শুক্রবার  ২৭শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং  |   শুক্রবার  ১৪ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

এইমাএ পাওয়া

এমভি সুন্দরবন-১০ এর উদ্বোধন ২৫ জুন

জুন ২৩, ২০১৬

এমভি সুন্দরবন-১০

বাংলাদেশের সর্বাধুনিক যাত্রীবাহী নৌযান সুন্দরবন-১০ লঞ্চের উদ্বোধন ২৫ জুন।

এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) দুপুরে বরিশাল নৌ-বন্দরে নোঙর করাসুন্দরবন-১০ লঞ্চে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

আগামী ২৫ জুন দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকার সদরঘাটে আনুষ্ঠানিকভাবে লঞ্চটির উদ্বোধন করা হবে।

মিলাদ-মাহফিল অনুষ্ঠানে উপস্থিতি ছিলেন- বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এসএম রুহুল আমিন, উপ-পুলিশ কমিশনার গোলাম আব্দুর রউফ খান, জেলা বিএনপির (দক্ষিণ) সভাপতি এবায়দুল হক চান, আওয়ামী লীগ বরিশাল মহানগরের সাধারণ সম্পাদক আফজালুল করিম প্রমুখ।

দোয়া-মিলাদ শেষে লঞ্চটি অতিথিদের নিয়ে কিছুটা সময় কীর্তনখোলা নদীতে চালানো হয়।

সুন্দরবন নেভিগেশনের সত্ত্বাধিকারী সাইদুর রহমান রিন্টু জানান, শুক্রবার (২৪ জুন) রাতে লঞ্চটি উদ্বোধনের লক্ষে বরিশাল থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।

২৫ জুন ঢাকা নৌ-বন্দরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন- শিল্পমন্ত্রী আলহাজ আমির হোসেন আমু।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাপ) সংস্থার চেয়ারম্যান মাহাবুব উদ্দিন আহম্মেদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন- নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, বরিশাল-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস, বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ, সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক কমডোর এম জাকিউর রহমান ভূঁইয়া ও বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান এম মোজাম্মেল হক (জি) প্রমুখ উপস্থিত থাকবেন।

তিনি জানান, আধুনিক প্রযুক্তির এমভি সুন্দরবন-১০ লঞ্চটি গত এপ্রিলে কীর্তনখোলায় ভাসিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে চলাচল করা হয়েছিলো।

৩৩২ ফুট দৈর্ঘ্য ৫২ ফুট প্রস্তের এ লঞ্চটিতে চলাচলে অক্ষম এমন ব্যক্তিদের জন্য লিফট, সিসিইউ বেড, নামাজের নির্দিষ্ট স্থান, ইন্টারনেট ওয়াইফাই, এটিএম বুথ, স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র, শিশু বিনোদনে বেবি কর্ণার, ফুড কোড ও সেলুনের ব্যবস্থা রয়েছে।

এক হাজার ৪০০ যাত্রী ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন লঞ্চটির নিচের অংশে ১২টির মতো কম্পার্টমেন্ট রাখা হয়েছে, যাতে পানির নিচে এক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে অপর অংশ না হয় ও তলিয়ে না যায়।

পাশাপাশি নিচ ও দ্বিতীয় তলায় ডেক ছাড়াও থাকছে যাত্রীদের দুইশ’রও অধিক প্রথম শ্রেণির কেবিন, ১৫টি ভিআইপি ও ৬টি ভি-ভিআইপি কেবিন এবং ৪০টি সোফার ব্যবস্থা রয়েছে।

২শ’ টন পণ্য পরিবহনের সুবিধাতো থাকছেই। পাশাপাশি লঞ্চটি সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা, আধুনিক অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, জার্মানির তৈরি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ২ হাজার ৭৫০ অর্শ্বশক্তির দু’টি ইঞ্জিন দ্বারা লঞ্চটি পরিচালিত হবে। হুইল হাউজে (চালকের কক্ষ) সম্পূর্ণ অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর যন্ত্রাংশ সংযোজন করা হয়েছে। এর রাডার সুকান ‘ইলেকট্রো ম্যাগনেটিক’ ও ম্যানুয়াল দ্বৈত প্রদ্ধতিতে ব্যবহার করা যাবে।

পাশাপাশি জিপিএস পদ্ধতি সংযুক্ত করা হয়েছে। ফলে লঞ্চটি চলাচলরত নৌপথের এক বর্গকিলোমিটারের মধ্যে গভীরতা ছাড়াও আশপাশের অন্য যে কোনো নৌযানের উপস্থিতি চিহ্নিত করতে পারবে।

ঘন কুয়াশাতেও নির্বিঘ্নে চলাচল করার জন্য ফগ লাইটের ব্যবস্থা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সুতীর্থ বড়াল,বরিশাল /২৩-০৬-২০১৬ইং