মঙ্গলবার  ২৪শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং  |   মঙ্গলবার  ১১ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

এইমাএ পাওয়া

ঈদে ঘুরে আসুন গৌরনদীর শাহী ৯৯ পার্কে

জুন ৩০, ২০১৬

গৌরনদীর শাহী ৯৯ পার্কে

থাই স্প্রীং বট, এ্যালমন, পেশন গাছসহ দেশ-বিদেশের ১৪’শ প্রজাতের গাছপালা ও লতা। সু-বিশাল পুকুরের চারিপার্শ্বে বিভিন্ন প্রজাতের ফুলগাছ ছাড়াও কৃত্রিম পশু-পাখি যেমন-কুমিড়, জিরাফ, বক, গরু, উট পাখি, কচ্ছপ, খরগোশ, পেঙ্গুইন, ভৌতিক মানুষের কঙ্কাল, সুপারম্যান, ফাইটারম্যান, ফুলসহ বিনোদনের অসংখ্য স্ট্যাচু দিয়ে প্রায় পাঁচ একর জমিকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমির ন্যায় সাজানো হয়েছে অপরূপ সাজে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এখানে স্থাপন করা হবে শিশু-কিশোরদের বিনোদনের বিভিন্ন রাইড, নাগরদোলাসহ দেশ-বিদেশের অসংখ্য খেলনা সামগ্রী। এজন্য ইতোমধ্যে পাঁচ একর জমির পার্শ্বেই আরও ১৪ একর জমি ক্রয় করা হয়েছে।
মায়ের জন্মস্থানে তার সম্মান বৃদ্ধি ও স্মৃতি রক্ষার্থে অজপাড়া গাঁয়ের নানাবাড়ির পার্শ্বেই বিগত চার বছর ধরে তীলে তীলে গড়ে তোলা হয়েছে অপূর্ব সব নৈশর্গিক দৃশ্যে ঘেরা বিনোদনমূলক শাহী ৯৯ পার্ক। সৌন্দর্য মন্ডিত এ পার্কে একবার আসলে আর ফিরে যেতে মন চায় না। অজপাড়া গাঁয়ের এ পার্কের অমোঘ সৌন্দর্যের আকর্ষণ অগ্রাহ্য করা সত্যিই কঠিন। তাইতো সবার জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উন্মুক্ত শাহী ৯৯ পার্কে প্রতিদিন দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভীড় থাকে। একমাত্র বিনোদনের জন্য শিশু-কিশোর, তরুন-তরুনী থেকে শুরু করে সকল বয়সের নারী-পুরুষের সরগরম উপস্থিতি পার্ক নির্মাতাকে বিমহিত করেছে। যেকারণে দশনার্থীদের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা দেয়ার জন্য ইতোমধ্যে পার্কের গুরুত্বপূর্ণ সব স্পটগুলোতে ৩৬টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। বিনোদন প্রেমীরা এবারের ঈদ-উল ফিতরের সময় একটিবারের জন্য হলেও স্ব-পরিবারে ঘুরে আসতে পারেন সম্পূর্ণ বিনোদনমূলক শাহী ৯৯ পার্কে।

সূত্রমতে, মায়ের জন্মস্থানে তার সম্মান বৃদ্ধি ও স্মৃতি রক্ষার্থে অজপাড়া গাঁয়ের নানাবাড়ির পার্শ্বেই সকল ধরনের বিনোদন থেকে বঞ্চিত বরিশালের গৌরনদী উপজেলাবাসীর জন্য বাটাজোর ইউনিয়নের দেওপাড়া লক্ষণকাঠী গ্রামে ২০১২ সালে পার্ক নির্মানের উদ্যোগ গ্রহণ করেন দেশের একমাত্র শাহী ৯৯ জর্দ্দা কোম্পানীর স্বত্তাধীকারি এবং বাংলাদেশ আওয়ামী তাঁতী লীগের ঢাকা মহানগরের (উত্তর) দক্ষিণখান থানার সভাপতি শামিম আহমেদ। সেই থেকে আজ পর্যন্ত তিনি তার প্রচেষ্ঠা অব্যাহত রেখেছেন। দেশ-বিদেশ ঘুরে তিনি বিভিন্ন স্ট্যাচু সংগ্রহ করে ইতোমধ্যে পার্কে স্থাপন করেছেন। প্রকৃতি প্রেমী শামিম আহমেদ তার কোম্পানীর নামানুসারে পার্কের নামকরণ করেছেন শাহী ৯৯ পার্ক। এ পার্কে তিনি সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা ও লতার। ফলশ্রুতিতে পার্কের মধ্যে ১৪’শ প্রজাতির গাছপালা ও লতা রোপন করা হয়েছে। বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের গৌরনদীর বাটাজোর বাসষ্ট্যান্ড সংলগ্ন উত্তর পশ্চিম পার্শ্বের দেওপাড়া লক্ষণকাঠী গ্রামের শাহী ৯৯ পার্কে প্রবেশের সময়ই শরীর ছুঁয়ে যায় থাই স্প্রীং বটের। এযেন ভিন্নতর ভাবে দর্শনার্থীদের বরণ করে নেয়া। প্রতিদিন সকাল ছয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সব বয়সের দর্শনার্থীদের জন্য বিনোদনমূলক এ পার্ক উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। পার্কের দর্শনার্থীদের নিরাপত্তাসহ বিভিন্নকাজে ২৫জন স্থায়ী কেয়ারটেকার নিয়োজিত রয়েছেন। পার্কের মধ্যেই রয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও বিশ্রামের ব্যবস্থা। ইতিপূর্বে পার্কে প্রবেশের প্রধান গেটের সামনেই শামিম আহমেদের উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে সু-বিশাল ও মনোমুগ্ধকর শাহী জামে মসজিদ এবং ঈদগাহ ময়দান। শাহী ৯৯ পার্কের নামানুসারে ইতোমধ্যে ওই এলাকায় শাহী মার্কেটসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের নামকরন করা হয়েছে।

স্থানীয় সামচুল আলম মুক্তি জানান, দেওপাড়া লক্ষণকাঠী গ্রামের মৃত করম আলী সরদারের কন্যা সাবিহা বেগমের সাথে সামাজিকভাবে বিয়ে হয় ঝালকাঠী সদরের বাসিন্দা হাজ্বী মোঃ শাহাবুদ্দিন মিয়া ওরফে শাহীর। মৃত শাহাবুদ্দিন ও সাবিহা বেগমের দাম্পত্য জীবনের চার পুত্র সন্তানের একজন শামিম আহমেদ। পেশায় তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ। মায়ের জন্মস্থানে তার সম্মান বৃদ্ধি ও স্মৃতি রক্ষার্থে অজপাড়া গাঁয়ের শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সকল বয়সের মানুষের চিত্ত বিনোদনের জন্য তিনি (শামিম আহমেদ) শাহী ৯৯ পার্কসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান নির্মানের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। উদ্যোক্তা শামিম আহমেদ বলেন, জায়গা সংকুলান না হওয়ায় বিনোদনের অনেক কিছুই এখনো স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। এজন্য ইতোমধ্যে ৫একরের এ পার্কের পার্শ্বে আরও ১৪ একর জমি ক্রয় করা হয়েছে। দ্রুত ওই জমিকে উপযোগী করে বিনোদন ব্যবস্থা আরও বৃদ্ধিসহ পর্যায়ক্রমে এ পার্কের দূরত্ব পাশ্ববর্তী মাহিলাড়া ইউনিয়ন পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তখন এ পার্কের মধ্যেই পিকনিক স্পট গড়ে তোলা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দর্শনার্থী সীমা আহমেদ, মিনা আফরোজ, কে.এম শোয়েব জুয়েল, নুপুর আক্তার, রুবেল মিয়া, টুটুল শরীফ জানান, শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সকল বয়সের মানুষের চিত্ত বিনোদনের জন্য গৌরনদীসহ পাশ্ববর্তী কোন উপজেলায় সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে আজও কোন পার্ক কিংবা বিনোদন স্পট গড়ে ওঠেনি। অজপাড়া গাঁয়ে হলেও এতদাঞ্চলের সকল বয়সের মানুষের জন্য শাহী ৯৯ পার্ক বিনোদনের নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

গৌরনদী (বরিশাল) সংবাদদাতা/ ৩০শে জুন, ২০১৬ ইং