বৃহস্পতিবার  ২৬শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং  |   বৃহস্পতিবার  ১৩ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

এইমাএ পাওয়া

ওসি সালাউদ্দিনের গোপালগঞ্জের বাসায় চলছে শোকের মাতম

জুলাই ২, ২০১৬

শোকের মাতম

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিঃ ঢাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত বনানী থানার ওসি সালাউদ্দিন লুইয়ের গোপালগঞ্জের বাসায় চলছে শোকের মাতম। নিহতের স্বজনদের কান্না ও আহাজারি চলছে। শুক্রবার রাতে তার মৃত্যুর সংবাদ শোনার পর থেকে গোপালগঞ্জ শহরের ব্যাংক পাড়ার বাসায় আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী ভিড় করে। তারা শোকাহত পরিবারকে সান্তনা দেয়ার চেষ্টা করছেন। ওসি সালাউদ্দিনকে গোপালগঞ্জের মানুষ লুই নামে বেশি চিনে। সে একজন ভালো, পরোপকারী মানুষ হিসেবে এলাকায় তার ব্যাপক পরিচিতি। সেই মানুষটি এতো তাড়াতাড়ি সবাইকে ছেড়ে এভাবে চলে যাবে তা যেন কেউ মেনে নিতে পারছেন না।

ওসি লুইর হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্ত মূলক বিচার করতে না পারলে এ ধরনের ঘটনা দেশে আরো বৃদ্ধি পাবে। তাই এদের মূল উৎপাটন করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী। নিহত লুইর ছোট ভাই মোহাম্মদ আলী খান বলেন, আমার ভাই নিরীহ মানুষ বাঁচাতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন। সে আমাদের কাছে বাবার সমতুল্য ছিলেন। আমাদের সব ভালো মন্দই তিনি দেখতেন। আমরা এ হত্যাকান্ডের বিচার দাবি করছি।
প্রতিবেশী ও গোপালগঞ্জ জেলা উদীচীর সভাপতি নাজমুল ইসলাম বলেন, ওসি সালাহ উদ্দীন একজন সাহসী পুলিশ অফিসার ছিলেন। আর এ কারণেই তাকে অকালে জীবন দিতে হল। এ জন্য শুধু গোপালগঞ্জ শহর নয়, সারা জেলাবাসী শোকে কাতর। আমরা এ হত্যাকান্ডের বিচার দাবি করছি।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ লুৎফর রহমান বাচ্চু বলেন, লুই একজন চৌকস ও স্বাধীনতার স্ব-পক্ষের পুলিশ অফিসার ছিলেন। বিভিন্ন সময় সরকার উৎখাতের যড়ষন্ত্র প্রতিহত করতে তার ব্যাপক ভূমিকা ছিল। এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ও তাদের মদদ দাতাদের বিচারের আওতায় আনার জন্য সরকারের কাছে দাবি করছি।
নিহত সালাহ উদ্দীন লুই একজন চৌকস পুলিশ অফিসার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মানুষের বিপদ-আপদে সবার আগে এগিয়ে আসার চেষ্টা করতেন। বিভিন্ন মসজিদ-মাদরাসা নির্মাণে সহযোগিতা করতেন। প্রতি বছর ঈদের সময় গরীব মানুষকে নতুন কাপড় ও টাকা দিয়ে সহযোগিতা করতেন। তাই একজন ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি।

ওসি সালাউদ্দীন লুইর বাবার নাম আব্দুল মান্নান খান। তিনি গোপালগঞ্জ এস এম মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। ৭ ভাই ৪ বোনের মধ্যে লুই ছিলেন পঞ্চম। বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যদের কাছে ওসি লুই ছিলেন পিতৃ সমতুল্য। পুরো পরিবারটি তার ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। পরিবারের প্রায় প্রতিটি সদস্যের যাবতীয় খরচ তিনি চালাতেন। তাই তার অকাল মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না।

এম শিমুল খান,গোপালগঞ্জ/২রা জুলাই, ২০১৬ ইং