বৃহস্পতিবার  ২৪শে আগস্ট, ২০১৭ ইং  |   বৃহস্পতিবার  ৯ই ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

এইমাএ পাওয়া

শিবগঞ্জে আপত্তিকর অবস্থায় আটক শিক্ষা অফিসার মুচলেকা দিয়ে বিয়ে রেজিস্ট্রি সম্পন্নের পর ছাড়া পেলেন

আগস্ট ১৯, ২০১৬

আটক

রিপন আলি রকি/চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি/ 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইউসুফ আলী ভূঁঞা কয়েকটি নারী কেলেঙ্কারী ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগসহ শিবগঞ্জে আরো কয়েকটি এবং সর্বশেষ বুধবার আরো এক শিক্ষিকার সাথে বিয়ে করে রাখার নাম দিয়ে ফস্টিনস্টি করে ধরা পড়ে। অবশেষে তাকে বিয়ের রেজিস্ট্রি করে এবং মুচলেকা দিয়ে থানা থেকে ছাড়া পাওয়ায় চরম উদ্বিগ্ন ও উৎকণ্ঠার মধ্যে পড়েছেন শিবগঞ্জে ২৩৮ সরকারী ও বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ও তাদের অভিভাবকরা। এছাড়া তার নানা অনিয়ম, দূর্নীতি ও নারী কেলেঙ্কারীতে ব্যাপক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টরা। ইউসুফ আলী ভূঁঞা ব্যাপক অনিয়ম, দূর্নীতি ও নারী কেলেঙ্কারীতে জড়িত থাকায় জরুরীভাবে তাকে বদলীর দাবী জানান শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

জেলা শিক্ষা বিভাগ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান। বুধবার রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইউসুফ আলী ভূঁঞাকে এক নারীর সাথে আপত্তিকর অবস্থায় থাকার অভিযোগে আটক করে পুলিশের কাছে বৃহস্পতিবার সকালে সোপর্দের পর বৃহস্পতিবার রাত ২ টায় মুচলেকা দিয়ে এবং বিয়ে রেজিস্ট্রি সম্পন্নের পর ইউসুফ আলী ভূঁঞা ও ঐ নারী ছাড়া পেয়েছেন। মাজদার আলী কাজী ৫ লক্ষ ৫ হাজার টাকার দেনমোহরে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বিয়ে রেজিস্ট্রি করান বলে তিনি জানান। বৃহস্পতিবার রাতে শিবগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগের নেতা আতিকুল ইসলাম টুটুল খান, যুবলীগ নেতা মেসবাহুল হক বাবু, গোলাম কিবরিয়া, দুরুল হোদাসহ ঐ নারীর ভাই মাসুদ রানা ও তার স্বজনরা, ইউসুফ আলী ভূঁঞার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিতিতে এই বিয়ে রেজিস্ট্রি হয়। আতিকুল ইসলাম টুটুল জানান, ঐ নারীকে ২ বিঘা আবাদী জমি, ৫ ভরি স্বর্নালংকার, শিবগঞ্জে বসবাসের জন্য জমি কিনে ও বাড়ি করে দেয়ার আস্বাস দেয়া এবং ৫ লক্ষ ৫ হাজার টাকা দেনমোহর করে বিয়ে রেজিস্ট্রিটি হয়। বিষয়টির সর্বশেষ সম্মান হারানোর পর তা রক্ষার লক্ষে এবং অনেকটা বাধ্য হয়েই ইউসুফ আলী ভূঁঞার ১ম স্ত্রী জিনাত সুলতানা, মেয়ে ইসরাত জাহান ইভা, ছেলে জাওয়ার আহম্মেদ রানা ও মেয়ে জামাই রফিকুল ইসলাম বৃহস্পতিবার রাতে শিবগঞ্জ থানায় মুচলেকা দেন।

বৃহস্পতিবার সকালে শিবগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ রমজান আলী জানান, দেওয়ানজাঈগীর এলাকায় একটি বাড়িতে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইউসুফ আলী ভূঁঞা ও মনাকষা ইউনিয়নের হাউস নগর গ্রামের নজরুল ইসলাম মেয়ে রহিমা বেগমকে আপত্তিকর অবস্থায় থাকার অভিযোগে স্থানীরা আটক করে আমাদের খবর দেয়। আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে শিক্ষা অফিসার ও ঐ নারীকে উদ্ধার করে নিয়ে আসি। এঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে ওসি রমজান আলী জানান। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি জানান,উভয়ের পরিবারের লোকজন মিলে বিষয়টি তারা নিজেরা নিস্পতির লক্ষে মুচলেকা দেয়ার পর নিজ নিজ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তিনি আরো জানান ইউসুফ আলী ভূঁঞার পরিবারের সদস্যরা গত ২৩ ফেব্রুয়ারীতে এভিডেভিটে বিয়ে করা ও বিয়ে রেজিস্ট্রি না হবার বিষয়টি মেনে নেন।
বুধবার রাতে শিবগঞ্জ পৌর এলাকার দেওয়ানজাঈগীর গ্রামের একটি বাড়ি থেকে আপত্তিকর অবস্থায় থাকার অভিযোগে মনাকষা ইউনিয়নের হাউস নগর গ্রামের নজরুল ইসলাম মেয়ে রহিমা বেগম (৩৮) ওরফে শাহনাজ পারভিন ও শিবগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইউসুফ আলী ভূঁঞাকে রাতভোর ঘিরে আটক রাখে এলাকাবাসী। পরে সকালে তাদের পুরিশের কাছে সোপর্দ করেন। এর আগে ইউসুফ আলী ভূঁঞা বাড়ির জানালা ভেঙ্গে পালানোর চেষ্টা করেন।

প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইউসুফ আলী ভূঁঞা ও রহিমা বেগম বৃহস্পতিবার শিবগঞ্জ থানায় জানান, আমরা এফিডেভিট করে গত ২৩ ফেব্র“য়ারিতে বিয়ে করেছি।

দেওয়ানজাঈগীর গ্রামের নুরুল ইসলামের বাসার ২য় তলার বাসিন্দা সাদেকুল ইসলাম জানান, শিবগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইউসুফ আলী ভূঁঞা দেড় বছর থেকে ৩য় তলার একটি ফ্লাটে বাসা ভাড়া নিলেও মাঝে মধ্যে একাই থাকতেন। ঐ নারীকে এর আগে ইউসুফ আলী ভূঁঞার সাথে বসবাস করতে দেখিনি।

জেলা শিক্ষা বিভাগের বক্তব্য
শুক্রবার বিকেল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল কাদের শিবগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইউসুফ আলী ভূঁঞাকে এক নারীর সাথে আপত্তিকর অবস্থায় থাকার অভিযোগে আটক করে পুলিশের কাছে বৃহস্পতিবার সকালে সোপর্দের পর বৃহস্পতিবার রাত ২ টায় মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পাওয়ার বিষয়টি জানেন বলে জানান। তার বিষয়ে কি কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান,বৃহস্পতিবার রাতেই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য লিখিতভাবে ও ফোনে জানানো হয়েছে, আশাকরি রবিবারের মধ্যে কি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে তা জানা যাবে।

উদ্বিগ্ন ও উৎকণ্ঠায় শিক্ষিকারা
এর আগে শিবগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইউসুফ আলী ভূঁঞা বগুড়া আদমদিঘী উপজেলা শিক্ষা অফিসার হিসোবে দায়িত্বপালনকালীন সময়ে নারী কেলেঙ্কারী ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগসহ শিবগঞ্জে আরো কয়েকটি এবং সর্বশেষ বুধবার আরো এক শিক্ষিকার সাথে বিয়ে করে রাখার নাম দিয়ে ফস্টিনস্টি করে ধরা পড়ে অবশেষে তাকে বিয়ের রেজিস্ট্রি করে এবং মুচলেকা দিয়ে থানা থেকে ছাড়া পাওয়ায় চরম উদ্বিগ্ন ও উৎকণ্ঠার মধ্যে পড়েছেন শিবগঞ্জে ২৩৮ সরকারী ও বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকারা। এসব স্কুলের অন্তত ৪০ ভাগই হচ্ছেন শিক্ষিকা। সব সময়ই সরকারী ও বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা দায়বদ্ধতা থাকার পাশাপাশি সব আবদার মানতে বাধ্য থাকেন। এক্ষেত্রে প্রায়ই তাদের যেতে হয় শিক্ষা অফিসারের দরবারে। এক্ষেত্রে কোন শিক্ষিকা তার কুনজরে পড়লে হযতো তাকেও বাধ্য হতে হবে শয্যাসঙ্গিনী হিসাবে থাকতে। তার কুপ্রস্তাবে রাজি না হলে হয়তো হয়রানিরও শঙ্কা অনেকেরই। এমন নারী কেলেঙ্ককারীর সাথে জড়িত আর কোন শিক্ষিকা ভবিষ্যতে তার কুনজরে পড়বেনা এমন নিশ্চয়তাও নেই। তাই ২৩৮ সরকারী ও বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ও তাদের স্বামী ও অবিভাবকরা চরম উদ্বেগ উৎকণ্ঠার মধ্যে পড়েছেন বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষিকার স্বামী ও অভিভাবক জানান। আরও কয়েকজন শিক্ষকও নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এমন উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার কথা। তারা আরো জানান ইউসুফ আলী ভূঁঞা ব্যাপক অনিয়ম, দূর্নীতি ও নারী কেলেঙ্কারীতে জড়িত থাকলেও তার খুঁটির জোর ও প্রভাব এতই বেশী যে তাকে বদলী করতে না পারায় সংশ্লিস্টরা অসহায়ত্ববোধ করছেন। নানা অনিয়ম, দূর্নীতি ও নারী কেলেঙ্কারীতে জড়িত ইউসুফ আলী ভূঁঞাকে জরুরীভাবে বদলীর দাবী জানান শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

শুক্রবার  ১৯শে আগস্ট, ২০১৬ ইং