মঙ্গলবার  ২৪শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং  |   মঙ্গলবার  ১১ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

এইমাএ পাওয়া

গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় বিশ্ব নেতৃবৃন্দের উদ্বেগ!

জুলাই ৩, ২০১৬

g12

গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে ইতালি ও জাপানের সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রাণ হারিয়েছেন। ঢাকায় ওই দুই দূতাবাস গতকাল শনিবার এ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীকে ফোন করে বিয়োগান্ত ওই ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাওলো জেনতিলোনি ও জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং দেশ দুটির কূটনীতিকেরা গতকাল দুপুরে এ তথ্য জানান।

এই জঙ্গি হামলা-পরবর্তী নিরাপত্তা প্রস্তুতি এবং হামলা নিয়ে আলোচনার জন্য আজ রোববার ঢাকায় আসছেন জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শেইজি কিহারা।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সন্ধ্যায় জানান, গুলশানের জঙ্গি হামলা নিয়ে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে ও ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করে সমবেদনা জানিয়েছেন। তাঁরা জঙ্গি মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

জঙ্গি হামলায় হতাহত ব্যক্তিদের বিষয়ে জাপান ও ইতালি দূতাবাসে যোগাযোগ করা হলে আর্টিজান বেকারির হামলার ব্যাপারে কিংবা নিহত ব্যক্তিদের ব্যাপারে কোনো মন্তব্য জানা যায়নি। দূতাবাস দুটির কূটনীতিকেরা জানান, ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিক মতামত দেবে। ওই দুই দেশের কূটনীতিকদের পাশাপাশি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে দেশ দুটি সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।

ইতালি, জাপান ছাড়াও জঙ্গি হামলা-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস, যুক্তরাজ্য হাইকমিশনসহ বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ড গুলশানের সন্ত্রাসী হামলায় হতাহত ও তাঁদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে গতকাল টুইট করেছেন। তিনি জানান, কোনো ব্রিটিশ নাগরিক ভয়ানক ওই হামলার কবলে পড়েছেন কি না, সে ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের কাছে খোঁজ নিচ্ছে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুগো সয়ার সহিংস হামলায় উদ্বেগ জানিয়ে টুইট করেছেন। হুগো সয়ার বলেন, ‘ভয়ানক ও কাণ্ডজ্ঞানহীন এই হত্যার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। হতাহত লোকজন ও তাঁদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।

জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাংক ওয়াল্টার স্টেইনমেইয়ার এক বিবৃতিতে গুলশানের হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন। ঢাকায় জার্মান দূতাবাস থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী নৃশংস ওই হামলার জন্য বাংলাদেশের পাশাপাশি ইতালি, জাপান ও ভারতের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ঢাকার হামলা আবারও প্রমাণ করেছে, ইসলামি সন্ত্রাসবাদ সারা বিশ্বের জন্য হুমকি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ঐক্যবদ্ধভাবে এর মোকাবিলা করা উচিত।
এদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জশ আর্নেস্ট ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র জন কারবি গতকাল পৃথক বিবৃতিতে গুলশানের সন্ত্রাসী হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁরা বলেন, ঘৃণ্য এই হামলায় এক মার্কিন নাগরিক, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, কয়েকটি দেশের নাগরিকসহ ২০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। জন কারবি বলেন, বাংলাদেশে সহিংস উগ্রপন্থা দমনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অঙ্গীকারকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করে।

এদিকে জঙ্গি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে চলাফেরায় নিজেদের নাগরিকদের সতর্ক করে গতকাল ভ্রমণ-সংক্রান্ত সতর্কবার্তা হালগানাদ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া। সূত্র- প্রথম আলো।

ই বাংলা পত্রিকা/ জাতীয় ডেস্ক- ৭/৩/২০১৬