মঙ্গলবার  ২৪শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং  |   মঙ্গলবার  ১১ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

এইমাএ পাওয়া

চাঁদপুরে আলুর বস্তার চাপায় শ্রমিকের মৃত্যুঃঘটনা ধামাচাপা

জুন ২৮, ২০১৬

চাঁদপুরে আলুর বস্তার নিচে চাপা পরে জাকির (৩০) নামে এক শ্রমিকের করুন মৃত্যু হয়েছে।এই ঘটনা পুলিশকে না জানিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দিতে লাশ দাফন করার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ করেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

সোমবার বিকেল ৩ টায় পুরানবাজারের আড়ৎ পট্টিতে রশিদ আখনের ছেলে ফরিদ আখনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এই ঘটনা ঘটে। নাম প্রকাশে অনিশ্চুক স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী জানায়, গুরুতর আহত অবস্থায় জাকির কে স্থানীয় দোকানদাররা উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থার অবনতি দেখে ঢাকায় প্রেরণের নির্দেশ দেন। কিন্তু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক ফরিদ আখন অবহেলা করে তাকে ঢাকায় না নিয়ে হাসপাতালে রাখেন। পরে শ্রমিক জাকিরের দেহ নিস্তেজ হয়ে পরলে অবশেষে তাকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

আরোও জানা যায়, জাকিরকে মতলব পর্যন্ত নেওয়ার পর সে বিকেল সাড়ে ৫টায় মৃত্যুর কোলে ঢুলে পরে। পরে লাশ গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। নিহত জাকির সদর উপজেলার চাঁন্দা ইউনিয়নের বাখরপুর গ্রামের মৃত কাশেমের ছেলে।

নিহত জাকিরের স্ত্রী জানায়, দীর্ঘদিন যাবত সে পুরানবাজারের ফরিদ আখনের আড়ৎ দোকানে শ্রমিকের কাজ করে আসছিলো। ঘটনার দিন বিকেলে আলুর বস্তার খামাল ঘায়ে পরে সে গুরুত্বর আহত হয়। তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর ডাক্তার ঢাকায় রেফার করলে দোকান মালিক চিকিৎসার কোন টাকা না দেওয়ায় ঘটনার পর পরই তাকে ঢাকায় নেওয়া সম্ভব হয়নি। অবশেষে তাকে ঢাকায় নেওয়ার পথে মতলবে যাওয়ার পর চিকিৎসার অভাবে তার করুন মৃত্যু হয়। পরে তারা ঘটনা ধামাচাপা দিতে মালিক পক্ষ কাউকে বুঝতে না দিয়ে নিহত জাকিরকে গ্রামের বাড়ি বাখরপুরে পাঠিয়ে দেয়। জাকিরের পরিবারের বাবা ও মা কেউ বেঁচে নেই। বর্তমানে তার দুই সন্তান রয়েছে।
এদিকে জাকিরের এই করুন মৃত্যুতে তার পরিবারের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। এলাকাবাসি এই মৃত্যুর ঘটনায় দোকান মালিককে দোষারোপ করেন এবং সঠিক সময়ে ঢাকায় নেওয়া হলে জাকির কে বাঁচানো সম্ভব হতো।

চাঁদপুর প্রতিনিধি- ২৮শে জুন, ২০১৬ ইং