শুক্রবার  ১৯শে জানুয়ারি, ২০১৮ ইং  |   শুক্রবার  ৬ই মাঘ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

এইমাএ পাওয়া

আমিষের ঘাটতি পুরনের লক্ষ্যে গোপালগঞ্জের তাড় গ্রামে ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে উঠেছে বিদেশী মুরগির ফার্ম : চলছে দেশীয় প্রজাতির মৎস্য চাষ

সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৬

অনিক একুয়া ফার্মস প্রাইভেট লিমিটেড

।। এম শিমুল খান/গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি ।। 

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার কড়পাড়া ইউনিয়নের তাড় গ্রামে সম্পুর্ন ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে উঠেছে অনিক একুয়া ফার্মস প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি বিদেশী মুরগীর ফার্ম। যেখানে রয়েছে টার্কি, টিটসহ বিদেশি প্রজাতির কয়েক ধরনের মুরগী। মুরগীর খামারের পাশে রয়েছে বড় বড় পুকুর সেখানে চাষ করা হচ্ছে দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন ধরনের মাছ। রয়েছে দেশী মৎস্য পোনা তৈরীর হ্যাচারি।

প্রকল্পের ভেতরে রয়েছে দেশী ফলের বাগান। সেখানে আতা, আম, জামরুল, কাঁঠাল, কামরাঙ্গা, লেবু, কলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ। পাশাপাশি রয়েছে বিদেশী ফলের বাগান চেরি, আঙ্গুর, বেদেনা, মালটা, কমলা লেবুসহ বিভিন্ন বিদেশী প্রজাতির বৃক্ষ। আগামী প্রজন্মকে ফরমালিন মুক্ত ফল খাওয়ানোর লক্ষ্য নিয়ে ২০০৫ সালে গড়ে তোলা হয়েছে ওই প্রকল্পটি। বর্তমানে ওই প্রকল্পে নিয়োজিত প্রায় ৫০ জন মানুষ কর্মরত থেকে তাদের জীবিকা নির্বাহ করছে।

প্রকল্পের পুকুর গুলিতে সম্পুর্ন রাসায়নিক মুক্ত দেশী বিদেশী মাছের চাষ করা হয়। ওই পুকুরে চাষকৃত মৎস্য গোপালগঞ্জে আমিষের চাহিদা পুরনে অগ্রনী ভুমিকা পালন করছে।

সম্পুর্ন দেশীয় খাবার যেমন ঘাস ও ধান খাইয়ে টার্কি, টিটসহ বিদেশি প্রজাতির কয়েক ধরনের মুরগীর পালন করা হয়। পরে তা বাজারে বিক্রি করা হয়। এক বছরের একটি টার্কির ওজন প্রায় ১৫ কেজি হয়ে থাকে। স্বল্প মুল্যে তা বাজারজাত করে আমিষের ঘাটতি পুরন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। প্রকল্পে টার্কি ও টিট মুরগীর ডিম সংগ্রহ করে বাচ্চা উৎপাদন করে তা আবার বানিজ্যিক ভাবে বাজারজাত করা হচ্ছে। প্রতিমাসে ওই প্রকল্প থেকে প্রায় এক হাজার পিচ বাচ্চা বাজারজাত করা হয়ে থাকে।
এ ব্যাপারে প্রকল্পের ম্যানিজিং ডিরেক্টর শেখ শাহাদত হোসেন বলেন, আমি ২০০৪ সালে প্রায় ২০০ বিঘা সম্পত্তির উপর এ প্রকল্পের কাজে হাত দেই। বর্তমানে আমার এ প্রকল্পে প্রায় ৫০ জন মানুষ কর্মরত আছে। আমি সম্পুর্ন ব্যক্তিগত উদ্যোগে এ প্রকল্পটি হাতে নেই। আমার প্রকল্পে দেশি-বিদেশী ফলের গাছ, দেশি-বিদেশী মাছের চাষ ও বিদেশী মুরগি যেমন টার্কি ও টিটসহ বিভিন্ন প্রজাতির মুরগীর খামার করেছি। বাজারে বিভিন্ন ধরনের মাংসের পাশাপাশি এই দুই প্রজাতির মুরগীর মাংশ বাজারজাত ও আমিষের ঘাটতি পুরন করাই আমার এ প্রকল্পের মুল উদ্দেশ্য।

তিনি আরো বলেন, দেশের আমিষের ঘাটতি পুরনে কিছুটা হলেও আমার এ প্রকল্প ভুমিকা রাখবে বলে আমার বিশ্বাস। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আমার এ প্রকল্পটি শুধু দেশে নয় বিদেশেও মুরগী, দেশীয় প্রজাতির মাছ ও দেশী ফল রপ্তানি করতে সক্ষম হবে।

উল্লেখ্য, অনিক একুয়া ফার্মস প্রাইভেট লিমিটেড গোপালগঞ্জসহ দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক ভুমিকা রাখছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দেশের অর্থনীতিতে আরো বড় অবদান রাখতে পারবে বলে আশা করছে সচেতন মহল।
বুধবার ৭ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ইং