বৃহস্পতিবার  ২৬শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং  |   বৃহস্পতিবার  ১৩ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

এইমাএ পাওয়া

গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জে বন্যায় ১৮ হাজার মানুষ পানি বন্দি

জুলাই ১৯, ২০১৬

পানি বন্দি

মোঃ নুরে শাহী আলম লাবলু: গত কয়েক দিনের ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানি বন্দি হয়েছে প্রায় ১৮ হাজার মানুষ। নদী ভাঁঙ্গন তীব্র হওয়ায় এ পর্যন্ত ৪শ পরিবারের ঘর-বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে ।

গত ৫ দিন ধরে একটানা ভারি বর্ষন ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে উপজেলার ৬ ইউনিয়নের চরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় ১৮ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। সেই সাথে দেখা দিয়েছে ব্যাপক নদী ভাঁঙ্গন। তলিয়ে গেছে হাজার হাজার হেক্টর তোষা পাট ক্ষেত, বীজতলা ও সবজি ক্ষেত। পানি বন্দি মানুষজন গবাদি পশু, হাঁস-মুরগী নিয়ে অতি কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। অনেকেই বন্যা নিয়ন্ত্রন বেড়িবাঁধে ও আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়ে অবর্ণনীয় অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

বন্যা কবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানিয় জলের তীব্র সংকট। কাপাসিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মঞ্জু মিয়া জানান, প্রবল বর্ষণ ও বন্যার পানির তোড়ে বাদামের চর, ভাটি কাপাসিয়া, পূর্ব লালচামার, পশ্চিম লালচামার, উজান বুড়াইল, ভাটি বুড়াইল এলাকায় ব্যাপক নদী ভাঁঙ্গন দেখা দেয়ায় এ পর্যন্ত ৪শ পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় ৭ হাজার মানুষ। হরিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোজাহারুল ইসলাম জানান, তার ইউনিয়নে প্রায় ৫ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন। বেলকা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিলুল্ল্যাহ্ জানান, তার ইউনিয়নের চরাঞ্চলের প্রায় ৩ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন।

এছাড়া শ্রীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম ই-বাংলা পত্রিকাকে জানান যে, তার ইউনিয়নে এ পর্যন্ত ৩ হাজার মানুষ পানি বন্দি অবস্থায় জীবন-যাপন করতে গিয়ে দূর্ভোগে পড়েছেন। এ পর্যন্ত পানি বন্দি মানুষ জনকে সরকারিভাবে কোন সহায়তা দেয়া হয়নি।
বন্যা কবলিত উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) হাবিবুল আলমের সাথে কথা হলে তিনি জানায়, পানি বন্দি মানুষের তালিকা নেয়া হচ্ছে। এদিকে গত সোমবার লখিয়ারপাড়া গ্রামের ছাপান আলীর ছেলে আজগর আলী (৬০) বন্যার পানির সাথে বাঁচার উদেশ্য অন্য চরে যাওয়ার সময় পানিতে ডুবে মারা গেছেন বলে জানা গেছে।

অপর দিকে বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি গ্রস্থ এলাকা ১৪ চন্ডিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ গোলাম মোস্তফা আহমেদ ই-বাংলা পত্রিকা কে জানান যে, ” সবে মাত্র বেড়ে যাওয়া পানির কারণে কিছু কিছু নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে, এ বিষয়ে উপজেলাধীন কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন যে চন্ডিপুরের হরিপুর খেয়া ঘাটের বেশ কিছু অংশ নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে যা নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা চলছে।
বিশেষ প্রতিনিধি -গাইবান্ধা/১৯শে জুলাই, ২০১৬ ইং