শনিবার  ২৪শে জুন, ২০১৭ ইং  |   শনিবার  ১০ই আষাঢ়, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

এইমাএ পাওয়া

সন্দেহ ভাঙন ধরায় মধুময় প্রেমকেও-যার ফলে হতে পারে মৃত্যু

আগস্ট ১৭, ২০১৬

মধুময় প্রেম

বিশ্বজিৎ দেবনাথ/কলকাতা/
স্বামি-স্ত্রির সম্পর্ক হয় সর্বদা মধুময়।কিন্তু সেই মধু অনেক সময় বিষে পরিনত হয়।যার জেরে হতে পারে মৃত্যুও।এমন ঘটনার সাক্ষি এ-রাজ্যের দক্ষিন ২৪ পরগনা জেলা।

সন্দেহের বশে ‘তৃতীয়’ স্ত্রীকে খুনের চেষ্টা প্রৌঢ়ের।ধরা পড়ার ভয়ে ঘরের মধ্যে রক্তাক্ত স্ত্রীকে ফেলে রেখেই পালিয়ে যায় ওই ব্যক্তি।শেষে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরের একটি লজ থেকে ওই ব্যক্তিকে পর্ণশ্রী থানার পুলিশ গ্রেফতার করে।

পুলিশ জানিয়েছে, দক্ষিণ কলকাতার পর্ণশ্রী থানা এলাকার নিউ পর্ণশ্রীতে এই ঘটনাটি ঘটে।এই অঞ্চলেরই বাসিন্দা কিশোর অধিকারী ওরফে সোনা বয়স-৫১।নিউ পর্ণশ্রীতে সে থাকত তার তৃতীয় স্ত্রী মুনমুন অধিকারী বয়স-৩০-র সঙ্গে ।প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বহু আগেই ছাড়াছাড়ি হয়ে গিয়েছে গাড়ির ব্যবসায়ী কিশোরের।যদিও পুলিশের কাছে খবর, এর কারণ তার দ্বিতীয় স্ত্রী।দ্বিতীয়বার কিশোর বিয়ে করার পরই গোলমাল শুরু হয় প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে।এর পর প্রথম স্ত্রী তার জীবন থেকে সরে যান চিরতরে।দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে পর্ণশ্রী এলাকারই একটি বাড়িতে সংসার বাঁধে কিশোর।

নতুন দম্পতি ভালই ছিল।কিন্তু এর মধ্যে মুনমুন নামে ওই যুবতীর সঙ্গে আলাপ হয় কিশোরের। ধীরে ধীরে বেড়ে চলে ঘনিষ্ঠতা। তারই জেরে মুনমুন কিশোরকে বিয়ে করতে বলেন। দ্বিতীয় স্ত্রীকে এড়িয়ে ওই প্রৌঢ় বিয়েই করে ফেলে মুনমুনকে ।যদিও এবার আর দ্বিতীয় স্ত্রীকে ছেড়ে দেয়নি সে।দ্বিতীয় ও তৃতীয়, দুই স্ত্রীর সঙ্গেই সংসার করতে থাকে কিশোর।যদিও দুই ‘সতীন’ একসঙ্গে থাকতেন না। তৃতীয় স্ত্রীকে সে নিয়ে আসে নিউ পর্ণশ্রীর একটি বাড়িতে।কিন্তু বিয়ের কয়েক মাস যাওয়ার পর তৃতীয় স্ত্রী মুনমুনকেও সন্দেহ করতে থাকে কিশোর।শুধু ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়ায় নয়, প্রায়ই মোবাইলে বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করতে দেখে সন্দেহ হয় কিশোরের।যুবতী স্ত্রী অন্য বন্ধুর সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ কিশোর বাবুর। যদিও মুনমুন তা অস্বীকার করেন।বিষয়টি নিয়ে দম্পতির মধ্যে গোলমাল শুরু হয়।ধীরে ধীরে ওই মধুময় প্রেম অশান্তির বড় রূপ নেয়।

রবিবার সন্ধ্যার পর থেকেই শুরু হয়েছিল গোলমাল।সোমবার রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ কিশোর একটি ছুরি নিয়ে বাড়ির মধ্যেই তাড়া করে তার স্ত্রীকে।মুনমুনের বুক ও পেটে ছুরির কোপ দিয়ে পালিয়ে যায় সে ।রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে ঘরের ভিতর থেকে উদ্ধার করে বিদ্যাসাগর হাসপাতালে নিয়ে যান প্রতিবেশীরা।আসেন তাঁর বাপের বাড়ির লোকেরাও।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালের বেডে শুয়েই কোনওমতে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান ওই যুবতী।পুলিশ খুনের চেষ্টার মামলা দায়ের করে।ঘটনার পর থেকেই উধাও হয়ে যায় ওই প্রৌঢ় ব্যবসায়ী।পর্ণশ্রী থানার পুলিশের কাছে খবর আসে যে, বিষ্ণুপুরের একটি লজে লুকিয়ে আছে সে।সেই সূত্র ধরেই পুলিশ তদন্ত শুরু করে।মঙ্গলবার সকালেই ওই লজ থেকে ধরা পড়ে যায় কিশোর।তাকে জেরা করে এই ঘটনা সম্পর্কে আরও তথ্য জানার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ অফিসার আরও জানান একাধিক সম্পর্কে লিপ্ত হলে সন্দেহ মানষিকতা এমনিতেই মাথায় চলে আসে।এটা একপ্রকারের মানষিক রোগ।
১৭ই আগস্ট, ২০১৬ ইং