শুক্রবার  ২৬শে মে, ২০১৭ ইং  |   শুক্রবার  ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

এইমাএ পাওয়া

দখল ও তাণ্ডবলীলা চালানোর ঘটনায় আলোচিত ও বিতর্কিত এম,পি শেখ নুরুল হককে প্রধান আসামি করে বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের

এপ্রিল ২৭, ২০১৬

শেখ নুরুল হক এম,পি

ই বাংলা প্রতিবেদকঃ- 

দক্ষিন খুলনার আলোচিত ও বিতর্কিত(খুলান-৬)আসনের এম,পি অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ নুরুল হককে প্রধান আসামি করে অবশেষে বি, এ, কে ব্রিকসের দখল ও তাণ্ডবলীলা চালানোর ঘটনায় পাইকগাছার দেবদুয়ার নিবাসী মোছাঃ ফিরোজা বেগম বাদী হয়ে খুলনা জেলার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট এর আদালতে আজ বুধবার একটি মামলা দায়ের করেছেন।মামলায় শেখ মোহাম্মদ নুরুল হককে প্রধান আসামি করে মোট ১৪ জনের নাম সহ ৮/১০ জনকে অজ্ঞাত উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে।সিআর মামলা নং ২৯১/১৬ ও ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩০৭/ ৩৮০/৫০৬/১১৪ ধারায় মামলাটি বিজ্ঞ আদালত আমলে নিয়ে পরবর্তী ধার্য তারিখে ওসি পাইকগাছাকে নির্দেশনা দিয়েছেন।

বিজ্ঞ আদালতের নিকট বাদীর নালিশের বিবরন নিন্মরুপঃ-

বাদীর নালিশের বিবরণ এই যে,

বাদীনি একজন সহজ সরল সম্ভ্রান্ত পরিবারের গৃহবধু হইতেছেন। বাদিনীর বাড়ীর পাশ্ববর্র্তী বাদিনীদের বি, এ, কে ব্রিকস নামক একটি ইটভাটা আছে। বাদীনি ও স্বাক্ষীগণ বাড়ীতে ও ইট ভাটায় থাকাবস্থায় বিগত ইং ১৬/০৪/২০১৬ তারিখ ১নং আসামী তাহার সরকারী পাজোড়ো গাড়ীতে ও তাহার সঙ্গীয় ৬০/৬৫ টি মটর সাইকেল অনুমান ১৫০/২০০ জন লোক হাতে লোহার রড, দা, সাবল লাঠি বে আইনী আগ্নেয়াস্ত্র সহকারে বি, এন, পির সন্ত্রাসী পাইকগাছা থানার হাচিমপুর গ্রামের মৃতঃ হাবিবুর খানে পুত্র সন্ত্রাসী আজম খান গং এর পক্ষে ১নং আসামী ৫০ লক্ষ টাকা আর্থিক লাভবান হওয়ার চুক্তিতে বাদীনির স্বামীর ফুফাত ভাই ৬নং স্বাক্ষী রুহুল আমিন খানের বাদীনির ভাটার নিকটে অবস্থিত হাচিমপুর গ্রামস্থ মেসার্স এস, কে বিক্সস ‘‘জিগজাগ ইট ভাটায় বে আইনী জনতাবদ্ধে অনধিকার প্রবেশ করিয়া হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ করিয়া মারপিট করত সাধারণ ও গুরুতর জখম ষ্টাম্প ও সাদা কাগজে জোর পূর্বক স্বাক্ষর গ্রহণ সহ হুকুম দানের অপরাধ করায় ৬নং স্বাক্ষীর ম্যানেজার পাইকগাছা থানার মামলা নং ১৪ তাং ১৭/০৪/২০১৬ জি, আর ৮৫/২০১৬ মামলা করিয়াছেন উক্ত ইটভাটায় এজাহার ভূক্ত ঘটনা ঘটানো সহ তান্ডব চালাইবার সময় আসামীরা ঐ ভাটা মালিক ৬নং স্বাক্ষী রুহুল আমিনকে ইট ভাটায় না পাইয়া ১নং আসামীকে জানাইলে ১নং আসামীর হুকুম ও নির্দেশ দেয় যে, এখানে তাহার (রুহুল আমিনের) আত্মীয় স্বজন যেখানে যে আছে সব শায়েস্তা কর এবং রুহুল আমিনকে ধরে আন ১নং আসামীর হুকুম ও নির্দেশে ২-১৪ নং আসামীরা সহ অজ্ঞাত নামা আসামীরা বে আইনী জনতাবদ্ধে হাতে দা, লাঠি, শাবল, লোহার রড ইত্যাদি মারাত্মক অস্ত্র সস্ত্র সহকারে বাদিনী বাড়ীতে প্রবেশ করে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগাাজ করিয়া বলিতে থাকে রুহুল আমিন কোথায় বের করে দেয় ঐ সময আসামীরা লোহার রড ও লাঠি দিয়া বাদিনীর ঘরের দরজায় ও বিভিন্ন জায়গায় বাড়ী মারতে থাকে। ঐ ভাবে ত্রাস সৃষ্টি করায় বাড়ীর মহিলারা ও শিশুরা ভীত হইয়া ঘরে দরজা দেয়। বাদিনী আসামীদের বাঁধা দিলে ২-৬ নং আসামী বাদিনীকে এলোপাতাড়ী ভাবে মারপিট করিতে থাকে। ৭-১২নং আসামী লোহার রড ও হাতুড়ী দিয়া বাদিনী ঘরে দরজা জানালা ভাঙ্গিয়া বসত ঘরে প্রবেশ করিয়া খাটের তলা ও সমস্ত জায়গায় তন্ন তন্ন করিয়া ৬নং স্বাক্ষীকে খুজতে থাকে এবং ঘরের আসবাব পত্র টেলিভিশন, ফ্রিজ ও অন্যান্য মালামাল লোহার রড সাবল, ও বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে ভাংচুর করিয়া আনু ২,০০,০০০/-(দুই লক্ষ) টাকার ক্ষতি সাধন করে। ঐ সময় ঘরের মধ্যে ২নং স্বাক্ষী ভীত হইয়া কাপড় দিয়া নিজেকে পর্দার আড়ালে রাখায় ৮, ৯নং আসামী ২নং স্বাক্ষীকে ৬নং স্বাক্ষী রুহুল আমিন মনে করিয়া পর্দা সরাইয়া পরনের কাপড় চোপড় টানিয়া বিবস্ত্র করত শ্লীলতাহানী ঘটায়। উক্তরূপ ঘটনার সময় বাদিনীর স্বামী ১নং স্বাক্ষী ইটভাটা থেকে বাড়ীতে এসে ডাকচিৎকার দিয়া স্থানীয় লোকজনকে সাহার্য্যরে জন্য ডাকিতে থাকিলে ২-৩ নং আসামী বাদীনির স্বামী মইউদ্দিনকে গলায় গামছা পেচাইয়া দুইজনে দুই দিক থেকে টানিয়া শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার চেষ্টা করে ২-৩ নং আসামীকে বাদিনী ধাক্কা মারিয়া ফেলিয়া না দিলে বাদীনির স্বামী শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যাইত। ৪-৮ নং আসামী বাদীনির বসত ঘরের আলমারি ভাঙ্গিয়া পাঁচ লক্ষ ষাট হাজার টাকা বাহির করিয়া নেয়। উক্ত রূপ পরিস্থিতে বাদিনী কোন উপায়ন্ত না পাইয়া দৌড়াইতে দৌড়াইতে নিকটে আনুঃ ৫০ গজের মধ্যে থাকা ১নং আসামীর কাছে যাইয়া তাহার পায়ের উপর পড়িয়া বাদীনির পরিবারের লোকদের মারপিট, বাড়ীঘর ভাংচুর ও লটুপাট থেকে রক্ষার জন্য কান্না কাটি করিতে থাকিলে ১নং আসামী বাদিনীকে লাথি মারিয়া ফেলিয়া দিয়া বলেন রুহুল আমিন কোথায় তাকে বের করে না দেওয়া পর্যন্ত অপারেশন চলবে। আসামী ও অজ্ঞাত নামা আসামীরা বাদীনির বাড়ীতে আনুঃ ১১.৩০ টা থেকে ১২ টাকা পর্যন্ত ত্র্যাস সৃষ্টি করে আরজি উল্লেখিত ঘটনা ঘটাই ও তান্ডব চালায়। আসামীদের ভয়ে বাদিনী পুত্র বাদশাহর পুত্র কন্যা ফাতেমা খানম (৫), ফারদিন খান (৩) ভীত হইয়া অজ্ঞান হইয়া যায়। এক পর্যায়ে জ্বর আসে এবং তাহারা এখনও ঘুমের মধ্যে ভীত হইয়া কান্দিয়া উঠে তাৎক্ষনিক ভাবে বাদিনী ও ১নং স্বাক্ষী স্থানীয় ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন। স্থানীয় ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ও অজ্ঞাত নামা আসামীদের নাম ঠিকানা সংগ্রহ করিয়া থানায় এজাহার দাখিল করিলে থানা পুলিশ তদন্তের নামে কালক্ষেপন করতে থাকে এক পর্যায়ে মামলা গ্রহনে অস্বীকৃতি জানাইলে মামলা দায়ের কিছুটা বিলম্ব হইল।

একারণ প্রার্থনা হুজুর দয়া প্রকাশে অদ্য অত্র নালিশী মামলাটি আমলে গ্রহণ পূর্বক আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা ইস্যু করিবার প্রয়োজনীয় আদেশ দানে সদয় মর্জি হয়।

আরজ ইতি

মোছাঃ ফিরোজা বেগম (৪৭)

স্বামী-মোঃ মহিউদ্দিন খান

সাং-দেবদুয়ার

থানা-পাইকগাছা

জেলা-খুলনা।

তাং ২৭/০৪/২০১৬

এই মামলার আসামীরা হচ্ছেন : ১। শেখ মোঃ নুরুল হক(৬০) পিতা- মৃতঃ হাসিনাল শেখ সাং- পুরাইকাটি ২। তুহিন খান (৩০) পিতা-মৃতঃ কামাল খান ৩। জসিম খান (২৮) ৪। আরাফাত খান @ টুনু(২৩) উভয় পিতা-আসলাম খান ৫। মাসুদ খান (৩০) পিতা-মৃত মজিদ খান ৬। ফেরদৌস খান (৫৫) পিতা-মৃত হায়দার খান ৭। রবিউল খান (২৫)পিতা-হারুন খান ৮। কালাম বেহারা (৩০) পিতা-সবেদ বেহারা ৯। খলিফা গাজী (৩০) পিতা-আবে গাজী
সাং-হাচিমপুর ১০। টুকু গাজী (২৮) পিতা-সিদ্দিক গাজী সাং-শাহপাড়া ১১। মারুফ সানা (২৫) পিতা-ছানার সানা সাং-হাচিমপুর ১২। আছাদ সরদার (৫০) পিতা-মৃত মান্দার সরদার সাং-শাহপাড়া ১৩। আজিজ গাজী(৪১) পিতা-মান্দার গাজী সাং-গজালিয়া ১৪। আঃ রব গাজী (৩৫) পিতা-সাহাবুদ্দিন গাজী ও অজ্ঞাত নামা ৮/১০ জন যাদের বাদীনি দেখিলে চিনবেন নাম ঠিকানা জানেন না।

উল্লেখ,গত ১৬ এপ্রিল ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে সকালে সাংসদ নুরুল হকের নেতৃত্বে ও তার পুত্র মনিরুল বাহিনীর প্রায় ২৫০ জন ব্যক্তি ৫০/৬০ টি মোটর সাইকেলে করে বিরোধপূর্ন ভাটাটি দখল করেন বলে জানা গেছে।এ সময় তাদের হামলায় ভাটা ম্যানেজার জয়দেব মন্ডল, দুষ্টু, পরাগ সহ ৬ জন পার্শ্ববর্তী ইট ভাটা মালিক মহিউদ্দীন খানের বাড়ীতে আশ্রয় নিলে দুবৃর্ত্তরা হামলা চালিয়ে তাদেরকে বেধড়ক মারপিট করে এম,পির বাসায় ধরে এনে তাদের উপর অমানবিক নির্যাতন চালায়।বিষয়টি নিয়ে সারাদেশের বিভিন্ন মিডিয়াতে আলোচনার ঝড় উঠে।

পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত ও,সি আলমগীর তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।ঘটনায় আহত জয়দেব মন্ডল এম,পির পুত্র শেখ মনিরুল ইসলাম, আযম খান ও গদাইপুর ইউপি চেয়ারম্যান সহ ২২ জনের নাম উল্লেখ করে মোট দেড়শ জনের বিরুদ্ধে ১৭ এপ্রিল থানায় মামলা দায়ের করেন।পরবতর্তী তে এম, পি নুরুল হক তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, চাঁদাবাজীর মামলা দায়ের করার জন্য থানায় অবস্থান নিয়ে ব্যার্থ হলে তিনি ক্ষিপ্ত হন ভারপ্রাপ্ত ওসি আলমগীরের উপর।গত শনিবার খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ও উর্দ্ধতন নেতাদের চাপের মূখে বাধ্য হয়ে এ সম্মেলন স্থগিত করেছেন তিনি।