় ততোই বাড়ছে। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কেনাকাটা চলছে।

মার্কেট গুলো ছোট-বড়, কিশোর-কিশোরীদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে। এমনকি থেমে নেই ফুটপাতের দোকান গুলোর কেনাকাটা। এদিকে, টেইলার্সের দোকান গুলোতে পোষাক তৈরির ব্যস্ততা বাড়ছে। যে করে হোক ঈদের আগে অর্ডারী পোষাক সরবরাহ করতেই হবে। টেইলার্সের কারিগররা দিন-রাত বিরামহীন ভাবে কাজ করছে। আবার অনেকে সময়ের অভাবে ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে পারছেন না।

জেলার বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এবারের ঈদ বাজারে নরমাল, নবাব, প্রিন্ট, বুটিক ও হাতে কাজ করাসহ বাহারী ডিজাইনের নানা বৈচিত্রের ছেলেদের পাঞ্জাবী বেশি বিক্রি হচ্ছে। ঈদে পাঞ্জাবীর কদর প্রতি বছরের মত এবারও রয়েছে। ঈদ উৎসবে অন্যান্য পোষাকের সাথে পাঞ্জাবী থাকা চাই। ঈদে শিশু-কিশোর, বড়দের সবার বাড়তি আকর্ষণ পাঞ্জাবী।

পাঞ্জাবীর পাশাপাশি তরুণদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে ফিটিং হাফ শার্ট, ফুল শার্ট, শর্ট পাঞ্জাবী। এছাড়া মেয়েদের থ্রি-পিছের পাশাপাশি বাড়তি আকর্ষণ মাস্তানি, লেহেঙ্গা, কিরনমালা, প্যাজি, ফুলপরি, ললিতা, মাছাক্কালি, স্কার্ট প্রভৃতি। শার্টের মধ্যে তরুণদের ঝোক বেশি ফুল ও হাফ হাতা। আবার অনেকে টি শার্ট, শর্ট পাঞ্জাবী পছন্দ করছে। এসব পোষাকের সঙ্গে মিলিয়ে অনেকে বেল্ট, নানা রঙের জুতা-সেন্ডেল এমনকি বাহারী ডিজাইনের সানগ্লাস-চশমা কিনছে।

শহরের দোকানগুলোতে নামী-দামী কোম্পানির জুতা-স্যান্ডেলের চাহিদা লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া সুতি ও সিল্কের পাঞ্জাবী, থ্রি পিছ, শাড়ি, শিশুদের রেডিমেন্ট জামা কাপড় বিক্রি হচ্ছে। অন্যন্য বছরের ন্যায় এ বছরও তৈরী পোষাকের কারুকার্যের জন্য লেইস, চুমকি, পুথির কদর বেড়েছে। লেইস, চুমকি, পুথি ও স্টোনের ডিজাইনে এসেছে বৈচিত্র। যে সব কিশোরী ও তরুণীরা তৈরী পোষাকের উপর নির্ভর, তারা ঈদে তৈরী পোষাকে বৈচিত্র্য ও আভিজাত্যের ছোঁয়া দিতে চলেছেন লেইস, চুমকি, পুথি ও স্টোনের দোকানে।

এ বছর বাজারে অভিজাত বস্ত্র বিতান গুলোতে এসেছে টাঙ্গাইল, ক্রেপ নেট, বাসু, সিমার, স্মোক, পূর্বা সোহানা মসলিন, ক্যাটরিনা ক্রেপ, মৌসুমী সিল্ক, জয়পুরী কারচুপি ও জামদানি শাড়ি। এছাড়া পাওয়া যাচ্ছে মসলিন সিল্ক, মটকা শাড়ি, তাঁত, জয়ন্ত্রী শিল্পের কাজ করা শাড়ি। এছাড়াও বাজারে এসেছে জুট বেনারসি, মিরপুরী কাতান, জামদানী সিল্ক, টাঙ্গাইল তাঁত, জর্জেট ও হাফসিল্ক শাড়ি।

পোষাকের পাশাপাশি চুড়ি, ফিতা, মেহেদী, ক্লিপ, পায়েলসহ রূপচর্চার কসমেটিক্স, পারফিউম সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে। আতর, টুপি, জায়নামাজ ইত্যাদি বিক্রি হচ্ছে প্রচুর।

জুয়েলার্সের দোকানগুলোতে উচ্চাবিলাসী ক্রেতাদের ভির লক্ষ্য করা গেছে। সীমাপ্লাজা, শেখ প্লাজা, হাজী মার্কেট, মুন্সী মার্কেট, সরদার প্লাজা, রিফাত সুপার মার্কেট, নজরুল সেন্টার, মাহমুদ সুপার মার্কেট, সিকদার মার্কেট, জাহানারা প্লাজা, হাজী প্লাজা, নূরুজ্জামান সুপার মার্কেট, মোসলেম প্লাজাসহ বিভিন্ন বিপনী বিতান ও শপিংমল ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের কেনাকাটায় নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণীদের উপচে পড়া ভিড়।

এদিকে বিক্রেতারা নতুন ডিজাইনের অজুহাত দেখিয়ে পণ্যের দাম বেশি নিচ্ছে বলে অনেকে জানান। অভিজাত শপিংমল থেকে শুরু করে সাধারণ বিপনী বিতান, এমনকি ফুটপাতেও দাম কিছুটা বেশি নেওয়া হচ্ছে। মধ্যবিত্ত ও নিন্ম আয়ের সাধারন মানুষ শহরের ফুটপাথ ও বিভিন্ন হাট-বাজার থেকে ঈদের পোষাক কিনছেন। আবার অনেকে বেশী দামের গার্মেন্স পোষাকের পরিবর্তে ছিট কাপড় কিনে দর্জির দোকান থেকে পোষাক তৈরি করছেন। নারী-পুরুষের সব ধরনের পোষাক, জুতা, কসমেটিক্স, গহনা সামগ্রীতে একই ভাবে দাম আদায় করা হচ্ছে। ঈদ মানে তারুণ্যেও হাসি-খুসি আর আনন্দ। এই ঈদে আরো বাড়িয়ে দিতে চাই নতুন জামা-কাপড়। আর তাই ঈদে ছেলে-মেয়েদের চাহিদা পূরণ করতে মধ্যবিত্ত পরিবারেরা হিমশিম খাচ্ছে।

গত বছরের তুলনায় জিনিসপত্রের দাম দ্বিগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর যে থ্রি পিছের দাম ছিল ২ হাজার টাকা, এ বছর সে থ্রি পিছের দাম ৩ হাজার টাকা। ঈদের বাজার করতে আসা মিম জানান, গতবারের তুলনায় এবার পোষাকের দাম অনেক বেড়ে গেছে। গোপালগঞ্জ শহরের সরদার ক্লথ স্টোরের বেলাল সরদার জানান, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেলেও এবার ঈদের বেচাকেনা ভাল হচ্ছে। জেলা ও উপজেলা শহরসহ গ্রামগঞ্জের হাট-বাজারেও সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কেনাকাটা চলছে।

এম শিমুল খান, সাংবাদিক, গোপালগঞ্জ- ২৮শে জুন, ২০১৬ ইং