বৃহস্পতিবার  ২৬শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং  |   বৃহস্পতিবার  ১৩ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

এইমাএ পাওয়া

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান খাজার বিরুদ্ধে শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগ

আগস্ট ২৩, ২০১৬

খাজা নেওয়াজ

এম শিমুল খান/গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি/
গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান খাজা নেওয়াজের বিরুদ্ধে শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে। সোমবার বিকালে গোপালগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল গোপালগঞ্জের আদালতে তার বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করা হয়। যার মামলা নং-২৮৩, তারিখ ২২.০৮.২০১৬ ইং।

গোপালগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল গোপালগঞ্জের বিজ্ঞ বিচারক মো: দলিল উদ্দিন অভিযোগটি কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছেন। মামলাটি দায়ের করেন নির্যাতনের শিকার সাড়ে ৮ বছর বয়সী শিশুর মা কাশিয়ানী উপজেলার সাফলিডাঙ্গা গ্রামের মিনারা বেগম।

ভুক্তভোগী ও মামলার বিবরনে জানা যায়, কাশিয়ানী উপজেলার সাফলিডাঙ্গা গ্রামের একটি ভবনে বাদী তার সাড়ে ৮ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে বসবাস করতেন। একই ভবনের অন্য একটি রুমে জনৈক ফরহাদ নামের এক ব্যক্তি ভাড়া থাকতেন। সেখানে প্রায় প্রতিদিনই কাশিয়ানী উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান খাজা নেওয়াজ মদ, গাজা, ইয়াবা সেবন করতো। ঘটনার দিন ২৮ জুলাই বিকাল ৫টার দিকে ঘর ছেড়ে ফরহাদ বাইরে যায়। এ সময় খাজা ওই শিশুটিকে ডেকে ঘরে নিয়ে যায়। এরপর ঘরের দরজা আটকিয়ে শিশুটিকে জোর করে মদ খাইয়ে ধর্ষনের চেষ্টা চালায়।

এক পর্যায়ে মেয়েকে ঘরে না পেয়ে ফরহাদের রুমে মেয়েকে খুজতে গেলে বিষয়টি মেয়ের মা মিনারা বেগম দেখতে ও জানতে পারে। বাদী তার আরজিতে উল্লেখ করেন তিনি এতদিন লোক লজ্জার ভয়ে অভিযুক্ত খাজা নেওয়াজ এলাকার প্রভাশালী হওয়ায় এবং বিষয়টি স্থানীয় ভাবে মিমাংশার চেষ্টা চালায়। ঘটনার ২৬ দিন পর মিনারা বেগম নিরুপায় হয়ে আদালতের শরনাপন্ন হন।

এদিকে কাশিয়ানী উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান খাজা নেওয়াজের বিরুদ্ধে শিশু যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হওয়ায় এলাকায় সাধারন মানুষের মনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। খাজা নেওয়াজের বিরুদ্ধে ব্যাপক গুঞ্জন ও নানা অপকর্ম ধীরে ধীরে প্রকাশ পাচ্ছে। খাজা নেওয়াজের এহেন অনৈতিক কর্মকান্ডের সুষ্ঠ বিচার দাবী করেছে কাশিয়ানী উপজেলার এলাকার সাধারন মানুষ।

এ ব্যাপারে নির্যাতিত শিশুর মা ও মামলার বাদী মিনারা বেগমের সাথে তার ব্যবহিৃত মোবাইল ০১৯২০-১৭৫৫৮৮ নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কাশিয়ানী উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান খাজা নেওয়াজ এলাকায় একজন কু প্রকৃতির লোক। মদ, গাজা, ইয়াবা খাওয়া ও লোক মারফত বিক্রি করে থাকেন তিনি। ঘটনার দিন সে আমার মেয়েকে জোর করে মদ খাইয়ে ধর্ষনের চেষ্টা চালায়। এ সময় সে আমার মেয়ের হাত পা বেঁধে নির্যাতন করে। আমি তার সুষ্ঠ বিচার চাই যাতে করে আর কোন শিশু যেন তার এ নির্যাতনের শিকার না হয়। তিনি আরো বলেন, আমি আদালতে আমার মেয়ের যৌন নির্যাতনের বিচার চেয়ে যে মামলা করেছি। মামলা করার পর থেকে খাজা নেওয়াজের পক্ষে কিছু মুখোশধারী লোক আমাকে ও আমার মেয়েকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় জীবন যাপন করছি।

এ ব্যাপারে কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোক্তার হোসেন মোল্লার ব্যবহিৃত মোবাইল ০১৭১২-৭১২১৩৬ নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কাশিয়ানী উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান খাজা নেওয়াজ আসলে ভাল লোক না। ইতিপুর্বে তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ উঠেছে। তিনি আরো বলেন, খাজা নেওয়াজ শুধু মাদক সেবনই করেন না লোক মারফত বিক্রিও করে থাকেন। আর সে যে ওই শিশু যৌন নির্যাতন করেছে আমি তার সুষ্ঠ বিচার চাই।

এ ব্যাপারে কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ব্যবহিৃত মোবাইল ০১৭১৩-৩৭৩৫৭৪ নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শিশু যৌন নির্যাতনের ব্যাপারে ইতিমধ্যে আমাদের থানায় একটি মামলা রুজ্জু করা হয়েছে যার নং-১৫ তারিখ ২৩.০৮.২০১৬ ইং। মামলাটি তদন্তর জন্য এসআই শাহ জামালকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তা ছাড়াও ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তাকে গোপালগঞ্জ আড়াইশ শয্যা হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে। তবে আসামী গ্রেফতারের জন্য পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন এলাকাবাসী জানায়, খাজা নেওয়াজ ভাল লোক না। তিনি আগেও এর রকম বহু অপকর্ম করেছে তার এক ভাই পুলিশের ওসি যার কারনে ভয়ে কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায় না। আমরা শিশু যৌন নির্যাতনের সুষ্ঠ বিচার চাই।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত কাশিয়ানী উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান খাজা নেওয়াজ এর ব্যবহিৃত মোবাইল ০১৭১২-৯৮০০০৩ নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন একটি চক্র আমাকে সমাজে হেয় করার জন্য আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।
মঙ্গলবার ২৩শে আগস্ট,২০১৬ ইং/৮ই ভাদ্র, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ