সোমবার  ২১শে আগস্ট, ২০১৭ ইং  |   সোমবার  ৬ই ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

এইমাএ পাওয়া

গোপালগঞ্জে সাসকো গ্রুপের গ্রীণ শিল্প পার্ক যে কোন মূল্যে বাস্তবায়ন চায় এলাকাবাসী

আগস্ট ৩০, ২০১৬

গ্রীণ শিল্প পার্ক

।। এম শিমুল খান / গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি ।। 

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের জলিরপাড়ে দক্ষিণ বাংলার সর্ববৃহত ব্যক্তি মালিকানাধীন শ্রমঘন শিল্প পার্ক সাসকো গ্রীন ইন্ডাষ্ট্রিয়াল পার্ক নির্মান প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এলাকার লক্ষ লক্ষ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির দ্বার উন্মোচিত হবে। কিন্তু একটি স্বার্থন্বেষী মহল এর প্রয়োজনীয়তা ও সুদূর প্রসারী অর্থনৈতিক সুফল বিবেচনায় না এনে এর বিরোধীতা করে শিল্প পার্কটি প্রতিষ্ঠায় অন্তরায় সৃষ্টি করছে। দেশের অন্যতম গার্মেন্টস শিল্পে খ্যাতি সম্পন্ন প্রতিষ্ঠান হলো সাসকো গ্রুপ। ব্যক্তি মালিকানাধীন সর্ববৃহত সবুজ শিল্প পার্ক সাসকো গ্রীন ইন্ডাষ্ট্রিয়াল পার্কে স্থাপনরত মুকসুদপুর এ্যাপারেলস লিঃ সম্পূর্ন পরিবেশ বান্ধব লীড প্লাটিনাম স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ি গড়ে তোলা হচ্ছে।

গোপালগঞ্জের পশ্চাদপদ এ অঞ্চলের গণমানুষের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন হিসেকে এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে গ্রীণ পার্কটি গড়ে তোলা হচ্ছে। এটি গড়ে উঠলে কমপক্ষে ৮ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।

এলাকার সাধারন মানুষের সাথে কথা বলে জানাগেছে, একটি মহল ঈর্ষান্বিত হয়ে যাতে এটি প্রতিষ্ঠিত না হতে পারে সেই লক্ষ্যে উদ্যোগী প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বধিকারী সাবেক বিজিএমই-র সাবেক পরিচালক ও আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিয়ার রহমান দীপুকে ভ’মি দস্যূতার অপবাদ দিয়ে এর কার্যক্রম বন্ধ করার ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে এলাকার মানুষকে উসকে দিয়ে ও কৃত্রিম সাম্প্রদায়িক বাতবরণ সৃষ্টির মাধ্যমে এ প্রতিষ্ঠানটির মালিক শেখ আতিয়ার রহমান দীপুর বিপক্ষে কুৎসা রটনাসহ নানান প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।

বানিয়ারচর এলাকার ড. জ্যাকব বৈদ্য ও সঞ্জিত বাকচী, জানান, মুকসুদপুরের জলিরপাড় একটি হিন্দু ও খ্রীষ্টান অধ্যুষিত এলাকা। এখানে এরাই সংখ্যাগরিষ্ট ও নির্মানরত প্রতিষ্ঠানের একমাত্র শ্রম বাজারের উৎস। সেখানে ভুমি জবরদখল ও তাদের সংখ্যালঘূ বিবেচনায় অত্যাাচার করা হচ্ছে -এমন কোন ঘটনা এলাকায় ঘটেনি। এলাকার জনগনের সিংহভাগই চায় শিল্প পার্কটির দ্রুত প্রতিষ্ঠা। ব্যক্তিগত স্বার্থে এলাকার একটি চিহ্নিত মহল কেবল বিরোধীতার জন্য এ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

বানিয়ারচরের হারু মোহন্ত বলেন, পিছিয়ে পড়া এ এলাকার মানুষের বেকারত্ব ও দারিদ্র দূর করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি এক ফসলী নীচু জমি ও অল্প বসতীপূর্ণ এলাকা নির্বাচন করে গড়ে তোলা হচ্ছে। একটি শুভ উদ্যোগকে বনচাল করার জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে। ফলে শিল্প পার্কটির নির্মানে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

এলাকার মানুষের সাথে কথা বলে জানাগেছে, পাশ্ববর্তী রাজৈর উপজেলার ঘোষালকান্দি এলাকা থেকে ১২ বছর আগে জড়িরপাড় এমবিআর ক্যানেলের পাড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সরকারি জায়গায় অবৈধভাবে বসতী স্থাপন করেন বজলু শেখ। পরে সে তার এলাকা থেকে নিজস্ব আত্মীয় স্বজন সহ ৬-৭টি পরিবারকে বানিয়ার চরে এনে বানিয়ারচর মধুমতি বিল রুট ক্যানেলের পাড়ে অবৈধভাবে ঘর বাড়ী তুলে দেন। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে নানান অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়েন বজলু শেখ। শিল্পপার্কটি প্রতিষ্ঠিত হলে তারা উচ্ছেদ হয়ে যেতে পারেন এ আশংকায় তারা শিল্প পার্ক নির্মানে অব্যাহতভাবে বিরোধীতা করে চলছেন।

বানিয়ারচর গ্রামের মাখন মন্ডল জানান, ঢাকায় অবস্থানরত ডলার ব্যবসায়ি বানিয়ারচর গ্রামের রুহিদাস হালদার নামের এক ব্যবসায়ি এলাকায় তার কতৃত্ব খর্ব হতে পারে এ আশংকায় প্রথম থেকেই এ প্রতিষ্ঠানের বিপক্ষে অবস্থান নেয়। তিনি একজন ভ’মি দস্যু প্রকুতির লোক। বানিয়ারচর গ্রামের বোচা রাম রায়ের পুত্র পুলিন রায়ের কলিগ্রাম মৌজার এক একর জমি জোর করে দখল করে খাচ্ছেন তিনি। এছাড়া একই মৌজায় জলিরপাড় হাই স্কুলের প্রথম প্রধান শিক্ষক জগদীশ চন্দ্র মৃধার ছেলে জগবন্ধু মৃধা ও প্রিয়লাল মৃধার ৯ একর জমি জবরদখল করে খাাচ্ছেন। এ কষ্টে ওই প্রধানশিক্ষক ভারতে চলে যান। এছাড়া, ওই গ্রামের ভাষারাম ও ভবানী মন্ডলীর দুই একর জমিও তিনিজোর করে ভোগ দখল করছেন। তাদের এখন অসহায় হয়ে পড়েছেন। রুহিদাস হালদার বানিয়ার সেভেন ডেস এ্যাডভেন্টেস মিশনের এক একর জমি জবর দখল করে খেতেন। চাপের মূখে সম্প্রতি তিনি তা মিশনকে ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন।

ওই গ্রামের আনন্দ মল্লিক জানান, জলিরপাড় ইউনিয়নের সাবেকচেয়ারম্যান দীপক বাড়ৈ স্সকো গ্রুপের কাছে ৮৬ শতাংশ জমি দু’টি দলিলের মাধ্যমে বিক্রয় করেন। জমিটি রেজিষ্ট্রি করার সময় দেখা যায় এরমধ্যে একটি জমির কাগজপত্র ভুয়া। ওই ওই লাকার কপিল হীরা গং ওই জমির মালিকানা দাবী করেন। ফলে দীপক বাড়ৈইকে পুরো টাকা দেয়নি সাসকো গ্রুপ। তার নামের ৪৩ শতাংশ জমির টাকা দেওযা হয়। কিন্তু দীপক বাড়ৈ পূর্ন টাকা দাবী করেন। কিন্তু সাসকো গ্রুপ মালিকানার সত্ত্ব মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত তাকে টাকা দিতে আস্বীকৃতি জানায়। ফলে দীপক বাড়ৈ ক্ষুদ্ধ হয়ে তারলোকজন নিযে এ শিল্প প্রষ্ঠিানের বিরোধীতা করতে থাকেন।

শিল্প প্রষ্ঠানে প্রথম জমি দাতা গোবিন্দ মন্ডল বলেন, আমি ৫৮ শতাংশ জমি সাসকো গ্রুপের কাছে বিক্রি করেছি। ন্যায্য মূল্য পেয়েই আমি জমি বিক্রি করি। আমিই প্রথম জমি দাতা। আমি চাই এখানে শিল্পটি প্রতিষ্ঠিত হোক এবং বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হোক।

জলিরপাড় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক অধীর সাহা বলেন, আমি সাসকো গ্রুপের কাছে ২৮ শতাংশ জমি বিক্রি করি। শিল্প প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমি এ জমি বিক্রি করি। প্রয়োজন হলে আমি আরো জমি বিনামূল্যে দান করব। এ প্রতিষ্ঠানে আমার জানামতে যে ৩৪ জন জমির মালিক জমি দিয়েছেন তারা ন্যায্যমূল্যে াপেয়েই জমি হস্তন্তর করেছেন। কারো কাছ থেকে জোর করে কোন জমি নেওয়া হয়নি। যারা শিল্পায়নের বিরোধীতা করছেন তারা নিছক ব্যক্তিগত স্বার্থেই করছেন। এ সব আমরা মানবো না। অনুন্নত এ এলাকায় শিল্প গড়ে তোলার স্বার্থে আমরা আন্দোলন করব। প্রয়োজন হলে রক্ত দেব তারপরও পার্কের বাস্তবায়ন চাই। কোন ষড়যন্ত্রের কাছে আমরা মাথা নত করব না।

বিভিন্ন গণ মাধ্যমে সাসকো গ্রুপের বিরুদ্ধে বক্তব্য দানকারি ননী বালা জানান, প্রকল্প এলাকার মধ্যে আমার নিজের কোন জমি নেই। মিডিয়ার লোকজন আমাকে বলতে বলেছে-আমি তাই বলেছি। এছাড়া আমি আর কি করব?

সাসকো গ্রুপের ডিএমডি আকিব রহমান অভিযোগ করে বলেন, ৩৪ জন মালিকের কাছ থেকে সাসকো গ্রুপ ৩৫ একর জমি টাকা দিয়ে কিনে রেজিষ্ট্রিমূলে ওই জায়গার মালিকানা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে । কিন্তু মৌজার মধ্যে কোন জমি নাই ওই এলাকার সুমন মন্ডল নামের এক ব্যাক্তি তার এক আত্মীয়ের জন্য প্রতি একর জমিতে ১০ লাখ টাকা করে বেশী দিতে হবে বলে দাবী করেন। জলিরপাড় এলাকার রকিম বৈরাগী, দীপক বাড়ৈ , রঞ্জন মাস্টারসহ আরো কিছু লোক প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে আরো বড় অংকের টাকা চায়। কিন্তু এ টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তারা বিদ্রোহ শুরু করেন এবং সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টিসহ নানান অসিলায় পার্কটি নির্মানে প্রকাশ্যে বিরোধীতা করতে থাকে।

শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিরোধীতাকারি জলিরপাড় ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান দীপক বাড়ৈ বলেন, সাসকো গ্রুপ শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ার জন্য আসেনি। জমি গ্রাস করতে এসেছে। কৃষি জমিতে শিল্প প্রতিষ্ঠান না করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ রয়েছে। সাসকো গ্রুপের এমডি -তা মানছেন না। তাহলে আপনি কেন জমি বিক্রয় করলেন এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি নির্বাচন করে অনেক দেনা হয়ে পড়ি। তাই দেনা শোধ করার জন্য জমি বিক্রি করেছি। জমির মূল্য পেয়েছেন কিনা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি ৪৩ শতাঙশ জমির মূল্য পেয়েছি । বাকী ৪৩ শতাংশের টাকা পাইনি। ওই ৪৩ শতাংশ জমিতে মালিকানা সত্ত্ব নিয়ে সমস্যা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনিতো জেনে শুনে করেছেন। তাহলে ।আমি টাকা পাবোনা কেন ? তিনি বলেন জমিতে বালু ভরাট করা হচ্ছে -ওইসব বালু অন্যের জমিতে ঢুকে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

সাসকো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ আতিয়ার রহমান দীপু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত ১০০টি অর্থনৈতিক জোনের মধ্যে সাসকো গ্রীন ইন্ডাষ্ট্রিয়াল একটি। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নে আমি এ খাতে বিনিয়োগ করেছি। আমি চাই দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার গোপালগঞ্জে শিল্প কলকারখানা গড়ে উঠুক। তাতে এ অঞ্চলের মানুষ আর বেকার থাকবে না। এছাড়া আমি কারো জমিতে কোন বালু পড়লেও তাদের ক্ষতিপূরন দিয়েছি। কিন্তু একেবারে ব্যক্তিগত কারনে কতিপয় ব্যক্তি ইস্যু তৈরী করছেন। তিনি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মঙ্গলবার/৩০শে আগস্ট-২০১৬ ইং/১৫ই ভাদ্র-১৪২৩ বঙ্গাব্দ