সোমবার  ২৩শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং  |   সোমবার  ৮ই কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

এইমাএ পাওয়া

ও’টু স্ট্রিট ড্যান্স ক্রু – ‘চট্টগ্রামের হিপহপ’

আগস্ট ১৮, ২০১৬

হিপহপ

সাফাত জামিল শুভ/চবি প্রতিনিধি/
বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি পশ্চিমা বিশ্বজুরে প্রায় হঠাৎ করেই শুরু হয় হিপহপ সংস্কৃতির জোয়ার। পর্যায়ক্রমে সেই জোয়ার পশ্চিম থেকে পূর্ব পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে যায়। এশিয়ার মধ্যে এই পশ্চিমা সংস্কৃতির বিকাশে এগিয়ে আছে চীন ও থাইল্যান্ড। আর আফ্রিকার মধ্যে এগিয়ে আছে কেনিয়াসহ বেশ কয়েকটি রাষ্ট্র। আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে কেনিয়া হিপহপ সংস্কৃতির চর্চায় এগিয়ে এবং তাদের রয়েছে নিজস্ব হিপহপ গোষ্ঠি।

যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সংগীত ও নৃত্যধারা ‘হিপহপ’ এখন জনপ্রিয় বিশ্বজুড়ে। আফ্রিকান-আমেরিকানদের সাংস্কৃতি ঐতিহ্যের অংশ হিপহপ। সামাজিক অবজ্ঞা ও অসঙ্গতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে ওঠায় আর অহরহ স্ল্যাং অর্থাৎ গালিগালাজ ব্যবহার করায় ভদ্রসমাজে অনেকটা অচ্ছ্যুৎই মনে করা হতো সঙ্গীতের এ ধারাকে। হিপহপ গানের মতোই নাচের ব্যাপারেও পশ্চিমা নৃত্য চর্চাকারীরা নাক সিঁটকাতেন।কিন্তু ধীরে ধীরে তরুণদের বিনোদন ও অভিব্যাক্তি প্রকাশের এক নতুন মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে হিপহপ। বাংলা ভাষায় হিপহপ গানের চর্চাটা এক দশকের কিছু বেশি সময়ের পুরনো। তবে হিপহপ নাচের চর্চাটা বেশ নতুনই বটে।

যানজটে ভরা রাজপথে হঠাৎ করে এক ছেলে মাথার উপর ভর দিয়ে দুই পা শূন্যে তুলে মাথার উপর ঘুরতে থাকে। এটা হল বি-বয়িং, হিপহপের একটা ধরণ। বছর কয়েক আগে রাজধানী ঢাকায় নতুন এই সংস্কৃতির প্রচলন হলেও, বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে এ ধারার প্রচলন করেছে ও’টু স্ট্রিট ড্যান্স ক্র নামে তরুণদের গড়া সংগঠন।

ও’টু যার মানে অক্সিজেন, মানুষ যেমন অক্সিজেন ছাড়া বাঁচে না তারা ড্যান্স ছাড়া বাঁচে না। ড্যান্সই তাদের অক্সিজেন। আর এরাই হল- “ও’টু স্ট্রিট ড্যান্স ক্রু”। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গ্রুপটা হওয়ার পেছনে ঢাকার “ব্লু পপারস” ড্যান্স গ্রুপের প্রেরণায় ইফতি, হাসিব, ইমন এবং ফারিয়ার মাধ্যমে চট্টগ্রামে প্রথম ‘হিপহপ ড্যান্স’ গ্রুপ- “ও’টু স্ট্রিট ড্যান্স ক্রু” গঠিত হয়।

টিভিতে মাইকেল জ্যাকসন আর হৃতিককে দেখেই হিপহপ শুরু ইফতি’র । বৈদ্যুতিক শক্ খেলে একটি মানুষের শরীর যেভাবে কাঁপে সে শক্ ছাড়াই অবিরাম কাঁপাতে পারে। যাকে বলে ইলেকট্রোপপিং।’হাসিব’ যাকে এক প্রকারের ‘মানব রোবট’ বলা যায়। তাকে দেখলে মনে হবে যেন রিমোটের মাধ্যমে তাকে চালানো হচ্ছে। ড্যান্স পাগল ছেলে টা নিজের বেডরুমকেই প্র্যাকটিস রুম বানিয়েছে। টিভির একটি শো থেকে নাচ অনুকরণ করে নিজে করার চেষ্টা থেকেই ‘হিপহপ’ এর প্রতি ভালোবাসা জন্মে ইমনের।সে হিপহপের প্রায় সব ধরনে পারদর্শী। অন্যদিকে ছোট বেলা বি-বয় হওয়ার স্বপ্ন বয়সে একেবারেই তরুণ নাসিফ আর নাজমুলও মেধা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ও’টু স্ট্রিট ড্যান্স ক্রু’র সাথে।

চলার পথে অনেক বাধা বিপত্তির সম্মূখীন হয়েছে এই গ্রুপ। তাদের প্রধান সমস্যা নিজস্ব কোন প্র্যাকটিস রুম নেই। তাদের প্র্যাকটিস চলে সি.আর.বি’র পাথরের উপর, ঘাস-বালির উপর। শুরু থেকেই নানা বাধা-বিপত্তি ডিঙিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তারা।

“হিপহপ” যে একটি ড্যান্সের ধরণ তা চট্টগ্রামের মানুষের কাছে এখনো অজানা। তারা চায় এই সংস্কৃতিকে সবাই জানুক। এটিই চট্টগ্রামের একমাত্র ‘হিপহপ’ এবং স্ট্রিট ড্যান্স গ্রুপ যারা হিপহপ সংস্কৃতি দিয়ে দেশ বিদেশে চট্টগ্রামকে প্রতিনিধিত্ব করছে। আর এই সংস্কৃতিকে সবার মাঝে বিলিয়ে দিতে চায় তারা।
বৃহস্পতিবার ১৮ই আগস্ট, ২০১৬ ইং