বৃহস্পতিবার  ২৯শে জুন, ২০১৭ ইং  |   বৃহস্পতিবার  ১৫ই আষাঢ়, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

এইমাএ পাওয়া

চুনারুঘাটে প্রতিপক্ষকে ফাসাতে ৭ মাসের শিশু কন্যাকে কুপিয়ে হত্যা-মা-দাদীসহ ৩ জন আটকঃঘাতক পিতা লিটন পলাতক

আগস্ট ২৩, ২০১৬

শিশু কন্যাকে কুপিয়ে হত্যা

এম এস জিলানী আখনজী/চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি/ 

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ৭ মাসের শিশু ইফা আক্তারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরো এক শিশু। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে মা-দাদীসহ ৩ জনকে আটক করেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই ঘাতক পিতা লিটন মিয়া পলাতক রয়েছে। আটককৃতরা হলো নিহত শিশুর মা মিলন বেগম (৩৫), দাদী খুদেজা বেগম (৫০) ও একই গ্রামের প্রতিবেশী মর্ত্তুজ আলী (৫০)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চুনারুঘাট উপজেলার জারুলিয়া গ্রামের মৌলভীবাড়ীর সোহেল মিয়ার সাথে দীর্ঘদিন যাবত ধাঁনের জমিতে মাছ ধরা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল লিটন মিয়ার। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার মৌলভীবাড়ী ও তরফদার বাড়ীর সোহেল মিয়া ও আ: রউফকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করতে চায় লিঠন মিয়া। লিঠন মিয়া তার ছোট ভাই চাওয়ালের হাতে পিকল দিয়ে সঙ্গে নিয়ে যায় ঐ দুই পরিবারের লোকজনকে মারতে। লিঠন উচ্চ সুরে বলে আজ থেকে কুপা-কুপি শুরু। এর পূর্বেও তার ভাই চাওয়াল মৌলভীবাড়ীর রফিককে পিকল দিয়ে আঘাত করে।

শিশু কন্যাকে কুপিয়ে হত্যা( শিশুর মা)

শিশু কন্যাকে কুপিয়ে হত্যা( শিশুর মা)

এদিকে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গত সোমবার ভোর রাতের যেকোন এক সময়ে লিটন মিয়া তার ৭ মাসের শিশু কন্যা ইফা আক্তারকে কুপিয়ে হত্যা করে। এ সময় পাশে ঘুমিয়ে থাক অপর শিশু রিফা আক্তার (৪) কেদে উঠলে পাষন্ড পিতা তাকেও কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে। ভোরে আতুরুন্নেছা নামের একজন মহিলা লিঠনের বাড়ীতে যায়, সেখানে গিয়ে দেখে বাড়ীতে কেউ নেই তবে আহত রিফা আক্তার (৪) কান্না করছে। ঐ ছোট্র মেয়েটি আতুরুন্নেছাকে বলে আমার বাবা আমাকে মারছে। বিষয়টি সকালে জানাজানি হলে আত্মীয় স্বজনরা আহত অবস্থায় শিশু রিফাকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। প্রথমে ঘাতক লিটন মিয়া পাড়া প্রতিবেশীকে জানায় প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের কন্যাকে হত্যা করেছে। এদিকে গুরুতর আহত অবস্থায় শিশু রিফা (৪) কে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে সে উপস্থিত পুলিশ ও গণমাধ্যম কর্মীদের জানায় তাদেরকে তাদের পিতা ধারালো অস্ত্রদিয়ে আঘাত করেছে। এরপর পুলিশ বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চালায়। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ সুপার জয়দেব কুমার ভদ্র ও শ্রীমঙ্গল ব্যাটেলিয়ান র‌্যাব-৯ এর প্রধান এসপি খোরশেদ আলমসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এ সময় তারা আশপাশের লোকজনের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করেন। এর কিছুক্ষন পরই ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ নিহতের মা মিলন বেগম দাদী খুদেজা বেগম ও প্রতিবেশী মর্ত্তুজ আলীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। থানায় নিহতের মা মিলন বেগমকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছ এবং ঘটনার সর্ম্পকে বিস্তারিত জানিয়েছে তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ বিষয়টি প্রকাশ করছে না।

অপর একটি সূত্রে জানা গেছে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক মা মিলন বেগম ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন এবং ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। এ ব্যাপারে চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নির্মলেন্দু চক্রবর্তী জানান, ঘটনার সাতে জড়িত থাকার অভিযোগে মা-দাদী ও অপর একজনকে আটক করা হয়েছে। থানায় তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি বলেন ঘটনারমুল নায়ক লিটনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আশাকরি দ্রুত তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে। তিনি জানান এ ব্যাপারে পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
মঙ্গলবার ২৩শে আগস্ট,২০১৬ ইং/৮ই ভাদ্র, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ