বুধবার  ২৫শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং  |   বুধবার  ১২ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

এইমাএ পাওয়া

ইউরোপীয় ইউনিয়নের জোটের মধ্যে ঐক্য ও সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন এর নেতারা!

জুলাই ১, ২০১৬

European-Union

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদর দপ্তর ব্রাসেলসে জোটের শীর্ষ বৈঠকের দ্বিতীয় দিনে গত বুধবার ইইউর মধ্যে ঐক্য ও সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন এর নেতারা।
গণভোটে ইইউ ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়া দেশ যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনকে ছাড়াই অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় বসেন বাকি ২৭ দেশের নেতারা। ৪০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে এভাবে যুক্তরাজ্যের নেতাকে ছাড়া ইইউর শীর্ষ বৈঠকের নজির নেই।

বৈঠকের প্রথম দিন গত মঙ্গলবার জোট নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন ডেভিড ক্যামেরন। যুক্তরাজ্যের ২৩ জুনের গণভোটে ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে রায় পড়ার পর ইইউ নেতাদের সঙ্গে ক্যামেরনের এটাই ছিল প্রথম বৈঠক। বৈঠকে ইইউ নেতারা বিলম্ব না করে জোট ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য যুক্তরাজ্যকে আবার তাগাদা দেন। কয়েক দিন ধরেই ইইউ নেতারা দেশটিকে এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন।

যুক্তরাজ্য জোট ছাড়ার পর ইইউর ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা কী হতে পারে তা নিরূপণে এ শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৈঠকে জোটের নেতাদের সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়। কেননা, যুক্তরাজ্যের গণভোটের ফলাফল গোটা ইউরোপের শেকড় ধরেই টান দিয়েছে। অনেক দেশেই কট্টর জাতীয়তাবাদীরা যুক্তরাজ্যের কায়দায় গণভোটের দাবি করছে।

এর আগে প্রথম দিনের বৈঠকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন অন্য ২৭ দেশের নেতাদের বলেন, ইইউর সঙ্গে তাঁর দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাণিজ্য ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সহযোগিতার বিষয় হবে খুব গুরুত্বপূর্ণ। বৈঠকে জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল নেতাদের গণভোটের ফলাফলের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান। তবে তিনি ও অন্য নেতারা যত দ্রুত সম্ভব জোট ছাড়ার ব্যাপারে পরিকল্পনা তৈরি করতে যুক্তরাজ্যের প্রতি আবারও আহ্বান জানান।

ইইউ থেকে বিদায়ের প্রক্রিয়া শুরু করতে বিধি অনুযায়ী যুক্তরাজ্য লিসবন চুক্তির ‘আর্টিকেল ফিফটি’ সক্রিয় না করা পর্যন্ত কোনো আলোচনা শুরু না করার কথাও জোর দিয়ে বলে দেন ইইউ নেতারা। কোনো সদস্য দেশের জোট ত্যাগের পদ্ধতি ‘আর্টিকেল ফিফটি’তেই বর্ণনা করা আছে।
এর আগে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন ইইউ নেতাদের বলেন, ব্রেক্সিটের পর যুক্তরাজ্য ইইউর সঙ্গে ‘সম্ভাব্য ঘনিষ্ঠতম’ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তিনি বলেন, অভিবাসন ছিল ব্রিটিশ ভোটারদের বড় উদ্বেগের বিষয়।

জার্মানির চ্যান্সেলর ম্যার্কেল বলেন, ইইউর অভিন্ন বাজারে আবার প্রবেশ করতে চাইলে যুক্তরাজ্যকে অবশ্যই ইইউ নাগরিকদের সে দেশে অবাধ চলাচলের সুযোগ করে দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের গণভোটের ফলাফলে আমরা সবাই দুঃখিত হয়েছি। এটাও স্পষ্ট করেছি, যুক্তরাজ্যকে আর্টিকেল ফিফটি সক্রিয় করে তার বিদায় প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। যদিও ক্যামেরন এ প্রক্রিয়া তাঁর উত্তরসূরির ওপর ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছেন। তবে আমরা সবাই একমত, প্রক্রিয়া শুরুর আগে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা হবে না।

ইউরোপীয় কমিশনের (ইসি) প্রেসিডেন্ট জঁ-ক্লদ ইয়ুঙ্কার বলেন, আর্টিকেল ফিফটি সক্রিয় করা নিয়ে মাসের পর মাস আলোচনা চালানোর সময় পাবে না যুক্তরাজ্য। ইইউতে থেকে যাওয়ার পক্ষের কোনো নেতা যদি ক্যামেরনের উত্তরসূরি হন, তবে তাঁর নিয়োগের দুই সপ্তাহের মধ্যে এই আর্টিকেল সক্রিয় করতে হবে। আর যদি ইইউ ছাড়ার পক্ষের দলের কেউ প্রধানমন্ত্রী হন তবে এটা করতে হবে তাঁর নিয়োগের পরদিনই। সূত্র- বিবিসি।

ই বাংলা পত্রিকা/ আন্তর্জাতিক ডেস্ক- ০৭/১/২০১৬