বুধবার  ২৫শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং  |   বুধবার  ১২ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

এইমাএ পাওয়া

চুনারুঘাটে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের হাতে জিম্মী স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারাঃনকল কে আসল করে লক্ষ লক্ষ টাকার বানিজ্যের অভিযোগ 

আগস্ট ২, ২০১৬

মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার

চুনারুঘাটের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলহাজ্ব আঃ ছামাদের হাতে জিম্মী হয়ে আছেন চুনারুঘাটের স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। টাকা দিলে তাদের কে ভূয়া সনদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে দাপট দেখিয়ে তাদের কে মুক্তিযোদ্ধা বানানো হচ্ছে, আবার কেউ টাকা না দিলে আসল মুক্তিযোদ্ধা আসল মুুক্তিযোদ্ধা হিসেবে থাকলেও তিনি সরকারী কোন ধরণের সুযোগ সুবিদা দুরের কথা পরিচয় পর্যন্ত দিতে পাচ্ছেনা। শুধু তাই নয়, বর্তমান মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার তিনি নিজেও একজন ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা বলে জানিয়েছেন সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল খালেক ।

মুক্তিযোদ্ধা আঃ হক জানান, যে সমস্ত ভূয়া মুক্তিযোদ্ধারা সরকারী ভাতা প্রতিমাসে পাঁচ হাজার টাকা করে পাচ্ছেন, তারা তাদের টাকা থেকে প্রত্যেকে ১ হাজার টাকা করে কমান্ডারকে দিতে হয়। তাদের ছেলে মেয়েরা যদি কোন চাকরী নিতে চায় থাকে মোটা অংকের টাকা ঘুষ দিলে সুপারিস হয় না হলে হয়না।

চুনারুঘাটে যে সমস্ত ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা আছে সবাই বর্তমান কমান্ডার ও তার সহযোগীদের মদদদে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ দিয়ে সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।যাদের মধ্যে অনেক মুক্তিযোদ্ধকালীন রাজাকার, আল বদরসহ বিভিন্ন সংগঠনের লোকছিল। এমনকি জামায়াত শিবিরের অনেক লোকও এর মধ্যে স্থান পেয়েছে বলে সুত্রে জানাযায়।

বর্তমান মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলহাজ্ব আঃ ছামাদ এর বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের হবিগঞ্জের আদালতে চুনারুঘাটে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আবদুস ছামাদের বিরুদ্ধে এক মুক্তিযোদ্ধাকে জাল মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও ২০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমল আদালত-২ হবিগঞ্জে মামলা করা হয়। এ আলোচিত মামলাটি দায়ের করেন উপজেলার রাণীগাঁও ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাসিম। মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১২ সালের ২৫ জুন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার আবদুস ছামাদ মুক্তিযোদ্ধার সনদ দেয়ার নামে আবদুল হাসিমের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। পরে ২০১৩ সালের ৬ জুন আবদুস ছামাদ ওই মুক্তিযোদ্ধাকে একটি সনদ (নং-ম ৫৫৯২২ ও স্মারক নং মুঃ বিঃ ম/মাঃ/ হবিগঞ্জ/প্রঃ ৩/১৮/২০০৪/১৪৬৭ তাং- ১০/০৩/১৪১২বাং/ ২৪/০৬/২০০৪ইং) সনদ দেন। ২০১২ সালের ৩ জুলাই মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাসিমের ছেলে সাইফুল ইসলাম মুক্তিযোদ্ধা কোটায় কনস্টেবল পদে নিয়োগ পান। নিয়োগ পাওয়ার পর বিভিন্ন স্থানে ট্রেনিং শেষে সাইফুল ইসলামের কর্মজীবন শুরু হলে একপর্যায়ে তার বাবার মুক্তিযোদ্ধা সনদটি জাল বলে প্রমাণিত হয়। ফলে পুলিশ কনস্টেবল সাইফুল ইসলাম তিনদিন জেল খাটেন। জেল খাটার পর সাইফুলের জামিন হয়। পরে মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাসিম খোঁজখবর নিয়ে বুঝতে পারেন ডেপুটি কমান্ডার আবদুস ছামাদের দেয়া সনদটি জাল। এ রকম অনেক মুক্তিযোদ্ধা তার দলে আছে যারা তার ক্ষমতা ও দাপটে চলে।

কমান্ডার ছামাদ স্থানীয় ভাবে প্রভাবশালী হওয়াতে তার বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ বা সংবাদ প্রকাশ করতে সাহস পায়না। তিনি যাকে সর্ম্থন করেন সে মহাতবিয়তে আছে, আর যে তার সাথে উল্টাপাল্টা করতে চায় তাকে স্থানীয় কিছু অসাধু সাংবাদিক দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করিয়ে পরে সনদ বাতিল ও সব ধরণের সুযোগ সুবিদা থেকে বঞ্চিত করে দেন। সে তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে অভিযোগ করে তার এই রকম অত্যাচার ও ঘুষ বানিজ্য, জিম্মী ও অবিনব কায়দায় চাঁদা আদায় থেকে মুক্তি পেতে চায় চুনারুঘাট উপজেলার সকল মুক্তিযোদ্ধাগণ। সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে এর বিরুদ্ধে যথাযত ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা আকুল আবেদন জানাছেন।
স্টাফ রিপোর্টার/ চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) থেকে/মঙ্গলবার ২রা আগস্ট,২০১৬ ইং/১৮ই শ্রাবণ,১৪২৩ বঙ্গাব্দ