বুধবার  ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং  |   বুধবার  ৫ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

এইমাএ পাওয়া

সিরিয়ায় কী চলছে বোঝাচ্ছে এই রক্তাক্ত শিশুই!

আগস্ট ১৯, ২০১৬

এই সেই রক্তাক্ত শিশু-

ই সেই শিশু। সিরিয়ার ‘যিশু’! দীর্ঘ কয়েক দশকের গৃহযুদ্ধের ক্ষত আর রক্তের আলপনা আঁকা রয়েছে যার চোখে-মুখে। সারা গায়ে। তার শরীর বেয়ে রক্ত ঝরছে, ঝরে পড়ছে। যেন ক্রুশবিদ্ধ যিশু!

সিরিয় শহর আলেপ্পোয় ধ্বংসস্তুপের তলায় চাপা পড়ে থেকে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিল। আকাশে প্রেসিডেন্ট বাশার আসাদের সেনাবাহিনী আর রুশ বোমারু বিমানের বিকট শব্দ, মুড়ি-মুড়কির মতো যত্রতত্র বোমা পড়ার শব্দ, গোলাগুলির শব্দ, সব কিছুকে ছাপিয়েও ধ্বংসস্তুপের তলা থেকে ভেসে আসছিল ওই রক্তাক্ত শিশু, সিরিয়ার ‘যিশু’র আর্ত চিৎকার। আর তা শুনেই কেউ এক জন তাকে ধ্বংসস্তুপের তলা থেকে খুঁজে বের করেন। তুলে আনেন। এনে বসিয়ে রেখে যান একটা কমলা রঙের একটা চেয়ারে। শিশুটির দেখভালের ব্যবস্থা কী ভাবে করা যায়, তার খোঁজখবর নিতে।

একাকী শিশু, সিরিয়ার ‘যিশু’সেই সময় একটুও ভয় পায়নি। কাঁদেনি। কাঁদতে কাঁদতে পাড়া জড়ো করেনি। একা বসে বসে শিশুটি তার মাথা থেকে, চোখ থেকে, কান থেকে চুঁইয়ে চুঁইয়ে পড়া রক্তের স্রোত মুছেছে। ঘষে ঘষে তার গা থেকে রক্তের দাগ তোলার চেষ্টা করেছে। তুলেছে। আত্মমগ্ন হয়ে। কিছুটা পেরেছে, কিছুটা পারেনি। তাকে যে দূর থেকে দেখছে ভিডিও ক্যামেরার ‘চোখ’সিরিয়ার ‘যিশু’তা খেয়ালও করেনি।

সেই ভিডিও পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ভাইরাল’হয়ে যাওয়ায়, গোটা বিশ্ব চাক্ষুষ করেছে, গত কয়েক দশক ধরে কী ভয়াবহ পরিস্থিতি গৃহযুদ্ধে দীর্ণ সিরিয়ার।

কয়েক মাস আগে আর এক সিরীয় শিশু গোটা দুনিয়ার নজর কেড়ে নিয়েছিল। তার নাম আয়লান কুর্দি। বাবার হাতের ফাঁক গলে উথালপাথাল সমুদ্রে পড়ে গিয়েছিল শরণার্থী ওই শিশু। পরে তার একরত্তি দেহটা ভেসে এসেছিল তুরস্কের বদরামের সমুদ্রসৈকতে। ভেজা বালির মধ্যে মুখ থুবড়ে পড়ে ছিল আয়লানের। লাল জামা, নীল প্যান্ট পরা। পায়ে খুদে খুদে জুতো। ঢেউয়ের পর ঢেউ এসে ধুয়ে দিচ্ছিল তার মুখ। এক তুর্কি পুলিশ কোলে তুলে নিয়েছিলেন প্রাণহীন একরত্তি শরীরটাকে। সেই ছবি ভাইরাল হয়ে যায় গোটা দুনিয়ায়।
আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক/শুক্রবার ১৯শে আগস্ট, ২০১৬ ইং