শনিবার  ২৯শে এপ্রিল, ২০১৭ ইং  |   শনিবার  ১৬ই বৈশাখ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

এইমাএ পাওয়া

শিবগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিলের অবমূল্যায়নঃ১ লক্ষ টাকা জালিয়াতি(অনুসন্ধানী প্রতিবেদন)

অক্টোবর ৫, ২০১৬

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন

।।রিপন আলি রকি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে চলছে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্ণীতি। নির্বিগ্নে করে যাচ্ছে একের পর এক দলিলের অবমূল্যায়ন। বঞ্চিত হচ্ছে সরকার রাজস্ব আয় থেকে। ইতি মধ্যেই ৩টি দলিলের অবমূল্যায়ন করেছে শিবগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস কর্মকর্তারা। তার মধ্যে শিবগঞ্জ উপজেলার মোকিমপুর মৌজার আর,এস ৫০ ও ৫৪ নম্বর খতিয়ান ভুক্ত ৮৬৫ শ্রেণি ভিঠার স্থলে করা হয়েছে ডাঙ্গা। উল্লেখ্য বাজার মূল্য বিধিমালা ২০০২ আইন গৃহিত হওয়া সত্বেও গত ৩০/০৩/১৬ তারিখে ৪৬৫৩ নম্বর দলিলে দেখা যায় যে, হাল দাগ ৮৬৫ নম্বর দাগে শ্রেণি ভিঠার স্থলে ডাঙ্গা লেখা রয়েছে। যা ভিঠার গড় মূল্য প্রতি শতক ৩৮ হাজার ৯৫ টাকা হতে হবে কিন্তু সেটিকে ডাঙ্গা নির্ধারণ করে প্রতি শতকে ১ হাজার ৫২০ টাকা দেখানো হয়েছে।

এছাড়াও ২৪/০৫/২০১৬ তারিখে ৬৬০৮ নম্বর দলিলে দেখা যায় যে, একই উপজেলার উমরপুর মৌজার আর,এস ৯৮,২৫৯ নম্বর খতিয়ান ভুক্ত হাল ৫৪০ নম্বর দাগের শ্রেণি ডাঙ্গার স্থলে বাড়ি এবং হাল ৫৪১ নম্বর দাগে শ্রেণি ডাঙ্গার স্থলে ধানী করা হয়েছে। যার গড় মূল্য প্রতি শতক ডাঙ্গা ৪৪ হাজার ৬৪৮ টাকা কিন্তু সেটিকে শ্রেণি বাড়ি বসিয়ে মাত্র ৪ হাজার ২৬৬ টাকা এবং ডাঙ্গার স্থলে ধানী বসিয়ে মাত্র ৬ হাজার ১২১ টাকা দেখিয়ে দলিলের ব্যাপক অবমূল্যায়ন করা হয়েছে।

এখানেই শেষ নয় গত ইং ০৩/০৮/১৬ তারিখে একটি দানপত্র দলিল নিবন্ধন করা হয়েছে । সরেজমিনে গিয়ে ৯১৫০ নম্বর দলিলটিতে দেখা যায় যে দলিলের মূল্য ৪২ হাজার টাকা নির্ধারন করা হয়েছে। তবে দলিলটির শ্রেণি খড়বন হলেও সংশ্লিষ্ট তহসিল অফিসে গিয়ে দেখা যায় শ্রেণি ডাঙ্গা। যার পরিপ্রেক্ষিতে দলিলটির সম্পিত্তির ঘাটতি ৪ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা। পরে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিলটির নকলের জন্য গ্রহিতা দরখাস্তে আবেদন করলেও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মকর্তারা দলিলটির নকল দিতে অনীহা প্রকাশ করে। কয়েক দিন পর গ্রহিতা ৯১৫০ নম্বর দলিলটির নকল উঠাতে সক্ষম হন। তবে দলিলটিতে জাবেদা নকল পাওয়া যায়। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বিষয়টি জানা জানি হলে গত ইং ১০/০৮/১৬ তাৎক্ষনিক নোট দিয়ে সাব-রেজিস্ট্রার শুকুমার চন্দ্র দেওড়ী, কেরানী মতিউর রহমান ও মহরার আব্দুল খালেক যোগসাজসে ঘাটতি ষ্ট্যাম্প, পি.ও নম্বর, ফিস, স্থানীয় কর পে অর্ডারের মাধ্যমে ৩৪ হাজার ১৪০ টাকা ব্যাংক চালানের মাধ্যমে জমা দেন। অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা যোগসাজসে রেজিট্্েরশন আইন ৬৩এ ধারা লংঘন করে সরকারের প্রায় ১ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছে এবং ৬৩এ ধারা লংঘন করে অসাদাচরনের দায়ে দায়ী হয়ে ৩৪ হাজার ১৪০ টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করেন।

এব্যাপারে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক সাব-রেজিস্ট্রার শুকুমার চন্দ্র দেওড়ীর কাছে জানতে চাইলে তিনি কোন প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে সাংবাদিকদের উল্টো চাপ দেন। কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কেরানী মতিউর রহমান, অফিস মহরার আব্দুল খালেক, দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম (সিলু), কপিস্ট শরিফুল ইসলামসহ বেশ কিছু কর্মকর্তা সংবাদকর্মীদের উপর হামলা করে ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ভিডিও চিত্র মুছে ফেলেন এবং শারীরিক নির্যাতন করেন। কিছুক্ষন পর সংবাদকর্মীরা শিবগঞ্জ থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করেন।

বুধবার  ৫ই অক্টোবর, ২০১৬ ইং