শুক্রবার  ২৮শে জুলাই, ২০১৭ ইং  |   শুক্রবার  ১৩ই শ্রাবণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

এইমাএ পাওয়া

থাইল্যান্ড বা কেরেলা নয়, ঝালকাঠির ভীমরুলীতেই ফ্লোটিং মার্কেট

সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৬

নৌকায় পেয়ারা,আমড়া ও সবজির বাজার

।।সুতীর্থ বড়াল/ঝালকাঠি প্রতিনিধি।।
নৌকাতেই হাট বাজার।শত শত বোঝাই নৌকায় পেয়ারা, আমড়া আর বিভিন্ন সবজির বাজার।কেনা বেচা নৌকাতেই। সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত কেনা হাট চলছে।

থ্যাইল্যান্ডের ফ্লোটিং মার্কেট কিংবা ক্যারালার ব্যাক ওয়াটার ট্রিপ নয় ঝালকাঠির পেয়ারা সহ সবজি কেনা বেচাকে কেন্দ্র করে দশ গ্রামে এখন জমে ওঠেছে ভাসমান বাজার।

প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার দর্শনার্থী আসছেন দলে দলে। কিন্তু পর্যটনের এত সম্ভাবনা থাকা সত্বেও এখানে গড়ে ওঠেনি পর্যটনদের জন্য কোন সুব্যবস্থা।

আর স্থানীয় প্রশাসন পর্যটনের ক্ষেত্রে এখানে কোন নীতিমালা তৈরি না করায় এখানকার প্রাকৃতিক নৈসর্গিক পরিবেশও হারাতে বসেছে।

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শেখ আবু বকর সিদ্দিক জানান, ঝালকাঠি সদর উপজেলার ২০টি গ্রামে ৫০০ হেক্টর জমিতে পেয়ারার চাষ হয়।শত বছর ধরে বংশানুক্রমেই এখানকার হাজার হাজার মানুষ কান্দি বা সজ্জন পদ্ধতিতে পেয়ারা চাষ করে আসছেন। বছরের প্রায় ১২ মাসই এ অঞ্চলে পানি দ্বার বেষ্টিত থাকে।

শ্রাবণ থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত এসব গ্রামগুলোতে ভাসমান হাটে পেয়ারা বেচাকেনা চলে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এসব ভাসমান হাট থেকে পেয়ারা কিনে নিয়ে যান।ভাসমান হাটিগুলোর মধ্যে ঝালকাঠি সদর উপজেলার কীর্তিপাশা ইউনিয়নের ভীমরুলী গ্রামের ভীমরুলী খালের ওপরের ভাসমান হাটটি সবচে বড়। পেয়ারা ছাড়াও বছরের বারমাস ভাসমান এ হাটে কেনা বেচা হয় স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত অন্যান্য কৃষি পণ্য। তবে পেয়ারাকে কেন্দ্র করে শ্রাবণ থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত ভাসমান বাজাটি জমে ওঠে।

ক্রেতা বিক্রেতা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন ৪/৫ হাজার পর্যটকের আসেন ভাসমান বাজারের দৃশ্য উপভোগে।

সারা বছর এখানে উৎপাদিত কৃষি পণ্য বাজারজাতে সুবিধার জন্য সরকারি ভাবে এখানে একটি কৃষি অবতরণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।

আর পর্যটনের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি জানান সরকার বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করা হচ্ছে।

এদিকে প্রাকৃতিক নৈসর্গিক পরিবেশ আকৃষ্ট করলেও পর্যটকদের জন্য কোন প্রকার সুযোগ-সুবিধা না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেন দূর-দূরান্ত থেকে আগত ভ্রমণ পিপাসুরা।

ঢাকার ভ্রমণ সংগঠন কান্ট্রি ট্যুরিজমের প্রতিষ্ঠাতা খায়রুল আলম ভুইয়ার সাথে দেখা হয় পেয়ার ভাসমান হাটে। তিনি বলেন, এত বছরেও এখানে তৈরি হয়নি পর্যটকের জন্য কোন বিশ্রারাগার। খাবারের জন্য নেই কোন ভাল হোটেল কিংবা রেস্তরা।তাই এখানে এসেই আবার ফিরে যাওয়ার জন্য তারাহুড়ো করে আয়োজন করতে হয়।

বরিশাল থেকে প্রথম বারের মত রাবেয়া পার্ভিন আসেন তার স্বামীর সাথে। তিনি বলেন, এখানে নারী পর্যটকদের একটু ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিশ্রাম বা পরিচ্ছন্ন হওয়ার জন্য এখানে কোন সুব্যবস্থা নেই। তাই গ্রামবাসীর ঘরে গিয়ে তাদের বিরক্ত করতে হয়।

এদিকে পর্যটনের ক্ষেত্রে কোন প্রকার নীতিমালা না থাকায় কিছুটা বিশৃংখলাও সৃষ্টি হচ্ছে বলে পেয়ারা চাষি ও স্থানীয় অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক ভবেন্দ্র নাথ হালদার জানান।

তিনি বলেন, কিছু তরণ প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা উচ্চ শব্দে মাইক বাঁজিয়ে ভাসমান হাটে নৌ-ভ্রমন করছেন। এতে করে অন্যান্য পর্যটকেরে পাশাপাশি প্রাকৃতিক ভারসম্য এমনকী বেঁচাকেনায় বিঘ্ন ঘটছে।অসুবিধা হচ্ছে পার্শবর্তী স্কুলের পাঠদানে।

পর্যটন সংগঠন বৃত্তর সংগঠক ডাক্তার মাজহারুল ইসলাম জিয়নের সাথে দেখা হয় ভাসমান হাটে। তিনিও এসেছেন ঢাকা থেকে।গত ৩/৪ বছর ধরে তিনি প্রতি বছর পেয়ার মৌসুমে এখানে নিয়মিত ভাবে আসছেন।

তিনি বলেন, ভাসমান এ হাটকে কেন্দ্র করে এখানে সরকারি উদ্যোগে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হলে সরকারের একটি বড় অংশের আয় হতে পারে।

প্রাকৃতিক সৌন্দের্যে থ্যাইল্যান্ডের ফ্লোটিং মার্কেট কিংবা ক্যারালার ব্যাক ওয়াটার ট্রিপের চেয়ে কোন অংশেই ঝালকাঠির ভীমরুলী গ্রামের ভাসমান এ পেয়ারার হাট কম নয়, বলেন তিনি।

এ ব্যপারে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. মিজানুল হক চৌধুরী ঝালকাঠি সময়কে বলেন, পর্যাটনের গুরুত্বে কথা বিবেচনা করে এখানে একটি ব্যাক ওয়াটার ট্যুরিজম স্পট তৈরি জন্য পর্যাটন বোর্ডের সাথে আলাপ-আলোচনা চলছে।

খাল-বিল আর নদী বেষ্টিত বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর এবং ঝালকাঠি জেলায় বাংলাদেশের একমাত্র ভাসমান হাট বসছে বারমাস।এরমধ্যে ঝালকাঠি সদর উপজেলার ভীমরুলী গ্রামের এ ভাসমান হাটটি পর্যাটনের শিল্পে সবচে বড় সম্ভাবনা।

ইতোমধ্যেই দেশের পর্যাটকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে ভীমরুলীর ভাসমান হাটটি। এখানে প্রতিদিন গড়ে তিনহাজার পর্যাটকের আনাগোনা এখন।
ই বাংলা পত্রিকা/শুক্রবার ২রা সেপ্টেম্বর,২০১৬ ইং