শনিবার  ২৯শে এপ্রিল, ২০১৭ ইং  |   শনিবার  ১৬ই বৈশাখ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

এইমাএ পাওয়া

দেহ বিনিময় করতে ব্যাস্ত কলেজ পড়ুয়ারা

জুন ১০, ২০১৬

দেহ বিনিময়

বাবা মায়ের বিশ্বাসকে বলি দিয়ে কলেজ পড়ুয়ারা ব্যাস্ত দেহ বিনিময়ে ভালবাসাকে উজার করতে৷দিঘা ও কলকাতা: “বাবা, কলেজ থেকে একটা বড় সার্ভে করতে দিয়েছে| আমাকে দিঘাতে যেতে হবে। গোটা ৫ হাজার টাকা দাও তো|” বলব না বলব না করে বাবাকে বলেই ফেলেছিল সৌরভ (নাম পরিবর্তিত) । একবার ইতস্তত বোধ করেছিলেন বটে, কিন্তু ছেলের কথা ভেবে কিছু বলতে পারেননি আশিসবাবু|জানতেন, ছেলে হয়ত তাঁকে মিথ্যা বলবে না। সত্যিই কোনও প্রজেক্ট আছে বলে টাকা চাইছে সে । প্রথম প্রেক্ষাপট যদি এটা হয়, তাহলে দ্বিতীয় প্রেক্ষাপটটা একটু অন্য|সৌরভ একা ওই সার্ভে করতে যাননি। সঙ্গে গিয়েছিলেন তাঁর বান্ধবীও। সার্ভে নয়, আসলে তাঁরা গিয়েছিলেন একটু ভালোবাসা একে অপরকে বিলিয়ে দিতে। চমকে গেলেন নাকি ? চমকানোর তো কিছুই নেই। দিঘার মনোরম সৈকত এখন জায়গা হয়ে উঠছে হাজার হাজার কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়াদের। কেউ আসছেন সার্ভে করার নামে । আবার কেউ আসছেন বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার নাম করে। ছাত্রছাত্রীদের ভিড়ে ভর্তি হয়ে উঠছে হোটেল। বাড়ছে ব্যবসা। রাতের দিঘা ছাত্রছাত্রীদের কাছে হয়ে উঠছে অনেক বেশি প্রাণোচ্ছল, অনেক বেশি মনোরম, আর অনেক বেশি রোমান্টিক। এক কথায় বিয়ের আগে শরীরযাপনের ডেস্টিনেশন হয়ে উঠছে দিঘার হোটেলগুলি ।

“দিঘা পর্যন্তও অপেক্ষা করতে হচ্ছে না অনেক সময়। ধর্মতলা থেকে একটা বাস ধরে নিলেই তো হল। ব্যাস, রাতেরবেলায় বাসের আলো নিভলেই অন্ধকারে শুরু হচ্ছে কারুকার্য। কখনও হাতের পরশ, কখনও ঠোঁটের । সঙ্গে মদের ফোয়ারা তো ছোটেই। ” বলছিলেন, বাবুঘাট থেকে দিঘাগামী বাসের কন্ডাক্টর। প্রশ্ন করা হয়, বাসে অন্য কেউ বাধা দেয় না বা বারণ করে না ? তাঁর সটান জবাব, “দাদা সব কলেজের ছেলেপিলে। কী থেকে কী হয়ে যাবে। অনেকজন মিলে যাতায়াত করে। শুধুশুধু রিস্ক নিয়ে লাভ কী?”

সূত্র মারফত জানা গেছে, দিঘা যাতায়াতকারীদের তালিকায় বেশি নাম লেখান নামজাদা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা । সঙ্গে আছেন কলেজের পড়ুয়ারাও । এক বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, “হ্যাঁ আমি আর আমার গার্লফ্রেন্ড যাচ্ছি সার্ভে করতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাড়পত্র আছে। ” দিঘায় হওয়া বেলেল্লাপনা নিয়ে প্রশ্ন করাতেই তিনি রেগে যান| সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর উত্তর, “আমি আমার প্রেমিকার সঙ্গে কী করব, না করব সেটা কি বিশ্ববিদ্যালয় ঠিক করবে নাকি ? আমরা যথেষ্টই বড় হয়েছি| সাবালক হয়েছি|আমাদের চিন্তাভাবনা আমাদের উপরই ছেড়ে দেওয়া উচিত । বেলেল্লাপনা তো শুধু আমাদের ইচ্ছাতে হয় না। অন্যজনের মত না থাকলে তা হওয়া সম্ভবও নয়|”দিঘায় ঘুরতে আসা অন্য পর্যটকদের অভিযোগ, “এমনভাবে মদের বোতল হাতে নিয়ে ছেলে-মেয়েগুলি উলটোপালটাভাবে বসে থাকে যে ভাবতেই লজ্জা লাগে। পরিবার নিয়ে তো দিঘাতে ঘুরতে যেতেই ভয় লাগছে এবার।”

দিঘার এক হোটেল মালিককে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “বিবাহিত ছাড়া আমরা হোটেলে কাউকে থাকতে দিন না।” তাহলে ছাত্রছাত্রীরা কীভাবে হোটলে প্রবেশ করছে ? তাঁর উত্তর, কিছু হোটেল মালিক আছেন যাঁরা টাকার লোভে এই সব কাজ করছেন। পুলিশের এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত । এ বিষয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার সুখেশ কুমার জৈন বলেন, হোটেলের মধ্যে ছাত্রছাত্রীদের বেল্লেলাপনার বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। কিছু বিষয়ে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পড়ুয়ারা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে এসেছি বলে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাড়পত্রও থাকে। যার জন্য পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নিতে পারে না । এ বিষয়ে হোটেল মালিকদের সর্তক করা হয়েছে। এ ছাড়া দিঘা চত্বরে বিশেষ পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এমনকী, মোবাইল পুলিশ ভ্যানেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাতেও কি সমস্যার সমাধান হবে?

 বিশ্বজিৎ দেবনাথ কলকাতা -১০ই জুন, ২০১৬ ইং